চোখে ছানি পড়েছে বুঝবেন কিভাবে? লক্ষণ, কারণ, করনীয়
পেজ সূচিপত্র: আমরা নিচের ব্লক পোস্ট থেকে চোখের ছানি বিষয়ে জানার চেষ্টা করব।
ছানি কি : চোখের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি করার প্রদত্ত একটা স্বচ্ছ লেন্স থাকে, যা ক্যামেরার লেন্সের মতো কাজ করে। এই লেন্সের মাধ্যমে আলো চোখের রেটি নাই পৌঁছায়। যার ফলে আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই। কিন্তু যখন এইসব চলেন ধীরে ধীরে ঘোলা কিংবা সাদা হতে শুরু করে, তখন সে অবস্থাকে চোখের ছানি বা ক্যাটারাক্ট বলা হয়।
আমাদের চোখে ছানি পড়লে সাধারণত সবকিছু ঝাপসা দেখে দেওয়া শুরু হয়। তখন অনেকের কাছে মনে হতে পারে চোখের সামনে ধোঁয়া বা পাতলা সাদা পর্দা রয়েছে। যা মূলত ছানির কারণে ঘটে থাকে। বিশেষ করে রাতের আলোতে সমস্যা হয়, আবার গাড়ির হেডলাইটে জ্বলছে যাওয়া, ছোট লেখা পড়তে কষ্ট হতে পারে।
সানি সাধারণত বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা গেল বর্তমানেও কম বয়সেও চোখের ছানি হওয়ার ঘটনা নিত্য বাড়ছে। ডায়াবেটিক, চোখে আঘাত, দীর্ঘদিন স্টারয়েড ওষুধ ব্যবহার, অতিরিক্ত রোধে থাকা, ধূমপান করা কিংবা বংশগত কারণেও কম বয়সী মানুষদের মধ্যে এখন চোখের ছানির বিষয়টি দেখা যায়।
তাই সময় মত ডাক্তারের পরামর্শ না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে যার ফলে আমাদের মহামূল্যবান চোখ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
চোখের ছানি কেন হয়: বর্তমানে চোখে ছানি খুব সাধারন একটি ভিসা হয়ে গেছে প্রায় সকল ধরনের মানুষের কাছে। তবে চোখের ছানি পরে সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আর বার্ধক্যের কারণেই যে ছানি হবে সেটা কিন্তু না। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, জীবন যাপন পদ্ধতি ও পরিবেশগত কারণেও মানুষের ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যেতে পারে। নিচে চোখে ছানি পড়ার প্রধান কারণ গুলো সহজ ভাবে তুলে ধরা হলো।
১.বয়সজনিত পরিবর্তন:বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো ও চোখের স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া শুরু করে। চোখের ভেতরের স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক যে স্বচ্ছতা থাকে তা হারাতে থাকে।। তবে সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বছরের পর লেন্সের ভেতরে প্রোটিন জমা শুরু হয়, যা সময়ের সাথে ঘোলা কিংবা সাদা করে দিতে সক্ষম। এই ধরনের পরিবর্তন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং একসময় তার চোখের ধানের রূপ ধারণ করে।
শুরুর দিকে অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তাই অনেকে বিষয়টিকে হালকা ভাবে দেখা শুরু করেন এখানে মূলত ভুল করেন। প্রথমে হালকা ঝাপসা দেখা দেওয়া শুরু করে, রাতের আলোতে সমস্যা হওয়া-বা আগের চশমা পরিস্কার না দেখা এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার প্রয়োজনীয় কারণে হওয়া স্বামীর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হিসেবে।
২.ডায়াবেটিস:ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে ছানি হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হয়। দীর্ঘ দিন রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তার চোখের স্বচ্ছ লঞ্চের ওপর মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে। এতে করে লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যেতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা দেখা শুরু হয়।
অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণে কম বয়সে চোখে দেখা যেতে পারে বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিন রয়েছে, তাদের মধ্যে এ ঝুঁকি আরো বেশি হয়ে থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা অবশ্যই চেক করা দরকার।
৩.চোখে আঘাত বা ইনজুরি:চোখে আঘাত লাগ া বা দুর্ঘটনার কারণেও চোখে ছানি আসতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে খেলাধুলা, কাজের সময় দুর্ঘটনা, কোন বস্তুর আঘাত কিংবা চোখে কেমিক্যাল লাগার মত ঘটনাগুলো চোখের ভেতরে সব চ্যালেঞ্জ কে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে দিয়ে থাকে। এর ফলে ধীরে ধীরে লেন্স নিয়ে থাকে।
কখনো কখনো হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর ছনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই চোখে বড় ধরনের আঘাত লাগলে তার সাময়িকভাবে ঠিক মনে হলেও পরে চোখ পরীক্ষা করানো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এবং এ বিষয়ে অবহেলা করা বোকামি শামিল। তার দ্রুত চিকিৎসা নিলে ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তির জড়িত কমানো সম্ভব হয়।
