কোরবানির নিয়ম অভিধান:
সামনে আসছে মহান পবিত্র ঈদুল আযহা।কোরবানি কি, পশুর জবায়ের মাধ্যমে মুমিনগণ তা
পালন করে থাকেন। এই ব্লগ পোস্টে কোরবানি কি, কাদের উপর কোরবানি ফরজ, কোরবানির
সঠিক নিয়ম, দোয়া, পশু নির্বাচন, মাংস বন্টন ও গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা সম্পর্কে
কোরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানুন।
পেজ সূচিপত্র; আমরা নিম্নের ব্লক পোষ্ট থেকে যা জানতে পারবো-
কুরবানি কি এবং গুরুত্ব; কুরবানীর শব্দের অর্থ হল” ত্যাগ” উৎসর্গ বা আল্লাহর
সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভের জন্য কিছু উৎসর্গ করা। ইসলামিক শরীয়তে জিলহজ মাসের
১০,-১১ ও ১২ তারিখে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট পশুর জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। এটি
মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ঈদুল আযহা প্রধান আমল।
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের
মানসিকতা গড়ে তোলা। মহান আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য আমাদের মুসলিম জাতির পিতা
হযরত ইব্রাহিম আঃ তার সব চেয়ে প্রিয় বস্তু অর্থাৎ হযরত ইসমাইল আঃ কে
কুরবানী করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের এই অসীম ত্যাগ ও অনুগত্য
কবুল করেন এবং হযরত ইসমাইল আঃ এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন।
সেই স্মরণীয় ঘটনা অনুসরণ এই মুসলমানদের জন্য কোরবানির বিধান চালু করা হয়েছে।
তাই কুরবানীর জবাই নয় বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ
করার স্মৃতিকে ধরে রাখতেই মুসলমানদের জন্য কোরবানির বিধান চালু হয়েছে।
কেন কোরবানি করা হয়: কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন
তাকওয়া বৃদ্ধি এবং তার সাথে মহান রবের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা। কোরবানি
মানুষের অন্তরে ধৈর্য্ এবং আল্লাহর ভীতি জাগ্রত করে। এটি শুধুমাত্র
নাম নয়; বরং নিজের কামনা-বাসনা ও আকাঙ্ক্ষা প্রিয় বস্তু আল্লাহর আদেশের কাছে ত্যাগ করার
এক মহান দৃষ্টান্তG
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
” তোমার রবের কাছে কোরবানি পশুর পশুর রক্ত মাংস কোন কিছু পৌঁছায় না সেখানে
পৌঁছায় শুধু তোমাদের থাকবা এবং আল্লাহ ভীতি"
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তরে ঈমান,
তাকওয়া ও আত্মসমর্পণ এর পরীক্ষা। কোরবানি মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা
এবং গরীব-দুঃখীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মানসিকতা তৈরি করে।
কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য: কুরবানী ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত
এবং আল্লাহর প্রতি আত্মত্যাগের প্রতীক। কোরবানির মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ
সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য জবাই করে থাকে। অর্থাৎ কুরবানীর সব থেকে বড় শিক্ষা হল
তাওহীদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলা এটাই তার
প্রমান। আল্লাহ বলেন-
” নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু-সব কিছুই
বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত"
কোরবানি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সৃষ্টি করে।
বিশ্বভ্রাতৃত্বের দ্বারকে খুলে দেয়। কুরবানীর মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও
গরিব--দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করার মাধ্যমে সমাজের ভালোবাসা ও সাম্যবোধ প্রতিষ্ঠিত
হয়। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে যায় এবং সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার
সুযোগ পায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কুরবানির গুরুত্ব বুঝাতে বলেছেন-
” কোরবানি ঈদের দিন সব-চেয়ে প্রিয়ও শ্রেষ্ঠ আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য
পশু কোরবানি করা"
কোরবানি মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় এটি তাকওয়া ত্যাগ ও
আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায় যা অন্য
