কোরবানির নিয়ম অভিধান:

পেজ সূচিপত্র; আমরা নিম্নের ব্লক পোষ্ট থেকে যা জানতে পারবো-
কুরবানি কি এবং গুরুত্ব; কুরবানীর শব্দের অর্থ হল” ত্যাগ” উৎসর্গ বা আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য লাভের জন্য কিছু উৎসর্গ করা। ইসলামিক শরীয়তে জিলহজ মাসের ১০,-১১ ও ১২ তারিখে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট পশুর জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। এটি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ঈদুল আযহা প্রধান আমল।

কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা। মহান আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য আমাদের মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আঃ  তার সব চেয়ে প্রিয় বস্তু অর্থাৎ হযরত ইসমাইল আঃ কে কুরবানী করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের এই অসীম ত্যাগ ও অনুগত্য কবুল করেন এবং হযরত ইসমাইল আঃ এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন।

সেই স্মরণীয় ঘটনা অনুসরণ এই মুসলমানদের জন্য কোরবানির বিধান চালু করা হয়েছে। তাই কুরবানীর জবাই নয় বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার স্মৃতিকে ধরে রাখতেই মুসলমানদের জন্য কোরবানির বিধান চালু হয়েছে।

কেন কোরবানি করা হয়: কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন তাকওয়া বৃদ্ধি এবং তার সাথে মহান রবের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা। কোরবানি মানুষের অন্তরে ধৈর্য্ এবং আল্লাহর ভীতি  জাগ্রত করে। এটি শুধুমাত্র নাম নয়; বরং নিজের কামনা-বাসনা ও প্রিয় জিনিস আল্লাহর আদেশের জন্য ত্যাগ করার এক মহান ইবাদত।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

” আল্লাহর কাছে পশুর গোশত ও রক্ত পৌঁছে না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের অন্তরে ঈমান, তাকওয়া ও আত্মসমর্পণ এর পরীক্ষা। কোরবানি মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং গরীব দুঃখীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মানসিকতা তৈরি করে।

কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য: কুরবানী ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আল্লাহর প্রতি আত্মত্যাগের প্রতীক। কোরবানির মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য জবাই করে থাকে। অর্থাৎ কুরবানীর সব থেকে বড় শিক্ষা হল তাওহীদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলা এটাই তার প্রমান। আল্লাহ বলেন-

” নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্ব জগতে প্রতিপালক আল্লাহর জন্য”।

কোরবানি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সৃষ্টি করে। বিশ্বভ্রাতৃত্বের দ্বারকে খুলে দেয়। কুরবানীর মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব--দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করার মাধ্যমে সমাজের ভালোবাসা ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে এবং সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন-

” কুরবানীর দিন পশু কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে কোন আমল নেই”।(মেশকাত শরীফ)

কোরবানি মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় এটি তাকওয়া ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতার এক অনন্য শিক্ষা।
কার ওপর কোরবানী ফরজ;
কুরবানির করার সঠিক সময়;
কোরবানি করা সঠিক নিয়ম;
কুরবানির দোয়া ও নিয়ত;
কুরবানীর পশু নির্বাচন করবেন যেভাবে;
কোরবানির মাংস বন্টনের নিয়ম;
কুরবানীর গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা;
উপসংহার;

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।