বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পোল্ট্রি মুরগির খাবার তালিকা সম্পূর্ণ গাইড
পেজ সূচিপত্র: এই ব্লগ পোস্ট থেকে আমরা পোল্ট্রি মুরগি বিষয়ে জানার চেষ্টা
করব-।এই ব্লগ পোস্টে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি মুরগির খামার, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ
প্রতিরোধ ও লাভের হিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
পোল্ট্রি মুরগির খামার কি:পোল্ট্রি মুরগির খামার হলো এমন একটি লাভজনক ব্যবসা
যেখানে বাণিজ্যিকভাবে মুরগি উৎপাদন করা হয় যা মূলত ডিম ও মাংস উৎপাদনের জন্য
বেশি ব্যবহার হয়। আমাদের দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের
প্রোটিনের চাহিদা অনেক বেশি। কারণ দেশের বেশিরভাগ মানুষ খেটে খাওয়া। কিন্তু সেই
তুলনায় প্রাণিজ মানুষের উৎপাদন এখনো পর্যাপ্ত নয়। এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য
পোল্ট্রি খামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এটি বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময়
ব্যবসায়ী রূপান্তর হয়েছে।
পোল্ট্রি মুরগি মূলত উন্নত জাতের হাইব্রিড মুরগি যার বিশেষভাবে বাণিজ্যিক বংশের
চাহিদা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয় এদের মাংস নরম সুস্বাদু এবং দ্রুত
বাজারজাতযোগ্য হওয়ার কারণে এই মুরগি মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
সাধারণত পোল্ট্রি মুরগি মাত্র দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে খাবার উপযোগী হয়, যা
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও
খামার ব্যবস্থাপনার উপর
নির্ভর করে। কম খরচে যদি তুলনামূলক বেশি লাভ এবং দ্রুত আয় করা সম্ভব হয় তাহলে
এটি উত্তম। তাই বর্তমানে এই ব্যবসা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার কেন লাভজনক: বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো কৃষিভিত্তিক
কাজের সাথে জড়িত। তারই প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার একটি লাভজনক ও
সম্ভাবনাময় কৃষি ব্যবসায়ী হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অল্প পুজি বিনিয়োগ
করে খুব কম সময়ের মধ্যে লাভ করা সম্ভব হওয়ার কারণে এটি বিশেষ করে তরুণ
প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বর্তমান শিক্ষিত সমাজের মানুষেরা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত
জাতের মুরগি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোল্ট্রি খামারকে সহজে লাভজনক করে
তুলছেন। আর এর জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা সেই অনুযায়ী খামার স্থাপন করলে উৎপাদন
বৃদ্ধি পাবে এবং ঝুঁকি কমে যাবে।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পোল্ট্রি খামার বেশ লাভজনক ব্যবসা। সাধারণত মুরগির খামার দুই
ধরনের হয় পারিবারিক খামার ও বাণিজ্যিক খামার। পারিবারিক খামারে অল্প কিছু মুরগি
পালন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়, যা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার তৈরিতে সম্ভাবনার
দুয়ার খুলে দেয়। আর এতে করে ভবিষ্যতে বড় আকারে বাণিজ্যিক খামার গড়ে তুলতে
সাহায্য করে।
দেশে উৎপাদনের উদ্দেশ্যের উপরে ভিত্তি করে খামারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-ㆍ•
•ব্রয়লার খামার: যার উদ্দেশ্য মাংস উৎপাদন করা অল্প সময়ে।
•লেয়ার খামার: যা দিয়ে খামার গুলোতে ডিম উৎপাদন করা হয়।
তবে আপনি যে ধরনের খামার করুন না কেন যে কোন খামার করার জন্য প্রয়োজন সঠিক
পরিকল্পনা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং তার সাথে
সঠিক পরিচর্যা যা আপনাকে লাভের দিকে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে।
পোল্ট্রি খামারের জন্য সঠিক স্থান ও পরিবেশ:যেকোনো কাজ শুরু করার আগে পরিকল্পনা
করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনেক খামারি কোন পরিকল্পনা ছাড়াই খামার শুরু করেন।
এখানেই তারা বড় ভুল ঠিক করে বসে থাকেন। কারণ, পোল্ট্রি মুরগি পালনের ঘর যদি
সঠিকভাবে তৈরি না হয় তাহলে সেই খামার থেকে লাভ করা কথা চিন্তা করা ঠিক না।
তাই আপনি যদি পোল্ট্রি মুরগি পালন করতে চান তাহলে প্রথমে জানতে হবে তাদের থাকার
পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত।
পোল্ট্রি খামার তৈরি করার শর্ত সমূহ নিম্নে দেওয়া হল-