কোন ধর্মে নেই।
কার ওপর কোরবানী ফরজ; মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র দিন হচ্ছে কোরবানির ঈদ। যা
আমাদের ত্যাগ, ধৈর্য এবং সংকল্প শেখায়। ইসলামে কোরবানি একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য প্রত্যেক মুমিনবান্দা তা
পালন করার চেষ্টা করে। তবে এটি ফরজ ইবাদত নয়, তাছাড়া কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট
কিছু শর্ত আছে। তাই বলা যায় কোরবানি করা ফরজ নয় বরং তা ওয়াজিব। তাই প্রত্যেক
মুমিনের উপর এটা সাধারনত অপরিহার্য নায,বরং যার সামর্থ্য আছে তাদের জন্য এটি
প্রযোজ্য।
অনেকেই কোরবানির বিধান নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন-, কার উপর কোরবানির কত
সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হবে বা কারা এই বিধান দেখে মুক্ত-এসব বিষয়ে সঠিক এবং
স্পষ্টভাবে না জানার কারণে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারণা তৈরি হযয়ে যায়। তাই
ইসলামী শরীয়তের মাধ্যমে, কোরবানি মূলত এমন মুসলমানের ওপরে ওয়াজিব করা হয়েছে
যিনি বা যারা নির্দিষ্ট আর্থিক সামর্থ্য এবং শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হবেন।
যে ব্যক্তি ঈদুল আযহার দিনগুলোতে নিসাবের পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে থাকেন তাহলে,
অর্থাৎ যাকাতের সমান পরিমাণ অতিরিক্ত সম্পদ সেই সম্পদ, টাকা, ব্যবসায়িক মালামাল
বা অন্যান্য কিছু হতে পারে তবে তা হালাল হতে হবে। তাই বলা যায় যে তার ওপরে
কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই সম্পদ আর
মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে।
তাছাড়া কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য আরো কিছু শর্ত রয়েছে যেমন-ব্যক্তিটিকে
মুসলিম হতে হবে, প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, বিবেকবান সম্পন্ন হতে হবে এবং ঈদের দিন
সে যেন মুসাফির অবস্থায় না থাকে। অর্থাৎ এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কোরবানি আদায়
করা তার ওপর বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।
তাই আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি কোরবানির অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে যা নিয়ে আমরা
পরিষ্কার ধারণা দিতে পারব।
*কোরবানির নিসাব কত হওয়া দরকার: কোরবানির নিসাব যাকাতের
নিসাবের সমান হতে হবে। অর্থাৎ, যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়, তদরূপ সেই
পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ও ওয়াজিব হয়ে যায়। নিচে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে
বোঝানোর চেষ্টা করছে-
✅ যাকাতের নিসাব অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ
52.5 ভরি রুপার সমান সম্পদ অথবা সমপরিমাণ টাকা তবে কোন সম্পদ ধার করে না হয়।
১.কোন কোন ক্ষেত্রে সম্পদ ধরা হবে-
* নগদ টাকা
* স্বর্ণ ও রুপা অথবা ব্যবসায়িক মালামাল
* অতিরিক্ত জমা সম্পদ অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত।
২.কোরবানি যখন ওয়াজিব হয়: যদি ঈদুল আযহার দিনগুলোতে আপনার কাছে নিসাব পরিমাণ
সম্পদ থাকে, তাহলে কোরবানি ওয়াজিব হবে এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়, শুধু
কোরবানির সময় সম্পদ থাকলেই যথেষ্ট।
কুরবানির করার সঠিক সময়; কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় ইসলামী শরীয়তের একটি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কোরবানি নির্দিষ্ট দিন ও সময়ের মধ্যে আদায়
করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কোরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হয়
না।,ইসলামী ফিকাহ অনুযায়ী কোরবানির সময় নির্ধারিত হয়েছে জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট
কয়েকটি দিন।
কোরবানি করা সঠিক নিয়ম; কোরবানি করার সময় মূলত শরীয়তের নির্ধারিত কয়েকটি
দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই দিনগুলোর বাইরে কোরবানি করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী কুরবানী করার সময় সাধারণত তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রাখা