৪.অতিরিক্ত রোধ ওUVরস্মি:দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে থাকা এবং সূর্যের অতিবেগুনি যেটাকে আলট্রো ভাইলেট রোশনি বলা হয়ে থাকে এই রশ্মি সংস্পর্শে থাকলে চোখের স্বাভাবিক লেন্স ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত আলট্রভারত রোশনি চোখে লেন্সের স্বচ্ছতা কমিয়ে দেই, যার ফলে সময়ের সঙ্গে সানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যে সকল মানুষ নিয়মিত বাইরে কাজ করেন কিংবা তীব্র রোগের মধ্যে কাজে বেশি সময় কাটান তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে।
অনেক মানুষ চোখে সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু দীর্ঘদিন চোখে সরাসরি সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বাইরে বের হলে ভালো মানের ইউবি প্রোটেকশন যুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করা চোখের জন্য বেশ উপকারী তা প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি ছাতা বা টুপি কিংবা এমন কিছু ব্যবহার যা চোখকে অতিরিক্ত রোগ থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে এই ধরনের বিষয় মাথায় রাখতে হয়।
৫.দীর্ঘদিন ইস্টারয়েড ওষুধ ব্যবহার: কিছু মানুষ আছেন যারা দীর্ঘদিন ইস্টারয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন এটা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হলে চোখে ছানি হওয়ার ঢুকে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে, ইস্টারয়েড ট্যাবলেট ইনহেলার বা চোখের ড্রপ চোখের জন্য চিকিৎসকের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। ধীরে ধীরে তা লেন্স ঘোলা হয়ে দৃষ্টিশক্তিকে ঝাপসা করে দিতে পারে।
অনেক মানুষ আছেন যাদের মধ্যে এলার্জি, হাঁপানি চর্মরোগ, বা চোখের বিভিন্ন সমস্যায় এই ধরনের ঔষধ ব্যবহার করেন। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিংবা দীর্ঘমেয়াদি এই ধরনের ওষুধ চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোন ইস্টরয়েড ঔষধ নিয়মিত ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট সময় পরপর চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬.বংশগত কারণ:পরিবারে যদি বাবা-মা বা কাছের কোন আত্মীয়দের কারো চোখের ছানির সমস্যা থাকে তবে তা অন্য সদস্যদের মধ্যেও সানি হওয়ার ঝুঁকিটা কিছুটা বেড়ে দিতে পারে। অর্থাৎ অনেক সময় বংশগত কারণেও চোখের লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হতে পারে এটা সাধারণত জেনেটিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। তাই পরিবারের আগে থেকে কারো ছানি আছে কিনা আর তা যদি কারো হয়ে থাকে তবে তা নিয়মিত চোখের যত্ন এবং পরীক্ষা করানোটা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক সময় কিছু শিশু জন্মগতভাবে ও চোখের ছানিতে আক্রান্ত হতে পারে, যাকে জন্মগত স্থানীয় বলা হয়। এই ধরনের শিশুর দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক বিকাশ অনেক ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অল্প বয়সে লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যদিও সাধারণত ছানি বেশি বয়সে হওয়ার রোগ হিসেবে পরিচিত।
তাই যদি পরিবারের ইতিহাস থাকে এবং চোখে ঝাপসা দেখা, আরো সমস্যা হবে বা দৃষ্টিতে পরিবর্তন মনে হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তাই একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সময় মতো পরীক্ষা করলে ছানির সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হয়ে দাঁড়ায়।
৭.জীবনযাপন পদ্ধতি ও রোগ: কিছু শারীরিক সমস্যা ও অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের কারণে চোখের ছানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। চোখের দীর্ঘ স্থায়ী প্রদাহ, অতিরিক্ত মাইনাস পাওয়ার, বা চোখের অন্যান্য জটিলতা ধীরে ধীরে চোখে লেন্সের স্বাভাবিক স্বচ্ছতাকে নষ্ট করতে পারে। তাছাড়া ধূমপান ও অ্যালকোহল এর মত পদার্থ সেবন করার ফলে কিংবা এই ধরনের অভ্যাসের কারণে চোখের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে এবং কম বয়সের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়ে থাকে।
অতিরিক্ত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাবার, সঠিক পুষ্টিগুনির অভাব এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই যদিও এসব কারণ সরাসরি চোখের এক মাত্র কারণ নাই তবে দীর্ঘ মিয়াদের চোখের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চোখে ছানি পড়লে যেভাবে বুঝবেন:
সব ঝাপসা দেখলে কি ছানি রোগের লক্ষণ:
ছানি হলে কি চোখে ব্যথা হয়:
ঘরে বসে প্রাথমিকভাবে ছানি বুঝার উপায়:
ছানি রোগের চিকিৎসা কি:
কখন চোখের ডাক্তারের কাছে যাবেন:
ছানি প্রতিরোধে যা করবেন:
শেষ কথা:
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url