জমিদার বাড়ির ইতিকথা

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ও রাজবাড়ীর গল্প স্থাপত্য ও ঐতিহ্য নিয়ে এই আয়োজন তুলে ধরা হয়েছে। ভাওয়াল রাজবাড়ী আহসান মঞ্জিল উত্তরা গণভবন নাটোরের রাজবাড়ী দেশের বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন এবং অজানা তথ্য।


পেজ সূচিপত্র:আমরা নিচের ব্লক পোস্ট থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত জমিদার বাড়িগুলো সম্পর্কে জানব-
চিরকালই অনেক ভূস্বামী শাসন করেছেন এদেশের বিভিন্ন জনপদ। তারা নিজেদের পরিচালনা ও বসবাসের জন্য গড়ে তুলেছেন অনেক নিজস্ব জমিদার বাড়ি। যা আজও দেশের অনেক অঞ্চলের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জমিদার বাড়ি নিয়ে আজকের আমাদের বিশেষ আয়োজন এর চেষ্টা।

ভাওয়াল রাজবাড়ি:ধাবাইল রাজবাড়ির বর্তমান গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভবনটি নির্মাণ শুরু করেন লোকনারায়ণ রায় তার সমাপ্তি টানেন রাজা কালিন নারায়ণ রায় প্রায় ১৫ একর জমির উপর এর মূল প্রাসাদ নির্মাণ উত্তর দক্ষিণে বড় করে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ মিটার এবং ত্রি তলা পরিকল্পনা আকারে নির্মিত।এখানের ছোট বড় মিলে প্রায় ৩৬৫ টি কক্ষ আছে।দক্ষিণ দিকে মূল ঢোকার জায়গা প্রবেশদ্বারটি বর্গাকার এবং তার চার কোণের চারটি গোলাকার তৈরি করা হয়েছে। উপরের ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে প্রবেশ পথের কাঠামো একদিকে দৈর্ঘ্য ২০ মিটার এবং প্রবেশদ্বারের পরে একটি বড় বারান্দা রয়েছে। এরপর হল ঘর পেছনে ছিল ১০০ বর্গফুটের একটা খোলা মাঠ। ১৮৮৭ সালে এবং ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পের রাজবাড়ীটা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পের পর রাজ বিলাসসহ অন্যান্য নির্মাণ করা হয় তা সংস্কার করেন। ঐতিহাসিক পটভূমি থেকে জানা যায় একসময় এলাকাতে তিনি শাসন করেছেন গাজী বংশ শাসকরা ১৮ শতাব্দ ১৭৩৭ সাল পর্যন্ত শাসন করেছেন দৌলত গাজী। ১৭৩৮ সালে বল রামরাই ভাওয়াল পরগনার সম্পূর্ণ জমিদারী লাভ করেন। স্বাধীনতার পর পূর্ব সময়ে ভাওয়াল রাজ বাড়িতে পাকিস্তান স্বাধীনতার পরে এখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপিত হয়।১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ঢাকা সদর উত্তর ভক্ত ছয়টি থানা নিয়ে গাজীপুর ঘোষণা করেন। আমরা বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানতে পারি এমন ভবনি হিসেবে ভাবা জমিদার বাড়ির রাজপ্রাসাদ দের প্রতি বছর সংস্কারের ফলে প্রত্নতাতিক দর্শনের প্রতিনিয়ত বিকৃত হচ্ছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সবচেয়ে বড় রাজপ্রাসাদ রাজবাড়ির অপকর্ম ঠিক রেখে এর ভেতরে ছোট ছোট পরিবর্তন করেছেন।
আহসান মঞ্জিল:বাংলাদেশে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকার অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হল আসান মঞ্জিল। ঐতিহাসিকরা এই স্থাপন্থ দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।। ১৮ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সে সময়ে জামালপুর পরগনা এটাকে বর্তমান ফরিদপুর এবং বরিশাল বলা হয়।তার জমিদার শেখ এনায়েতুল্লাহ আহসান মঞ্জিল বর্তমান স্থানের রংমহল নামে একটা প্রমদ ভবন নির্মাণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে শেখ মতিউল্লাহ ফরাসি বণিকের কাছে বিক্রি করে দেন। ফরাসিরা এখানে তাদের বাণিজ্য কোটি তৈরি করে আবার ১৮৩৫ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসীদের কাছ থেকে এটা কিনে নেন এবং পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন তারপরে তার পুত্র নবাব আব্দুল গনি ১৮৭২ সালে প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং তার প্রিয় ছেলে এর নামকরণ করার আহসান মঞ্জিল। ঢাকা বাসের কাছে এটি তখন অনেক আগে থেকেই নবাব বাড়ি নামে পরিচিত।