হয়েছে যা জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে যুক্ত হয়ে থাকে।
১. ঈদের দিন(১০ জিলহজ): কোরবানি করার জন্য ঈদের দিনকে সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনায় আনা হয় যা ১০ই জিলহজ্জ এর হয়ে থাকে। এদিন
থেকেই মূলত কোরবানির কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রথম সুযোগ পাওয়া যায় ঈদুল আযহার
নামাজ এবং খুতবা শেষ করে আসার পরপরই। সে সময় থেকে কুরবানী করা বৈধ এবং
গ্রহণযোগ্য হয় বলে ধরা হয়। তবে নামাজের আগে কোরবানি করলে তা শরীয়তের চোখে
গ্রহণযোগ্য বলে ধরা না । আলেমদের মতে প্রথম দিনে কুরবানী করা উত্তম বেশি
সোয়াব হাসিল করা যায় । এই দিনটি মুসলমানদের কাছ সংকল্প তার সাথে, আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং ইবাদতের এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই প্রত্যেক
সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য ঈদের দিনে কোরবানি উত্তম বলে ধরা হয়।
২. কোন সময় কোরবানি করা উত্তম: ঈদুল আযহার দিনকে কোরবানির জন্য উত্তম বলে
বিবেচনা করা হয়।
* অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে ১০ই জিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের দিন
* এরপরসময় যদি ধরেন তাহলে ১১ই জিলহাজ
* এরপরে সময় হচ্ছে ১২ ও ১৩ জিলহজ্ব
৩. রাতে কোরবানির বিধান: কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা
নির্দিষ্ট সময়ের সকলকে আদায় করতে বলা হয়েছে অর্থাৎ যারা সামর্থ্যবান। ইসলামের
শরীয়ত অনুযায়ী, রাতে কোরবানি করা জায়েজ। তবে যেহেতু আমাদের দেশের অধিকাংশ
মানুষ দিনের বেলাতে কোরবানি করে থাকেন তাই এটাই সঠিক। তবে অনেক সময় ব্যস্ততা,
পরিবেশগত সমস্যা বা অন্যান্য কোন বিশেষ কারণের জন্য রাতে কোরবানি করা
প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। আসুন আমরা রাতে কোরবানির বিধান নিয়ে কিছুটা জানি-
* রাতে কোরবানি করা ইসলামী শরীয়তে জায়েজ
* দিনের তুলনায় তাদের জবাই করা কিছুটা অনুত্তম বলে অনেকে মনে করেন
* রাতের আলো কম থাকার কারণে ভুল হতে পারে
* পশু সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও শরীয়ত অনুযায়ী জবাই করতে পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন
হয়
* আলেমদের মধ্যে রাতের তুলনায় দিনেই জবাই করা বেশি সঠিক হয়
* কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সতর্কতা থাকা প্রয়োজন
* জরুরি প্রয়োজনে বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে রাতেও কোরবানি করা সম্পন্ন বৈধ ও
গ্রহণযোগ্য।
৪.ভিন্ন স্থানে কোরবানির বিধান: ভিন্ন স্থানে কোরবানির বিধান সম্পর্কে
কিছুটা বিষয় আমাদের জানতে হবে-
* কোরবানি দাতা এক জায়গায় এবং কোরবানির অন্য জায়গায় থাকলে কোরবানি করা জায়েজ
* বর্তমান অনেকেই শহরে বা বিদেশে অবস্থান করার কারণে গ্রামে বা অন্য এলাকায়
কোরবানি দিয়ে থাকেন যা শরীয়ত সম্মত
* কিংবা এমন এলাকা যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না তাহলে ঈদের নামাজ এর সময়
পার হওয়ার পরে কোরবানি করা
* বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিও নিজের দেশে আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে কোরবানি দিতে
পারবেন
* বর্তমান সময়ে অনলাইন বা বিভিন্ন কোরবানি সেবার মাধ্যমে অন্য স্থানে থেকে
কোরবানি করানো যাচ্ছে।
তাই বলা চলে যে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এবং সঠিক বিধান অনুযায়ী কোরবানি করলে তা
গ্রহণযোগ্য হবে ইনশাল্লাহ।
৫. শরিক কোরবানির নিয়ম: এক্ষেত্রে কোরবানি করা যাবে এমন পশু নির্বাচন
করতে হয়। যেমন-তা উট, গরু, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি হতে পারে।
* অংশগ্রহণ করবে গরু ওট সর্বোচ্চ সাত জন
* সাত জনের বেশি হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
হাদিস: সহীহ মুসলিম:১৩১৮
কুরবানির দোয়া ও নিয়ত;কোরবানির পশু জবাই করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও
সুন্নতি আমল রয়েছে যা পালন করা উত্তম। ইসলামী কোরবানি পশু জবাই করা নয় বরং এটি
আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোরবানির সময় দোয়া পড়া
