নৌকা ভ্রমন অভিঞ্জতা

নৌকা ভ্রমণের এক অনিন্দ্য সুন্দর অভিজ্ঞতার গল্প যার শহর থেকে গ্রামের পথে প্রথম নৌকা যাত্রা প্রকৃতির সৌন্দর্য নদীর ঘাটের জীবন মাজিদের গান এবং পারিবারিক আবেগের বাস্তব বর্ণনা এই ব্লগে তুলে ধরা হয়েছে।


পেজসূচিপত্র: আমরা নিচের ব্লগ পোস্ট থেকে নৌকা ভ্রমণ অভিজ্ঞতার বাস্তব বিষয় জানব।
নৌকায় প্রথম যাত্রার অনুভূতি: আমার জন্ম হয়েছে শহরে। বড় হয়েছে শহর নগর সভ্যতার মধ্যে। অনেকেই বলেন যে আমাদের গ্রামের বাড়ি আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে যা আমার বাবাকে বলতে দেখেছি। ছোটবেলা থেকেই আমার মা আমাকে নিয়ে একবার নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেটা এখনো আমার স্মৃতিতে তেমন ভাবে থাকার কথা না। বাসে করে ট্রেনে ভ্রমণের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার, কিন্তু নৌকা ভ্রমণের কোন অভিজ্ঞতা এর আগে হয়নি। সেই সুবর্ণ সুযোগ একদিন চলে গেল আমার কাছে। আমার ছোট মামার বিয়ে বলে গ্রামের বাড়িতে গেলাম বড় মামার সাথে। সপরিবারে যাচ্ছি বলে আমার বড় মামা একটা বালাম নৌকা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলেন তার আগের দিনে।
ভ্রমণের আগের উত্তেজনা: তখন খুব ভোর। খুব ভরে ঘুম থেকে উঠে দেখি মা সবকিছু গোছাঘুষি শুরু করেছেন। আমার ছোট বোন আমি দাও তার লাল জামাটা পড়ে তৈরি হয়ে নিয়েছে।, আমার বড় মামা কাপড়ের ব্যাগ টিফিন ক্যারিয়ার ইত্যাদি গুছিয়ে ফেললেন। আমার বাবার শহরে মধ্যম শ্রেণির চাকরি করেন যার কারণে তিনি অফিস ছুটি পাননি বলে আমাদের সাথে আর যেতে পারলেন না।
স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি: তখন সকাল সাড়ে সাতটা এরই মধ্যে আমরা নৌকায় গিয়ে উঠলাম। প্রথম থেকে আমার মায়ের করা শাসন ছিল যার কারণে আমি চুপচাপ ছয় এর মধ্যে বসে থাকলাম। কিন্তু পরে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না। এর কারণ ছিল যে আমি সাঁতার জানতাম না তাই আমার কিছুটা ভয়ও লাগছিল। তাহলেও আমি এটা বলি যে সময় টা ছিল শরৎকাল। তাই নদী বেশ শান্ত ছিল। ছোট ছোট চলাৎ ছলাৎ শব্দে নৌকা তুলে চলেছে। আমি শুয়ে শুয়ে ছয়ের ফাঁক দিয়ে নীল আকাশ দেখতে পেলাম। শরতের আকাশ এত নীল হয় তা আজই প্রথম বুঝতে পারলাম। সাদা সাদা তুলার মত হালকা মেঘ যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। আর তারই মাঝে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। বহু দূরে উড়ে যাচ্ছিল। ভটভট শব্দ করে যাচ্ছে। কিছু লঞ্চ ও স্টিমার বোর্ড আমার বড়মা টু ইন ওয়ান ছিলেন যার কারণে তিনি গান ধরলেন-মরমিয়া তুমি চলে গেলে দরদী আমার...... বড়ই করুন দরুদ ছিল গান গাওয়ার মধ্যে আমি ক্ষণিকের জন্য হলেও বেশ তন্ময় হয়ে পড়েছিলাম।
মায়ের আবেগঘন শাসন: আমার ছোট বোন ফাহমিদা আমার মায়ের চোখকে ফাঁকে দিয়ে মাঝে মাঝে পানিতে ডুবি নদীর মজা নিচ্ছিল। এতে আমারও ইচ্ছে হচ্ছিল নদীর পানিতে হাত ডুবিয়ে খেলা করতে। কিন্তু আমার মা বলতে মা প্রচন্ড ধমক দিলেন। আমাকে দেখে আমার মামা একটু কিছুটা হলো হাসলেন আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম মা মনে করে আমি এখনো ছোট হয়ে আছি।
প্রকৃতি ও সংগীতের মেলবন্ধন: আমি যে নৌকাটিতে ছিলাম সেখানে মাঝি ছিল চার। জন তারা বেশ দক্ষ বুঝা যাচ্ছিল। কারণ খালিগা আর কোমরের ছিল গামছা বাধা। মাথায় একটা পুরনো কাপড় পেটানো ছিল নৌকা খানা বেশ দেখতে। দুই পাশে চ্যাপ্টারগুলোই আর মাঝখানের ছবির মত ছয় উঠানো আছে। ফলে কাঠের পাটা তনের উপর হগলা বিছানো তার উপর একটা পাতলা কাঁথা দেওয়া হয়েছে আমাদের জন্য আর পেতে রাখা হয়েছে। মাঝিরা এক পাশে রেখেছে একটা মাটির চুলা। মনে হচ্ছিল তারা যেন সেখানে রান্না-বান্না করে খাওয়া দাওয়া করে।নৌকা যখন মাঝ নদীতে কুলু কুলু ঢেউ ছড়া ছলাৎ শব্দের গলা মিলিয়ে মাঝি গান ধরল।
                                        আমি গহীন গায়ের নাইয়া আমি গহীন গায়ের নাইয়া
                                        আমি এবার ওপারে যাই বাইয়ারে আমি......