১৮০০সালের এটি একটি জাঁকজমকপূর্ণ নিদর্শন যেখানে প্রথম ১৯১ সালে প্রথম বিজলি বাতি জ্বালানো হয়।পাকিস্তান আমলের শেষের দিকে স্মৃতি জাদুকর হিসেবে রাখার চেষ্টা চলে শেষে স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান পরিকল্পনা করা দায়িত্ব দিন। আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে নবাবদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র নিয়ে মোট ২৩ গ্যালারি আসে এতে আহসান মঞ্জিল পরিচিত ভবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সংস্কার পর্ব এবং বিভিন্ন আলোচিত ঐতিহাসিক ঘটনা নবাবদের ভোজনবিলাস অপূর্ব নির্মাণ শিল্প নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের বড় একটি বিলিয়ার্ড। ৯৪ কক্ষবিশিষ্ট একটি বড় সিন্দুক আছে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক হাকিম হাবিবুর রহমান,গবেষক পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ইত্যাদি ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি এবং নবাব সলিমুল্লার চিত্র ব্যবহৃত হয়েছে তাছাড়া সমাজসেবক দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইত্যাদি বিখ্যাত ছবি। হিন্দুস্তানি কক্ষ, ঢালাই লোহার তৈরি নকশা সংকলিত লতা গুচ্ছ নবাবদের ব্যক্তিগত লাইব্রেরী নবাবদের তাস খেলার ঘর কিছু দুর্লভ ছবি,রাজকীয় অতিথীদের বিশ্রামের জন্য স্টেট বেডরুম বিদ্যুৎ ব্যবহার করা জিনিসপত্র প্রাসাদ ড্রয়িং রুম গোলাঘর নাচ গান ইত্যাদি। যদি আপনি ভ্রমণ পিপাস হয়ে থাকেন তবে খুব সহজেই ঢাকার আহসান মঞ্জিল ঘটেতে যেতে পারবেন আহসান মঞ্জিল সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে আর শীতের সময় খোলা থাকে 9 টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত শুক্রবার গরমের সময় খোলা থাকে তিনটা থেকে সাতটা পর্যন্ত শীতের সময় শুক্রবার খোলা থাকে বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে বৃহস্পতিবার।
নারী নবাব বাড়ি:কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার এক সংক্রান্ত জমিদার পরিবারে ১৮৩৪ সালের নবাব ফয়জুন্নেসা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতবর্ষে একমাত্র মহিলা নবাব তার আয়তায় ১৪ টি মৌজা ছিল দক্ষিণ কুমিল্লার মধ্যে পড়ে ১৮৭৩ সালে বেগম রোকেয়ার জন্মের ৭ বছর আগে কুমিল্লা শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরী করেন। তার জমিদারির আওতায় ১৪ টি কাচারী সংলগ্ন এলাকায় ১৪ টা প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করা হয় তিনি ১৮৯৪ সালের মক্কায় হজ পালন করতে গিয়ে মক্কার মহল্লা একটি মুসাফির কানা ও একটি মাদ্রাসা তৈরি করেন আবার মাদ্রাসায় সালাতিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার জন্য প্রতি মাসে ৩০০ টাকা সাহায্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর একই প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন কুমিল্লা তৈরি করেন। মানবতার সেবায় ফয়জুন্নেসা কুমিল্লার ফয়জুন্নেসা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমানে কুমিল্লা সদর হাসপাতালের ফয়জুলেশন নারী ও শিশু ওয়ার্ড নামে পরিচিত। ১৮৭৬ সালে তার স্বরচিত সাহিত্য গ্রন্থ ছিল রূপ জালাল প্রকাশিত এছাড়া সংগীত লাহরি ও সংগীতসার নামক দুটি কাব্য রচনা করেছিলেন। জনসাধারণের উপকার করার জন্য এসে প্রচুর দিগীয় পুকুর খনন করেন। পশ্চিমা গায়ের নিজ বাসস্থানের পাশে তৈরি করেন দশ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ নামাজের সুবিধার জন্য তিনি পুকুর খনন করেছিলেন।