পশুকে কেবলামুখী করা এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা সুন্নত হিসেবে ধরা হয়।
নিচে কোরবানি পশু জবাইয়ের আগে, জবের সময়, এবং জবাইয়ের পরবর্তী দোয়া সম্পর্কে
দেওয়া হল-
পশু কেবলার দিকে ফিরিয়ে যে দোয়া পড়বেন-
*কোরবানির পোশাকে কেবলামুখী করে নিচের দোয়া পড়া উত্তম-
এই দোয়া পড়বেন-ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযি ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানি ফান ওয়ামা আন মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ-ইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহিল রব্বিল আলামিন। লা- শারিকালাহ লাহু ওয়া বিধালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।
বাংলা অর্থ: ”আমি একাগ্রতার সাথে আমার মুখমণ্ডল সেই আল্লাহর দিকে ফিরালাম যিনি
গগনমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত না। নিশ্চয়ই
আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু-সবই আল্লাহর জন্য, যিনি
বিশ্ব জগতের সৃষ্টিকর্তা। তার কোন অংশীদারিত্ব নেই। আমাকে এভাবে আদেশ করা
হয়েছে এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নামে এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”
*পশু জবাই করার সময় পড়বেন-
’’বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।”
বাংলায় অনুবাদ: আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
*কোরবানির পশু জবাইয়ের পর যে দোয়া পড়বেন-
” আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন কামা তাকাব্বালতা মিন হাবিবি কা মোহাম্মদ ইন ওয়া
ওয়া খলিলিকা ইব্রাহীমা আল্লাহ-ইহমাস সালাম।”
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের পক্ষ থেকে এ কোরবানি কবুল করুন, যেভাবে আপনি
আপনার প্রিয় বান্দা মোঃ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খলিল ইব্রাহিম আলাই
সালাম এর পক্ষ থেকে কবুল করেছিলেন।(মেশকাত শরীফ-১/১২৮)
কুরবানীর পশু নির্বাচন করবেন যেভাবে; ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী কোরবানির পশু নির্দিষ্ট শ্রেণি ও নির্ধারিত
বয়সের হতে হবে। কোরবানির জন্য পশু নির্বাচন করার সময় পশুর স্বাস্থ্য, বয়স
এবং ত্রুটিমুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। কোরবানির পশু
অবশ্যই সুস্থ, হৃষ্টপুষ্ট ও দৃষ্টিনন্দন হওয়া উচিত। অসুস্থ, দুর্বল বা বড়
ধরনের ত্রুটি যুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি সঠিক হয় না।
ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক ৬ শ্রেণীর প্রাণীকে কোরবানির জন্য নির্বাচন করা হয়ে
থাকে-
* উট
* ছাগল
* ভেড়া
* দুম্বা
* গরু
* মহিষ
কোরবানি পশুর সঠিক বয়স: কোরবানি সহিহ হওয়ার জন্য পশুর জন্য নির্ধারিত বয়স
পূর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরী। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী প্রত্যেক পশুর জন্য আলাদা
আলাদা বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বয়সের কম বয়সী পশু দিয়ে কুরবানী
করলে তা সহিহ হবে না। তাই পশু কেনার আগে বয়স যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। নিজে
কোরবানি পশুর বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।-
১. উট কোরবানির বয়স: আরব দেশের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোরবানির পশু
হিসেবে উটকে জবাই করা হয়ে থাকে। কোরবানির জন্য উট বা উষ্ট্রীর বয়স কমপক্ষে
পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী ঊট দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না।
তাই আমাদের মনে রাখা উচিত সাধারণত বড় আকৃতির পশু হওয়ার এই বয়স নির্ধারণ করা
হয়েছে এবং এক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।
২. গরু ও মহিষের বয়স: বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম
রাষ্ট্রগুলোতে কোরবানির পশু হিসেবে মুসলমানগন জবাই করে থাকেন। তবে পশু কোরবানির
ক্ষেত্রে গরু বা মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি। কারণ দুই
বছরের কম বয়সে গরু বা মহিষ কুরবানীর গ্রহণযোগ্য হয় না। বর্তমানে অনেক
গরুকে দেখতে বড় মনে হলো প্রকৃত বয়স কম হতে পারে। তাই শুধু আকার দেখে নয়, বরং