1. খামারের অবস্থান ও দিক
2. শেডের অবকাঠামো
3. খামারের প্রস্থ ও ঘরের উচ্চতা
4. প্রজাতি অনুযায়ী জায়গা(ব্রয়লার, লেয়ার, সোনালী)
5. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা
6. বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক রাখা
7. সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনী
খামারের দিক ও অবস্থান:আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ খুব কম সময়ে অল্প
পুঁজিতে ভালো লাভ করার একটি স্বপ্ন দেখে থাকেন। কিন্তু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে
তা সম্ভব হয় না। তাই বেশিরভাগ খামারি ভাই-বোন না বুঝে পোল্ট্রি মুরগির খামার
দিয়ে লোকসানে ভোগেন আর এই লোকসান করার মূল কারণ হচ্ছে ভুল অবস্থান নির্বাচন।
আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশের সাধারণত বাতাস উত্তর- দক্ষিণ
দিক থেকে প্রবাহিত হয়। তাই খামারি ভাইদের উচিত এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে মনে
রাখা।
খামারের প্রস্থ ও ঘরের উচ্চতা:শেডের ক্ষেত্রে প্রস্থ এবং ঘরের উচ্চতা অনুযায়ী
চাষী ভাইদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
* শেডের প্রস্থ ২২-২৩ ফুট অর্থাৎ ২৪ ফুটের বেশি না
* দৈর্ঘ্য প্রয়োজন অনুযায়ী পাশের উচ্চতা ৬-৭ ফুট
* মাঝের উচ্চতা হবে ৯ থেকে ১০ ফুট যদি দোচালা শেড হয় তো
* চালের বর্ধিত অংশ দুই ফুট কারন ঝড় বৃষ্টি থেকে নিরাপত্তার জন্য।
আমি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বলি যদি খামারের দৈর্ঘ্য উত্তর-দক্ষিণ বরাবর
হয়ে থাকে তাহলে সকাল ও বিকালে সরাসরি রোদ শেডের উপর পড়ে। এতে শেড অতিরিক্ত গরম
হয়ে যায় এবং মুরগির হিট স্ট্রোক,গ্যাসপিং,ও উৎপাদন কমে যাওয়ার মত সমস্যায়
পড়তে পারে। তাই আমাদের উচিত খামারের দৈর্ঘ্য পূর্ব পশ্চিমে করা।
মুরগির সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা:বিশেষ করে মুরগির খামার করার ক্ষেত্রে তা ব্রয়লার
হোক কিংবা সোনালী কিংবা দেশি আপনি যেটাই চাষ করেন না কেন আপনাকে সংখ্যা অনুযায়ী
জায়গা নির্বাচন করতে হবে।যেমন-
•১০০০ ব্রয়লার অর্থাৎ ১২০০ বর্গফুট
•১০০০ সোনালি অর্থাৎ ৭০০ বর্গফুট
তবে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রয়লার চাষ করতে চান
তাহলে ব্রয়লারের ক্ষেত্রে মাচা পদ্ধতির সব থেকে বেশি লাভজনক। কারণ এখানে লিটার
ব্যবস্থাপনা করার ক্ষেত্রেও সহজ হয়।
পোল্ট্রি মুরগির খাদ্য ও পরিচর্যা:নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক ওজনের জন্য সুষম খাবারের
চাহিদা অপরিসীম। একটি খামারের বেশিরভাগ খরচই শতকরা সত্তর শতাংশ খাদ্য খরচের মধ্যে
পড়ে। কাজেই খাবারের দিকে সঠিকভাবে। নজর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ
পোল্ট্রি খামারি ভাইয়েরা সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে না পেরে মারাত্মক ক্ষতির
মুখোমুখি হন। নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী খাওয়ানোর ফলে কাঙ্খিত ওজন আসে না, এর
জন্য অনেক টাকার ঔষধ খাওয়ান। ফলের খামারি গন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন
এই সব দিক বিবেচনা করে উন্নতমানের বিজ্ঞানসম্মত ও সময় উপযোগী বয়লার ইটবাজার
থেকে ক্রয় করতে হয় কারণ পোল্ট্রি মুরগি অত্যন্ত নাযুক হয়।
| খাদ্য উপাদান | শুরুর দিকে | মধ্যবর্তি | শেষ পর্যায় |
|---|---|---|---|
| ভুট্টা | ৪৮ কেজি | ৫০ কেজি | ৫৩ কেজি |
| সয়াবিন মিল | ৩০কেজি | ২৬ কেজি | ২৪ কেজি |
| রাইচ পালিশ | ১০কেজি | ১২ কেজি | ১০ কেজি |
| ঝিনুক চূর্ণ | ২ কেজি | ২ কেজি | ২ কেজি |
| প্রোটিন ৬০% | ৮ কেজি | ৭ কেজি | ৮ কেজি |
| ডিলমিথিওনিন | ১৫০ গ্রাম | ১৩০ গ্রাম | ১৩০ গ্রাম |
| সয়াবিন তেল | ৫০০ গ্রাম | ২৪৮ গ্রাম প্রায় | |
| ডিপিসি | ৩০০গ্রাম | ৩০০গ্রাম | ৩০০গ্রাম |
| লবণ | ৩০০ গ্রাম | ২৮০ গ্রাম | ২৮০ গ্রাম |
| সালমোনেলা | ২৫০ গ্রাম | ২৫০ গ্রাম | ২৫০ গ্রাম |
| টক্সিন বাইন্ডার | ১২৫ গ্রাম | ১৩৫গ্রাম | ১৫০ গ্রাম |
| প্রিমিক্স | ৩০০ গ্রাম | ৩০০ গ্রাম | ৩০০ গ্রাম |
| ক্লোরিন ক্লোরাইড | ৭০ গ্রাম | ৭০ গ্রাম | ৬০ গ্রাম |
পোল্ট্রি মুরগির রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
পোল্ট্রি খামারে লাভের হিসাব:
নতুনদের জন্য পোল্ট্রি খামার পরামর্শ:
উপসংহার:
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url