1901 সালে তার গ্রামের একটি মাদ্রাসা তৈরি করেছিল যেখানে পড়ার জন্য টাকা লাগতো না। তিনি একটি পুল নির্মাণ করেছিলেন সবার চিকিৎসার জন্য নির্মাণ করেন। এই মাসে নারী মারা যান ১৯০৩ সালে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মসজিদের পাশে তাকে সম্মানিত করা হয় পরিবারের পঞ্চম বংশধর মাসুদুল হক চৌধুরী বলেন যে জাতীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ড করে তুলে ধরা হয়নি।
নগরপুরের উপেন্দ্র সরবর:টাঙ্গাইলের শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ধলেশ্বরী নদীর তীরে উপজেলা অবস্থিত নগরপুর।উপজেলকের দীপ উপজেলা বলা হয় কারণ এর পাশে অন্য পাশে আছে যমুনা। উপজেলা সদরের ১৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। নগরপুরের তৎকালীন জমিদার রায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর তার নির্দেশে এই জমিদার বাড়িতে শাসন কার্য পরিচালনা করা হতো শৈল্পিক কারুকার্যমন্ডিত বাড়ির ভেতরে ছিল পরীর দালান জমিদার সহ তার পরিবারের সদস্যরা চিত্তে বিনোদনের দালানের ভেতর ছিল বিশেষ ব্যবস্থা এখানে রূপশ্রী নারীরা এখানে নাচার কারণেই তো ভবন পরীর দালাল হিসেবে পরিচিতি পায়। ৩ তলা বিশিষ্ট এই ঘোড়ার দালার মূল ফটকের উপর হয়েছে বিশাল আকৃতির দুটি ঘোড়ার মূর্তি জমিদারের ব্যবহার করা গুলো এখানে মনে হয় রাখা হতো বাড়ির একেবারে দক্ষিণে ১১ একর জমির উপর খনন করা হয় বিশাল আকৃতির একটি জলাশয়। । জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রায়বাহাদুর উপেন্দ্র সরোবর। কালের আবর্তনে তৎকালীন ক্ষমতার বাহনে জমিদার ৫৪ জায়গার বাড়ি অনেক মূল্যবান জিনিস জমি ফেলে রেখে এক রাতের ভারতে চলে যান বিশাল এ সম্প্রতি দীর্ঘদিন আরক্ষিত থাকায় চুরি হয়ে যায় এবং মূল্যবান অনেক জিনিসপত্র এখান থেকে হারিয়ে যায়। বলা যায় শাসন ক্ষমতা পরবর্তী সময় জমিদার বাড়ির করুন অবস্থা দেখে সম্পত্তি রাখার জন্য এলাকা সচেতন মহল নূর মোহাম্মদ খানের কাছে অভিযোগ এবং আবেদন করেন। ১৯৮৯ সালে জমিদার বাড়ির মূল দালানটি প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ হোসেন এরশাদ মহিলা কলেজ।
অর্থবঙ্গেশ্বরী রানী ভবান: অর্ধভঙ্গেশ্বরী রানী ভবন নামে পরিচিত নাটোরের অতীত গৌরব আর ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও। সেই সঙ্গে অমর হয়ে আসে নাটোরের রাজবাড়ি রাজাদের স্থাপত্য কলা ১৭ শতকের নির্মাণ করা দৃষ্টি নন্দন এই রাজবাড়ীর প্রতিষ্ঠার পেছনে আশেক অনবদ্ধ ইতিহাস। ১৮ শতকের শুরুতে নাটোরের রাজ বংশের শুরু। ১৭০৬ সালের পরগনা বান গাছের জমিদার গণেশ রায় ও মহামানিকরণ চৌধুরী ব্যর্থ হয়ে চাকরিচ্যুত হন দেওয়ান রঘুনন্দন জমিদারি তার ভাই রামজীবনের নামে দিয়ে দেন এভাবে নাটোরের রাজবংশের শুরু নবীর কাছ থেকে ১৭০৬ থেকে ১৭১০ সাল জমিদারি লাভের পর রাজা রামজীবন নাটোর শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরে বঙ্গ জল নামক এলাকায় ৫১ একর জমির উপর বিশাল এক রাজবাড়ী নির্মাণ করেন। এক বর্ষাকালে রঘুনন্দন রাজা রামজীবন ও পন্ডিত রাজধানী স্থাপনের জন্য একটি ভালো জায়গা নির্বাচন করেছিলেন অনেক গরিয়ে তারা নাটোরের এই রাজবাড়ি নির্মাণ করেন সেই সময়ে ১৪৯টি পরাগানা নিয়ে রাজ্য গঠিত হয়েছিল। রাজ্যের রাজবাড়িটা হয়েছিল প্রধান প্রশাসনিক ভবন পরে রাজ্যের আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার বর্গমাইলে রাম জীবনের প্রধান দেবান ছিলেন দয়ারাম রাই ১৭১০ সালে থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজা নাটোরের রাজ্য শাসন করেন। ১৭৪৮ সালে রাজা রামকান্তের মৃত্যুর পর নবাব আলী খান রানী ভবানের উপর জমিদারির দায়িত্ব দেন রাম জীবনের দত্তক পত্র রাজা রামকান্তের স্ত্রী রানী ভবানী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করে এ রাজ বংশকে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রাখার চেষ্টা করেন ১৭৮৬ সাল পর্যন্ত নাটোর রাজ্য ছিল ভারতবর্ষের বড় জমিদারি রানী ভবানী রাজত্বকাল তার জমিদারের বর্তমান রাজশাহী,পাবনা,বগুড়া,কুষ্টিয়া,যশোর,রংপুর,পশ্চিমবঙ্গ,মুর্শিদাবাদ,বীরভূম,মালদহ জেলা পর্যন্ত ছিল। একতলা বিশিষ্ট মূল রাজপ্রাসাদের ঘর আছে ১৫ টা কেন্দ্রীয় উদ্যান এবং যুব পার্ক হিসেবে নাট্য ও জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে আছে।
নারী মহল: সামন্ত যদি ও রাজবাড়ী গুলোকে জড়িত করে যেমন সত্য মৃত অনেক ঘটনা আছে তেমনি রাজবাড়ীর ক্ষেত্রেও তাই একসময় ছিল তখন পা মাথার ছাতা এমনকি গায়ে জামা কাপড় কোন প্রকারের প্রজার পক্ষে রাজবাড়ীর সামনে পথ অতিক্রম করা চলো স্বাস্থ্যের যোগ্য অপরাধ কেউই অপরাধ করলে তাকে পেয়াদের হাতে দিয়ে জুতা পেটা করা হতো এ ধরনের কথা শোনা যায়। রানীমহল মোগল আমলের মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শিল্প নিদর্শন যেখানে হিন্দু-মুসলিম দৃষ্টি এবং দৃষ্টি নন্দন সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন বিভাগের পর রাজ বংশ চলে যায় এতে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রাজবাড়ি গুলো রাজবাড়ী অনাদির ৪০০ বছর পুরনো এই মূল বাড়িটি ৩০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। চারিদিকে উচা মুচা প্রাচীর দেকরা রাজবাড়ি বেশ কয়েকটি প্রবেশদ্বার আছে। রাজবাড়ির প্রধানত দুটি অংশ আইনামহল আরা নির্মল এই ভবনের দোতলায় রাজ দরবারের জলসাঘর মিছিল ঘর অতিথি ভবন সভা কক্ষ ও নিস্তলে রাজকীয় পাঠাগার কোষাগার ইত্যাদি আছে। মূল বাড়িটি ১০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিশেষ একটি অংশ গভীর পরীক্ষা দ্বারা বেষ্টিত আউটার রাজবাড়ী এলাকার আয়তন ৩০০ বিঘার মত রাজবাড়িতে ১১ জনের মতো রাজত্ব করেন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয় ১৯৪১ সালে জলদি নাথ মারা যান।রাজনীতিতে আবার উপনিবেশ না করলে রাজকুমারী হয়েছিল এ রাজ্যের শেষ রাজা।এই রাজবাড়ির ভেতরে রাজার আমল থেকে কান্তজির মন্দির পূজা পাবন চলে আসছে সংস্কার অভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে এর পরিধি।
নবাব থেকে প্রধানমন্ত্রী:অনেক আগে থেকেই নবাব বাড়ির মানুষদেরকে একটি আলাদা চোখে এবং মর্যাদায় দেখে তাকে বগুড়ার মানুষরা। বিভিন্ন বই দলিলপত্র ও লক্ষ্য মুখে জানানো যায় যে টাঙ্গাইল জেলার দেলু দেলদুয়ার বিশিষ্ট জমিদার বংশের সৈয়দ আব্দুস সোবহান চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। বৈবাহিক সূত্রে তিনি বগুড়ায় বসবাস করেন ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ আব্দুর রহমান চৌধুরীকে ১৮৮৪ সালে নবাব উপাধিতে ভূষিত করেন। ব্রিটিশ আমলে তিনি নবাবের মর্যাদা নিয়ে বগুড়ায় অবস্থান করেন বগুড়া শহরের করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে নবাবদের জন্য প্রাসাদ নির্মাণ করা হয় নবাব বাড়ি থেকে কাল ক্রমে নবাব বাড়ি বলে আজও ডাকা হয় কে সৈয়দ সোবহান চৌধুরী জমিদার লাভের পর বগুড়া অঞ্চলে শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৮৮২ সালে তিনি ভিক্টোরিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। তুমি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের ক্যাবিনেটের উপমন্ত্রী ছিলেন ১৯৬৩ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার ধানমন্ডি বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত ৫৩ বছর বয়সে বগুড়ার নবাববাড়ির কীর্তি সুন্দর মোঃ আলী মারা যান মোঃ আলির নামে আজও দাঁড়িয়ে হাসপাতাল ১৫০ বছরের জেলা স্কুল ইত্যাদি তৈরি করেন তিনি। নবাব পাইলে সে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রাচীন প্রায় ২০০ বছর আগের বিশাল নকশা করা দরজা দেখে বরকে যেতে পারেন ১৯৯৮ সালের মে মাসে মোঃ আলী প্যালেস।মিউজিয়াম এন্ড পার্ক বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিদিন সকাল ১০ঃ০০ থেকে ৮ টা পর্যন্ত দর্শনা খোলা থাকে। ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে ঢুকতে হয় এরপর এর ভেতরে প্রবেশ প্রয়োজন।
ষোল হিস্যার জমিদার: বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি জনপদের মুক্তাগাছা রাজধানী ঢাকা থেকে ১০০ দূরে তার পথ বাড়ির ছিল একটি পরগনা এই অঞ্চলে তিনটি বরগুনায় হোসেন শাহী ও মরিম সাহিরা থাকতেন। মৃত্যুর পর তার বন্দোবস্ত দেন শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী। যদিও তিনি কখনো মুক্ত আকাশে আসেননি। ১৭৭৯ সালে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য রাম রাম পিতার নামে জমিদারি বন্দোবস্ত করে আলাপ শরীফ পরগনা ভ্রমন করার জন্য আসেন। এক পর্যায়ে তিনি আইমান নদীর দিয়ে বিনোদবাড়ী গ্রামে যান খুব পছন্দের লাগে মুক্তাগাছা আর কে হাই স্কুল স্থাপিত হয় ১৩০০ সালে বাংলা নগেন্দ্র নারায়ণ গার্লস হাইস্কুল আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন। ভূপেন্দ্র সারা বছর নাটকের মঞ্চ হত। ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়নের পরে বাংলা একাডেমি জোতেন্দ্র কিশোর সেল নামের সংরক্ষণ করা হয় 1310 সম্মেলনে তিনি সাহিত্য গোষ্ঠীর হন। এই সমিতির প্রচন্ড আগ্রহের সাথে রবীন্দ্রনাথ ১৯২৬ সালের ময়মনসিংহ সফরে। মুক্তাগাছার ধনমান্য জমিদার শশীকান্ত আচার্যের স্ত্রী, শ্রীমতি লীলা দেবী ১০৪ ভরি রুপা শিল তরী কলেজ করেছিলেন ১৯১৪ সালের মুক্তাগাছায় প্রথম শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কোন মন্ত্রিসদের জন্য এই ফিল্ডের খেলাটি পরিচালিত হয় এখনও। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের মূল বাড়ে সবকিছু হারিয়ে যায় পড়ে গেছে এবং লুটপাট হয় সাত ঘাটের পুকুর পাড়ে বাংলাবারের মতো নান্দনিক যে বাড়িয়েছিল তা আর কিছুই নেই বকুলের গাছ আছে। তাদের সবাই ভারতে চলে যান।
চাকমাদের রাজা ভবন:এক সময় প্রভাবশালী চাকমা রাজত্বের সর্বশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন তাদের ঐতিহ্যবাহী রাজনগর রাজবাড়িটি বর্তমানে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। অথচ একসময় এখানে গড়ে তোলা হয় একটি পর্যটন এলাকা দেশের পাহাড়ে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোরম লেক আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক জীবন। দেশের ৪৭ টি ছোট জাতিসত্তার বেশিরভাগই চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। তাদের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা আছে। তার সাথে আছে যাদের নিজস্ব মনোনীত রাজার আদেশ মেনে চলার রীতিনীতি। চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক ও চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কপথে প্রাঙ্গনে