নদীর ঘাটের দৈনন্দিন জীবন: তোর জন্য আমার কাছে মনে হলো আমি যেন এখনো ছায়াছবি দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। এর কারণ ততক্ষণে পালে হাওয়া লেগে গেছে। দূরে ছোট ছোট দোকানপাট আছে, তার সাথে আছে দালান ঘর হাটবাজার বাড়ি গাছপালা যা আমি দৃশ্যের মতো দেখতে পেলাম। পেছনে আবছা ছায়ার মত আকাশ। নদীর ঘাটে কেউ কাপড় ধরছে মেয়েরা ঘোমটা মাথায় দিয়ে থালা বাসন মাজছে কেউবা তার শিশুকে গোসল করার চেয়ে হেটে চলে যাচ্ছে গ্রাম্য বধূ যা আমার কাছে গ্রামীণ বাংলার চিত্রপটের মতো মনে হল। কিছু কিশোর দামাল ছেলেরা নদীর ঘাটে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে লাফালাফি করছে আর আমার শৈশবের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে কেউ বা সাধারণ কাটছে ছেলেরা জাল টানছে নদীতে। আবার কিছু গ্রাম্য রাখালকে দেখতে পেলাম যারা তাদের গরুগুলোকে নদীতে নিয়ে এসেছে গোসল করানোর জন্য এক জায়গায় দেখলাম একসাথে অনেকগুলো শাড়ি বাঁধানো ওকা। কোন কোন নৌকা থেকে ধোয়া উঠছে। মামা বলল সেগুলো বেদে নৌকা।
পাখির ডাক ও প্রকৃতির সুর: তখন গো দুপুর গড়িয়েছে। বেলা প্রায় তিনটার মধ্যে আমরা তালতলীর ঘাটে গিয়ে পৌঁছলাম। তালতলীর বাজারটা ঘুরে দেখার আমার প্রচন্ড শখ ছিল ছোটবেলা থেকেই। আজ সেইটা আবার পুরনো হলো। তালতলীর বাজারে একটা ভাঙাচোরা চায়ের দোকান দেখতে পেলাম সেখানে অনেক মানুষ চা পান করছে। আমার খাটি দুধের চায়ের প্রবল ইচ্ছা ছিল। সেখানে চা পান করতেই তা আমার কাছে মধুর মত মনে হয়েছিল।এখান থেকে আমাদের নৌকার ধলেশ্বরী হয়ে একটা ছোট খালে প্রবেশ করে। দুই দিকে শান্ত এবং চিত্রপটের মতো বাড়িঘর। মাঝে মাঝে বর্ষার পানিতে বেঁচে থাকা সবুজ ধানক্ষেত,কচুরিপানা রঙিন ফুল আর জলজ উদ্ভিদের নদীর গন্ধ পান কড়ির অসাধারণ ডাক। ভেসে বেড়ানো হাঁসের দল কাশফুলের সাদা হাতছানি সবকিছুর মেলবন্ধন বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আমি দেখে মুগ্ধ হলাম। আর আমার তখন বলতে ইচ্ছে করছিল সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে স্বার্থ জনগো আমায় নৌকায় ভ্রমন করে।
শেষ কথা: এখানে। নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা গুলো পুরোটা ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অনুভূতির ওপর নির্ভর করে আমি লিখেছি এখানে উল্লেখ করা স্থান পরিবেশ ও ঘটনাগুলো বাস্তব জীবনের সাথে মিল থাকতে পারে তবে সময় পরিবেশিতি এবং ব্যক্তিগত ভেদে অনেকের অভিজ্ঞতা আলাদা হয়ে থাকে। তাই পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলা যাচ্ছে যে নদী বা নৌকা ভ্রমণে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিরাপত্তা বিধি মেনে চলুন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করবেন। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না তারা ব্যবহার করা অত্যন্ত তাদের জন্য জরুরি। এই লেখার উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সৌন্দর্য এবং আবেগময় বিষয়কে তুলে ধরা এখানে কাউকে কোন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে না। এখানে মূলত ৯০ দশকের কিছুটা চিত্র তুলার চেষ্টা করা হয়েছে। কোন প্রকার ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ভালো থাকবেন সব সময়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।