যাতে করে পশু নির্বাচন করা উচিত।
৩. ছাগল ভেড়া ও দুম্বা কোরবানির বয়স: ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা যদি
কোরবানি করার জন্য করে রাখা হয় তাহলে তাদের কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে। এক
বছরের কম বয়সী ছাগল বা দুম্বা সাধারণত কোরবানির জন্য সহিহ হয় না। তবে কিছু
ক্ষেত্রে ভেড়া বা দুম্বা যদি দেখতে পূর্ণবয়স্ক হৃষ্ট-পুষ্ট হয়, তাহলে
আলেমদের মত অনুযায়ী তা কোরবানি করা জায়েজ হতে পারে। তবুও নির্ধারিত বয়স
পূর্ণ হওয়া পশু কোরবানি করাই উত্তম এবং নিরাপদ।
কোরবানির মাংস বন্টনের নিয়ম; পশু কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত,
যার মাধ্যমে আল্লাহতালা সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজে সহমর্মিতা,
ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিকতা ছড়িয়ে পড়ে। কোরবানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
সঠিকভাবে মাংস বন্টন করা। ইসলাম মানুষকে দেয়নি, বরং সেই মাংস কিভাবে পরিবার,
আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে সেই সম্পর্কেও সুন্দর
দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সাধারণভাবে কোরবানির মাংস তিন ভাগে বন্টন করা উত্তম হিসেবে
বিবেচনা করা হয়।
প্রথমভাগ: নিজের ও পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের জন্য রাখা হয়। কোরবানি মাংসে
এক-তৃতীয়াংশ নিজের পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও পরিষদের খাওয়ার জন্য রেখে দিতে বলা
হয়েছে। কুরবানী শুধুমাত্র দান করার জন্য নয়, বরং নিজের পরিবারের আনন্দের শামিল
করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোরবানের গোশত খাওয়া
এদের আনন্দ এবং পারিবারিক বন্ধন কে মজবুত করে।
তাছাড়া পরিবারের নিকট আত্মীয় যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও সম্পর্ক রক্ষার
উদ্দেশ্যে তাদেরকে মাংস উপহার দেওয়া যেতে পারে। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায়
রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে মনে করা হয়। তাই কুরবানীর মাংস এর
মাধ্যমে আত্মীয়দের খোঁজখবর নেওয়া ও সম্পর্ক মজবুত করা উত্তম কাজ।
দ্বিতীয় ভাগ: কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য রাখা
হয়। কোরবানির আরেক অংশ এটি বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণ করা উত্তম।
প্রতিবেশী ধনী হোক বা গরিব-সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের
সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনেক সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয় যোগাযোগ কমিয়ে দিতে
পারে। কোরবানির মাংস হাদিয়া হিসেবে দেওয়া সে সম্পর্কে আরো আন্তরিকভাবে মজবুত
করতে সাহায্য করে। যারা কোরবানি করতে পারেনি, তাদের জন্য এটি আনন্দের একটি বড়
উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাড়ির
আশেপাশের প্রায় 40 ঘরকে প্রতিবেশী হিসেবে মনে করা হয় তাই কোরবানির মাংস বিতরণের
মাধ্যমে সামাজিক সৌহার্দ্য, ভাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার মাধুর্য বৃদ্ধি
পায়।
তৃতীয় ভাগ: গরিব, অসহায় ও অভাবগ্রস্থদের জন্য বিতরণ করা হয়ে থাকে। এটা
সাদকা হিসেবে বিতরণ করা হয়। কারণ কোরবানির মূল উদ্দেশ্য ত্যাগ এবং মানবসেবা।
সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সারা বছর ভালো খবর পেতে পারেন না। ঈদুল আযহার
সময় কোরবানির মাংস তাদের জন্য আনন্দ ও সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোরবানির
প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রকাশ পায় যখন সমাজের অসহায় নিতে পারে।
গরিব মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন এবং সমাজের সাম্য এবং
সহমর্মিত পরিবেশ তৈরি হয় যা বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনকে জয় করে। বিশেষ করে
এতিম, বিধবা, অসুস্থ ও কর্মহীন মানুষের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ক.সমান তিন ভাগ বাধ্যতামূলক না: অনেকে মনে করেন কোরবানির মাংস অবশ্যই ওজন
করে সমান তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। আসলে ইসলামে এমন কোন বিধান বাধ্যতা মূলক করা