ভেতরে সড়কের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে রাধানগর রাজবাড়ির আঙ্গিনা দেখা যায়। অনেকদিন আগে এখানে ছিল চাকমাদের রাজাদের বসতি অনেক ঐতিহাসিক ধরনের প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো এই জায়গা ১৭৩৭ সালের চাকমা রাজা এর মুক্ত খ এখানে রাজত্ব করতেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় মাতামোহরের নদীর অববাহিকায় আলেক দমে তার রাজধানী শঙ্খ নদীয়ার পর্যন্ত করেন তখন চট্টগ্রাম। তার সময় চট্টগ্রামের নবাবজোল কদরঘাট তিনি শেরমুক্ত খা রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে বসতি স্থাপনের অনুমতি লাভ করেন।
১৭৩৭ সালে তিনি রাজানগরের চাকমা রাজত্বের শুরু করেন ১৭৫৭ সালে তার মৃত্যুর পর সুখ দেবের রাজা হন এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ীটির বর্তমানে চরম অযত্ন এবং অবহেলায় পড়ে আছে রাজা দেবাশীষ রায় তার পৈতৃক ভিটেবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং রাজবাড়িটি সংস্কারের কথা বলেছিলেন কিন্তু আজও তা হয়নি বর্তমান রাজবাড়ির শুধু আর গাছপালার জঙ্গলে ভরপুর।
উত্তরা গণভবন: বাংলার প্রাচীন স্থাপত্য কলার একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হচ্ছে উত্তরা গণভবন। প্রতিদিন বহু নর নারী আসেনি ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে কারণ এখানে উত্তর গণভবন পর্যটকদের এক বিরাট আকর্ষণ। রাজা রামরাই ১৭৩৪ সালে শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রাজপ্রাসাদে নির্মাণ করেন। প্রমথ নাথ রাইসুলিন এ রাজ বংশের ষষ্ঠ রাজা। তার রাজত্বকালে প্রসাদ টি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ভূমিকম্পের কারণে পরে তিনি ১১ বছর ধরে অনেক বিদেশী বিশেষজ্ঞ এবং প্রকৌশলী ও চিত্রশিল্পী এবং দেশের শ্রমিকদের দিয়ে ৪১ একর জমির উপর ১৯০৮ সালের পুনরায় রাজবাড়ীটিকে নির্মাণ করেন ১৮৯৭ থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত ১১ বছর ধরে এই নির্মাণ কাজ চলে। প্রাসাদটি প্রায় 4121 জায়গায় জুড়ে বড় প্রাসাদের পূর্ব পাশে পিরামিডের আকৃতির মতো চারতালা প্রবেশদ্বার আছে এবং উপর দিকে লম্বা করে একটি সরু রাস্তা আছে মধ্যযুগীয় বাংলাদেশে অন্যান্য সামন্ত প্রাসাদের মতোই উত্তরা গণভবন দীর্ঘ প্রবেশদ্বার রয়েছে 1947 সালের দেশ বিভাগের ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালের জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে রাজ প্রশান্তি রক্ষণাবে করে বেশ সমস্যা দেখা দেয় এ সমস্যা সমাধানের দ্বিগা প্রতি মহারাজদের বাসস্থানকে ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর বাসভবন হিসেবে উদ্বোধন করেন পরে বাংলাদেশ সরকার স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে। অবশ্য ১৯৪৭ সালের পর থেকে এই ভবনটিতে তেমনভাবে কেউ বসবাস করেননি তবুও এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
শেষ কথা:এই লেখায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জমিদার বাড়ির তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তা বিভিন্ন লোককথা গবেষণা উৎস থেকে সংকলন করা। তাই সময়ের সাথে কিছু তথ্য পরিবর্তন হতে পারে। এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু মাত্র পাঠকদের ইতিহাস ঐতিহ্য স্থাপত্য সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা।কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা স্থান বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়। তাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।