ডেঙ্গু জ্বর কি লক্ষণ কারণ চিকিৎসা করণীয় ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। পরীক্ষায় প্রোটিলেট কমে যাওয়া করণীয় সম্পূর্ণ গাইডলাইন।
পেজ সূচিপত্র: আমরা নিম্নের ব্লগ পোষ্ট থেকে যে সমস্ত বিষয় জানতে পারবো তা
আলোচনা করা হলো।
ডেঙ্গু জ্বর কি: ডেঙ্গু জ্বর হলো এডিস মশা বাহিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। যা প্রচন্ড জ্বর মাথা ব্যথা বেশি ও ঘাটে ব্যথা এবং ফুসকুড়ি কারণ হয়ে যায়। এটা গরম এলাকায় বেশি হয় বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে। সঠিক চিকিৎসা নিলে তা ১২ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায় তবে সময় মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর হার প্রায় ১.৩% হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোন আন্টি ভাইরাল ওষুধ এটার নেই কারণ এটির প্রধানত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রচুর তরল পানি পান করাতে হয়।
কি ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ: ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যে বেশি ভয় কাজ করে। এর প্রধান কারণ হলো এ রোগে আক্রান্ত হলে অসুস্থ হয়ে যায় মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর সংখ্যা একবারে হেলা করার মত নয়। তবে এর কিছু লক্ষণ আছে যা দেখে সহজে বুঝা যায় কিনা-
🔹 তবে এর কিছু লক্ষণ আছে যা দেখে সহজে বুঝা যায় কিনা-
ডেঙ্গু জ্বর হলে তাপমাত্রা হবে ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০০ দুই ডিগ্রির মধ্যে
তীব্র মাথাব্যথা হবে
বমি বমি ভাব দেখা দেবে
মানব শরীরে বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি হবে
গ্রন্থি ফুলে যাবে
শরীরে ব্যাথা হাড় এবং জয়েন্টে ব্যাথা অনুভূত হবে
রক্তপাত হতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হালকা
ত্বক সহজে ক্ষত কখনো কখনো ঘটতে পারে
মনের মাঝে অবসর দেখা দিবে
আবার চোখের মনি পেছনে ব্যথা করবে
আবার ঘাম থেকে জ্বর ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের কারণ: ডেঙ্গু জ্বর চার ধরনের হয়ে থাকে ডেঙ্গু ভাইরাস যেকোনো একটি কারণে হয়ে থাকে যা মশার কামড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে থাকে। মহিলা এডিস মাসে ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে তার সুস্থ ভিত্তিতে সহজে ছড়িয়ে যেতে পারে।যদিও কারো পূর্বে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয় তবে তা দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হলে তাদের গুরুতর জটিলতা এবং সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই জীবনের বেঁচে থাকা অবস্থায় সংক্রমণের সংকর যত বেশি হবে গুরুত্বতা সম্ভাবনাও তত বেশি হয়ে যেতে পারে। তাই অবহেলা করবেন না।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা:ডেঙ্গু জ্বরের কোন নির্দিষ্ট অ্যান্টি ভাইরাল চিকিৎসা বর্তমান বাংলাদেশে নেই। তবে রোগের চিকিৎসার সঠিক উপসর্গ কমানো এবং যে কোন কঠিন সমস্যা যেন না হয় তা প্রতিরোধ করা যায় সে ক্ষেত্রে কৌশল গত কিছু চিকিৎসা আমাদের দেশে প্রচলিত আছে।
যত্ন নেওয়া: বিশ্রাম নিতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এবং তার সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং জ্বর কমাতে এসিডটামি নো ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রক্তপাতের যুগে থাকলে এসপিরিন ও NSAIDS খাওয়া উচিত না।
মনিটরিং এ রাখা: যদি গুরুতর ডেঙ্গু সনাক্ত করার জন্য রক্তের সংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল যে লক্ষণগুলো থাকে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় তাই ভালো।
হাসপাতালে ভর্তি: গুরুতর ডেঙ্গু হলে শিরায় স্যালাইন দিতে হয় প্রয়োজন হলে রক্ত দিতে হবে এবং যদি অবস্থা খারাপ হয়ে যায় তাহলে শুরুতে বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
মৃত্যু আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষকে বাড়িতে রেখে ভালো মতো চিকিৎসা করানো যেতে পারে যেমন প্যারাসিটারের মতো জ্বর ও ব্যথা নিরাময়কারী ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে। এক্ষেত্রে জ্বর কমানোর জন্য। নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সেবন করা থেকে রোগীকে দূরে রাখতে হবে।কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই বেশ গুরুতর এই উপাস্যগুলোকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এবং এই ধরনের কোন লক্ষণ যদি দেখা দেয় তবে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করুন। ডেঙ্গুজ্বর কয়েক ঘন্টার মধ্যে গুরুতর হতে পারে। কারণ যদি আপনি বা আপনার কোন শিশুর এই অবস্থায় দেখা দেয় তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।