হয়নি। তিন ভাগ করা একটি উত্তম পদ্ধতি হলো এটি ফরজ বা আবশ্যক না। পরিস্থিতিও
প্রয়োজন অনুযায়ী কম বেশি হতে পারে মূল উদ্দেশ্য হলো নিজে খাওয়া,
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে এবং গরীবকে সহায়তা প্রদান করা।
খ.পরিবেশে প্রয়োজন করা: যদি কোন এলাকায় গরিব এবং অভাবে মানুষের সংখ্যা
বেশি হয়, তাহলে তাদেরকে বেশি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অংশ বা আত্মীয়-স্বজনের
অংশ কমিয়ে অসহায়দের মাঝে বন্টন করা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।তবে নিজের
পরিবারকে কিছু অংশ খাওয়ানো সুন্নাত উত্তম আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গ.কোরবানির মাংস বন্টনের যে কাজগুলো না করা: এ বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা
হলো-
১. কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে মাংস: কুরবানীর মাংস কোন অবস্থা করা যাবে না।
পারিশ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করলে তার শরীয়ত সম্মত হয় না। অনেকেই না জানার কারণে
কসাইকে মাংস দিয়েই পারিশ্রমিক দিয়ে থাকেন যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক না, তাই এ
বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরী।
২. কোরবানির মাংস বিক্রি নিষেধ: কোরবানির মাংস, চামড়া ও পশুর কোন অংশ বিক্রি করে
ব্যক্তিগত কোন আর্থিক লাভ অর্জন করা জায়েজ না। কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করলে
সে অর্থ গরিবের দান করে দেয়া উত্তম। কোরবানি একটি ইবাদত, এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক
লাভের মানসিকতা রাখা উচিত না।
কুরবানীর গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা;কুরবানী ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। সঠিক
নিয়ম জানা থাকলে ইবাদতটি সহিত ভাবে আদায় করার সহজ হয়। নিচে কোরবানির
গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল সহজভাবে তুলে ধরা হলো-
কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। সামর্থ্যবান এর উপর কোরবানি ওয়াজিব। এটি
মৌলিক ইবাদতের মধ্যে পড়ে। হযরত আদম আঃ এর সময় থেকে সকল যুগে কুরবানী ছিল। তবে
তা আদায় করার পথ এক রকম ছিল না। শরীয়াতে মোহাম্মদীর কুরবানী মিল্লাতে ইব্রাহিম
এর সুন্নাত। সেখান থেকে এসেছে এই কুরবানী। এটি শাআইরে ইসলাম তথা ইসলামের প্রতীক
বিধানগুলোর মধ্যে পড়ে। এর মাধ্যমে ইসলামের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এছাড়া গরীব দুঃখী ও
পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের সুব্যবস্থা হয়। আল্লাহ ও তার রাসুলের স্বার্থহীন
আনুগত্যের শিক্ষা আছে এই কোরবানিতে পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার জন্য ত্যাগ ও
বিসর্জনের একটা শিক্ষা আছে এতে আল্লাহতালা এরশাদ করেন-
”ফাসালি লি রাব্বিকা ওয়ানহার”
” তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায আদায় কর ও কোরবানি কর।”
কোরবানির ফজিলত আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাজিতাল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, কোরবানির দিনের
আমলসমূহের মধ্যে থেকে পশু কোরবানি করার চেয়ে আর কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক
প্রিয় নয়। কেয়ামতের দিন এই কুরবানীকে তার সিন, ও খোরসহ উপস্থিত করা হবে। আর
কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগে আল্লাহতালা কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমারা
সন্তুষ্টি চিত্তে কোরবানি করোর্।(জামি তিরমিজি, হাদিস ১৪৯৩)
সামর্থ্য থাকার পরেও যে ব্যক্তি কোরবানির ইবাদত আদায় করে না তার ওপর হাদিস থেকে
হুমকি এসেছে-
হযরত আবু হুরাইয়া থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
যাদের কোরবানি দেবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করলো না, তাতে ঈদের জামাতে
না আসার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।”(মুসনাদে আহমদ২/৩২১
মূলকথা হলো আল্লাহ তালার অনুগত্য এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই যে কোন
ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় অত্যন্ত জরুরী। আর তা হল এ ক্লাস তথা একমাত্র
আল্লাহ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল
অনুযায়ী তা শেষ করা। এখানে কোরবানির কিছু জরুরী মাসের উপস্থিত করা হয়েছে।
কাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব সে বিষয়ে নিম্নে দেওয়া হল-
মাশালা ১; কোরবানি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য
একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি পালন করা ওয়াজিব তবে ফরজ ইবাদত নয়।প্রাপ্তবয়স্ক,
সুস্থ মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কের নর-নারীর ১০ এ জিলহজ ফরজ
থেকে ১২ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ
সম্পদের মালিক হবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা,অলংকার
বর্তমানে বসবাস ও খোরাকের প্রয়োজন আসে না এমন ধরনের জমি,প্রয়োজন অতিরিক্ত
বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কোরবানির নেসবের ক্ষেত্রে
হিসাব যোগ্য।
আর নেশা হলো স্বর্ণের ক্ষেত্রে সারে পাঁচ ভরি, রুপার ক্ষেত্রে সারে ৫২ ভরি। টাকা
পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নেশা হলো সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমান পরিমাণ
হওয়া। আর সোনা বা রুপা কিংবা টাকা পয়সা এগুলোর কোন একটু যদি আলাদা করে নেশা
পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজনে অতিরিক্ত একের অধিক জিনিসের সাথে মিলে সমান
পরিমাণ হয় তাহলে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হবে। যেমন কারো নিকট কিছু স্বর্ণ ও
কিছু টাকা আছে, যা সর্বমোট সাড়ে ৫২ তোলা চাঁদের মূল্য সমান হয়। তাহলে তার ওপর
কুরবানী ওয়াজিব।
মাশালা ২;যৌথ পরিবার অর্থাৎ যে পরিবারে কর্তা একজন বয়োজ্যেষ্ঠ হন এ ধরনের
পরিবার গুলোর মধ্যে একাধিক ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পাওয়া
গেলেও অর্থাৎ তাদের কাছে নেশা পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তাদের প্রত্যেকের উপর ভিন্ন
ভিন্ন কোরবানি ওয়াজিব।
পরিবারের যত সদস্যের ওপর কুরবানী ওয়াজিব তাদের প্রত্যেকের একটি করে প্রশ্ন
কোরবানি করতে হবে অথবা বড় পশুতে পৃথক পৃথক অংশ নিতে হবে। একটি কোরবানি সকলের
জন্য যথেষ্ট হবে না।
নেসাবের বের মেয়াদ: নিসবের মেয়াদ সম্পর্কে ইস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব-
মাশালা ৩; কোরবানির নেশা সারা বছর থাকা জরুরী নয়। কুরবানীর তিনদিন
থাকলে এমনকি ১২ তারিখের সূর্যাস্ত পর্যন্ত অর্থাৎ কিছু আগে নেশা পরিমাণ সম্পদের
মালিক হয়ে গেলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।
উপসংহার;, কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যার মাধ্যমে একজন মুমিন
আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। এটা শুধুমাত্র পশু জবাই এর নাম
নয়: বরং ত্যাগ, তাকওয়া,, ধৈর্য আত্মসমর্পণ ও মানবতা অনন্য দলিল।, কোরবানির
মাধ্যমে মুসলমান আল্লাহর প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করে এবং সমাজের গরিব অসহায়
প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইবাদতের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
তাই আমাদের উচিত কোরবানির সঠিক নিয়ম, মাসআলা ও শরীয়তের বিধান সম্পর্কে সহিহ
ভাবে এই ইবাদত আদায় করা। আল্লাহতালা যেন আমাদের সকলের কুরবানী কবুল করেন এবং
সঠিক তাকওয়া অর্জনের তৌফিক দান করেন।(আমিন)
পরিশেষে এটাই বলা যায় যে, এই ব্লগ পোস্টে কোরবানির সম্পর্কিত তথ্যসমূহ, আল কুরআন
হাদিস ও ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিভিন্ন মাযহাব ও আলেমদের মধ্যে কিছু মাসআলায়ে মত পার্থক্য থাকতে পারে। তাই বিশেষ
বা জটিল কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অভিজ্ঞ মুক্তির সাহেবের পরামর্শ গ্রহণ
করা উত্তম। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র ইসলামিক জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষামূলক
উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। কোন ভুল থাকলে তার নিজ গুনে ক্ষমা করবেন। ভালো
থাকবেন সবসময়।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url