ডেঙ্গু হলে করণীয়: যদি কোন কারণবশত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে যেয়ে থাকে তবে রোগীর ক্ষেত্রে কিছু করণীয় আছে। সে সমস্ত বিষয়গুলোকে জানতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রচুর তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে ডাবের পানি, লেবুর শরবত ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন পান করাবেন কিছুক্ষণ পর পর।
আবার ডেঙ্গু জ্বরের আক্রান্ত হলে বা গায়ে ব্যাথা হলে এপ্রিল ক্লোফেনাক ইত্যাদি জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। কারণ ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে এই সময় এই ধরনের ওষুধ খাওয়ালে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে যা রোগীর জন্য বেশ বিপদজনক প্রমাণিত হতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। তবে স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ যদি চান তবে আটটি প্যারাষ্ট্রমন্ত্রী খাওয়াতে পারবেন। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তির এবং কিডনি বিষয়ক সমস্যা থাকে তাহলে প্যারাসিটামল ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। এ বিষয়টি কোন অবস্থাতে খেলা করবেন না।
আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি যদি ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে তাহলে আমাদের কি করা উচিত নয়।
ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্রোটিলেট এখন আর মূল বিষয় নয় প্রোটিলেট হিসেব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। অনেকে বলেন পেঁপে পাতার জুস থেকে এটা বাড়ে আসলে এইসবের কোন ভূমিকা নেই জ্বর কমে যাওয়ার পর সংকটকালীন সময় পেরিয়ে গেলে আপনা আপনি তা বাড়তে শুরু করে শেষের দিকে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। মারি নখ মালদাতে রক্তপাত হতে পারে এরকম হলে প্রয়োজনীয় সেনাপতের স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে তবে এসব ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আবশ্যক।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়: ডেঙ্গু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করা হয়ে থাকে। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে যে এই মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ১২ হাজারের মতো ডেঙ্গুর ঘটনা দেখা গেছে। তাই সতর্কতার সাথে এ বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে-
*ড্রেন ও পাত্রকে পরিষ্কার রাখা এবং জলের ট্যাঙ্ক ঢেকে রাখতে হবে
* মহাশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করা প্রয়োজন
* ব্যবহার করবেন এবং দরজা জানলা সন্ধ্যায় বন্ধ রাখবেন
* ফুলহাতা জামা প্যান্ট পড়ুন এবং বিশেষ করে সকাল সন্ধ্যায়
* কামরুল ইসলাম পরিষ্কার রাখবেন না প্রচুর পানি পান করবেন এবং প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন এবং তার সাথে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন বিশ্রাম নিবেন হাইড্রেন্ট থাকবেন উপসর্গ করে দেখা দিলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাবেন।
ডেঙ্গু মশা চেনার উপায়: বিগত চলতি বছরে বাংলাদেশের ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত খবর বেশ উদ্বোধন হলো। সরকারের রোগ তথ্য রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর তথ্য অনুযায়ী এ বছর থেকে এখন প্রায় ৭৭০০০ এর মত মানুষ ডেঙ্গু জুড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যার মধ্যে মারা গেছেন ৩০৭ জন। পৃথিবীতে সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মহা রয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশের এডিস, এনোফিলিস, কেউলেক্স মশা বেশি ক্ষতিকর।
অতীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এর থেকে খারাপ আকা ধারণ করেছে বাংলাদেশ। ডেঙ্গুর বাহক হচ্ছে এডিস মশা। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল এর তথ্য অনুযায়ী এই মশার সাধারণ মশার থেকে একটু আকারে ছোট এবং মাঝারি হয়। এদের পিঠে বা শরীরের বিভিন্ন অংশের সাদাকালো ডোরাকাটা বাঘের মতো দাগ থাকে তাই এদেরকে টাইগার মসকিটো বলা হয়। তার সাথে এরা খুব একটা উঁচুতে উঠতে তেমন পারে না। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহু হল এডিস ইজ ইট টাই এবং এরিস এলবো পিকটাস জাতের মশা। কীট তথ্য পিদ্রা বলেন ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে এডিস মশা খালি চোখে দেখিস সনাক্ত করা যায়। তার কারণ হলো সাধারণত স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে এবং শহর এলাকার যে সমস্ত জায়গা সৌন্দর্য বর্ধন করে যেমন বাগান পাত্র বা টবের জমে থাকা পানিতে জন্মায়। তবে ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে এরা নোংরা পানিতে ও বংশবিস্তার করতে পারে।
বাংলাদেশে এডিস মশা: বাংলাদেশ ে এরশামা ছাড়া ঠিক কবে থেকে ধরা পড়েছিল তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে ধারণা করা হয় যে শহর এলাকাতে এর উপস্থিতি প্রথম নজরে আসে আশির দশকে। তখন থেকে বাংলাদেশে এরিস মশার উপস্থিতি নিয়ে মানব সচেতন হওয়া শুরু করে। অতীতে এডিস মশা থাকলেও ডেঙ্গু টেস্টের তেমন সুযোগ না থাকার কারণে তার অস্তিত্ব আছে কিনা এই নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ এবং চিন্তা ধারণা তেমনভাবে ছিল না।
১৯৯৮ সালের কিছু রোগীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েছিল। তবে 1999 সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের রাজধানীর অনেক রোগীর ডেঙ্গুর জীবনো পাওয়া যায়। আর ২০০০ সালের কিছুটা আবারো বাড়ে। তখন থেকেই বলা চলে নিয়ন্ত্রণে কি করা যেতে পারে এ বিষয় নিয়ে গবেষণা পরিস্থিতি নিয়ে নানা সচেতনতামূলক পরিচালনা শুরু করা হয়।।IRDC তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ডেঙ্গুর এই খারাপ অবস্থা ধারণ করে ২০১৯ সালে। অর্থাৎ সেই বছর 1 লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু তে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ১৮৯ জনg আবার ২০২৩ সালে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যু ঘটে।
আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাসার বলেন আগে কেবল শহর এলাকাতে এরিস মাসের দেখা গেলেও বর্তমানে শহর সভ্যতার প্রভাবে গ্রামেও এটি পৌঁছে গেছে।
ডেঙ্গু জ্বর কতদিন থাকে: ডেঙ্গু জ্বর ঠিক সঠিকভাবে কতদিন থাকে এই নিয়ে বলা কঠিন। তবে সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকে তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর পেছনেও কিছু কারণ আছে। জ্বর কমে যাওয়ার পরে আবার ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই সময়টা রোগের জন্য বেশ সংকটপূর্ণ এবং জটিলতার মধ্যে থাকতে হয়।
বাংলাদেশে মানুষ অসচেতনতার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে ধীরে ধীরে শরীরের অবস্থার উন্নতি হয় তীব্র জ্বর চোখের পিছনে ব্যথা পেশীয় গেটে প্রচন্ড ব্যাথা হয় এবং তাকে ফুস করিয়ে দেখাতে। জ্বর কমে গেলেও শরীর বেশ দুর্বল থাকতে পারে এ সময় প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করতে হয় এবং তাকে একান্ত ভাবে বিশ্রাম নিতে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষা: বাংলাদেশের সাধারণ বর্ষা মৌসুমে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। সিডিসি বলেছে যে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা সেটা বোঝার একমাত্র উপায় রক্ত পরীক্ষা করা। তবে অনেক চিকিৎসকরা বলছেন রক্তের বেশ কিছু পরীক্ষা আছে যা এক বা একাধিক সময় করাতে হয় রোগীর অবস্থাকে বুঝে। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি বলছে এই টেস্টের মাধ্যমে কেউ ডেঙ্গু পজেটিভ কিনা সেটা দেখা হয়। ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত খাবার শুরু থেকে এই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটিকে চিহ্নিতকরণ করা হয়।
আবার ঢাকা চিকিৎসকরা বলছেন জ্বরের প্রথম দিন থেকেই ডেঙ্গু এন এস ওয়ান টেস্ট এর ফল পজেটিভ হওয়ার কথা। কিন্তু যদি চার নাম্বার এবং পাঁচ নাম্বার দিনে হয় এটি নেগেটিভ হয়ে যায়। এর বেশিদিন হয়ে গেলে তখন আর এই পরীক্ষা খুব একটা কাজে আসে না।
আবার শুরুতে পরীক্ষা করে নেগেটিভ হলেই যে ডেঙ্গু জ্বর হয়নি এমনটি বলা বেশ কঠিন। সাধারণত চিকিৎসকরা টেস্টের ফলাফলের সাথে অন্য লক্ষণ মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ অনেক সময় এন এফ ওয়ান একদিন পজিটিভ হলে অন্য দিন নেগেটিভ ও হতে পারে।
আবার জ্বর আসার প্রথম দিন এই টেস্ট করাতে পারলে ফলাফল ঠিকঠাক মেলা সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা শরীরের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সহ বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরের রক্ষার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অ্যান্টিবডি গুলো প্রোটিন অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম তৈরি করে জীবনের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতে পারেনি বলে ধরা হয় তখন অসুস্থ হওয়ার এবং সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কারণ রক্তের আইজিজি পজিটিভ হলে বুঝতে হবে আগে রবি সংক্রমণ ছিল এবং বর্তমানে সে অ্যাওয়ার্ড ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া মানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং তখন বিশেষ সতর্কতা নিতে হয়।
প্লটিলেট কমে গেলে করণীয়: আমাদের শরীরের অনেক স্থানের নীলচে বা ছোট ছোট লাল চোখ দেখা দিতে পারে। প্রোটিনের যদি ৫০ হাজারের নিচের নেমে যায় তাহলে রক্তপাতে ঝুঁকি বাড়ে। কারণ বিশ হাজারের নিচে নামলে কোন আঘাত ছাড়া রক্তপাত হতে পারে। আবার প্রোটিনের দশ হাজারের নিচে নামলে ইন্টারনাল ব্লিডিং বা পেটের ভেতর বা মস্তিষ্ক হতে পারে। তাই অবহেলা করবেন না তখন এই সময়ে স্যালাইন দেওয়ার পরও যদি রক্তচাপ কমে থাকে এবং রক্তের মাত্রা কমে যায় তাহলে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তাই প্লটিলেট নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু হলে আগে থেকে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিতে পারেন।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু রোগীর পানি শূন্যতা বমি পেটব্যথা, মাথাব্যথা দ্রুত কমলে বা ৫০ হাজারের নিচে নেমে গেলে, বমি মলের সঙ্গে কিংবা মাসিক অত্যাধিক রক্তপাত দেখা দিলে প্রস্তাব সারা দিনে ছয় বারের কম হলে বা বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব না হলে অল্প বয়সী অথবা অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করানো যেতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচার উপায়: ডেঙ্গু জ্বর কে অবহেলা করবেন না। কারণ এদেশ মাসের আক্রান্ত হতে হওয়া এই রোগ হলে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায় তা কিছু আগুন সতর্কতা গ্রহণ করলে আমরা মনে করতে পারি যে ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচার উপায় আছে নিম্ন এ বিষয়ে দেওয়া হলো।
১.যদি আপনার বাড়িতে কোন পানি জমে থাকে জীবন ফুলের টবে সেই সমস্ত পানিতে পরিষ্কার রাখুন এবং ময়লা পানি সেখানে দিবেন না।
২.মশারি ব্যবহার করবেন বিশেষ করে ঘুমানোর সময়
৩.প্রয়োজনে মশা নিরোধক কয়েল স্পেবা লোশন ব্যবহার করতে পারেন।৪. পুরো শরীর ঢেকে রাখা হয় এমন পোশাক করবেন এবং বাসায় ও আশেপাশের জগতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করবেন।
৪. আপনাকে আপনার বাসা এবং তার আশেপাশ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এবং ড্রেন ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার করবেন।
৫. শিশুদের মশার কামড় থেকে বেশি সুরক্ষিত রাখুন এবং প্রয়োজন পড়লে পানির পাত্র ঢেকে রাখবেন যাতে মহাশার বংশবিস্তার করতে না পারে।
শেষ কথা: এই ব্লগ পোস্টে ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে সচেতন করার জন্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি কোনভাবে কোন পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ বা রোগ নির্ণয় এর বিকল্প নেই।যদি আপনার পরিবারের কারো ডেঙ্গুয়ের লক্ষণ দেখা দেয় তবে দেরি না করা অবশেষে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে পরামর্শ গ্রহণ করতে ভুলবেন না। নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ করে চিকিৎসা কাজে ঝুঁকি বাড়াবেন না।
তথ্যগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়েছে তবে সময়ের সাথে সাথে চিকিৎসা হতে পারে। তাই সঠিক তথ্যের জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক। আপনাদের জীবনের সুস্বাস্থ্য কামনা করায় আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভালো থাকবেন সব সময় ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url