হারানো সভ্যতা ও শহর

পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া বিখ্যাত শহর যেমন পাম্পে আটলান্টিস জেরিকও আজকেরও পেত্রা সম্পর্কে রহস্যময় ইতিহাস ও তথ্য জানুন।


পেজসূচিপত্র:আমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু বিখ্যাত শহর সম্পর্কে জানবো-
পাম্পেই শহর:পাম্পেই শহর পেয়েছিল ইতালির কাম পি নিয়া অঞ্চলের আধুনিক নেপলসের কাছে অবস্থিত একটি ছোট্ট শহর। এই শহরে ৭৯ সালে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি দুইদিন স্থায়ী হয় যার কারণে পুরো শহর ধ্বংস হয়ে যায়। শাহী ফুট উঁচু ছাই এবং জামা পাথরের নিচে শহরটি প্রায় চাপা পড়ে যায়। কয়েক বছর আগে ৬২ সালে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল হারকিউলিনিয়াম যা মূলত আপনিও গ্রির অগ্রুপ পাতাতে ধ্বংস হয়ে যায়। এটি একটি সতর্কীকরণ ছাড়া আর কিছুই ছিল না, কয়েক বছরের মধ্যে এর থেকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় শহরটিতে আঘাত করতে পারে। ভূমিকম্পের কারণে পাম্পেই নগরী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তা নির্মাণ কাজও শুরু হয়। ১৭ বছর পর যখন পুনরায় নির্মাণ কাজ সমান গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন আবার অগ্নুৎপাত হয়। যার ফলে সৌন্দর্যমন্ডিত এই ঐতিহাসিক শহরটি আবার হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে শহরটি মানুষের মন থেকে চলে যায়। অনেক গবেষক এই শহরকে খুঁজে বের করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। ১৫৯৯ সালের দিকে এর একটি অংশ মাটি থেকে বেরিয়ে আসে। তখন পুনরায় এর ক্ষরণ কাজ শুরু হয় যার সম্পূর্ণভাবে আবিষ্কৃত হয় ১৭৪৮ সালে।

আটলান্টিস শহরের রহস্য:পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া যত নগর আছে তার মধ্যে বিখ্যাত আরেকটি হারানো সহজ হয়েছে আটলান্টিস। এই শহর সম্পর্কে 100 ভাগ সঠিক কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও এটি নগরী ছিল বেশ সমৃদ্ধ। আর পাওয়া গেছে এর সাথে সংযুক্ত কিছু অদ্ভুত তথ্য। পৃথিবীর সেরা রহস্যময় জায়গা গুলো একটি ধরা হয় এই আটলান্টিস কে। দূর কোন অতীতে আটলান্টিস পৌঁছে গিয়েছিল উন্নতি এবং আধুনিকতার অতি চরমতম শিখরে। তৎকালীন বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং শিক্ষা-দীক্ষায় ঐশ্বর্য আর সামরিক শক্তিতে অতুলনীয় হয়ে উঠেছিল এখানকার মানুষ। তাই আটলান্টিস ছিল ঐশ্বর্যের এক জলন্ত রূপ। সজলাসে খোলা পরিবেশের পাশাপাশি এখানকার খুনিগুলো ভরা ছিল সোনা রুপা আর তামার আকরিক। আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকে বদ্ধ আটলান্টিসে ঘুরতে যান।

যারা অনেকে হয়তো এই শহরের নাম শুনে থাকতে পারেন।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বলে রাখা প্রয়োজন যে এখানে একের পর এক সাজানো জলপথ এবং স্তন্যপথ আইটির মতো বেষ্টন করা দেখেছিল নগরকে নগরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এর কেন্দ্রে অবস্থিত একটি রাজপ্রাসাদ। তাকে ঘিরে ছিল তিনটি বড় খাল। প্রাসাদ চত্বরের একবারে কেন্দ্রীয় ছিল একটি মন্দির।রাজাদের সুশাসনে বড় শান্তিতে শান্তিতে সুখে দিন কাটছিল দ্বীপটির বাসিন্দাদের। কিন্তু হঠাৎ করে জানো হারিয়ে গেল মহান অন্ধকারে।কারণ এখানে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল অতি তীব্র মহাপ্রলয় শুরু হয় সমুদ্রে দানবীয় থাবা নিয়ে আসে দ্বীপের উপর লাফিয়ে পড়ে শত শত ফুট উঁচু সমুদ্রের হিংস্র ঢেউ হারিয়ে যায় দ্বীপ হারিয়ে গেলে অভাবনীয় এক সভ্যতা ও সংস্কৃতির ভান্ডার।

সিরিয়ার পাল্মিরা শহর: পৃথিবীর ইতিহাসের আরেকটি বিখ্যাত শহর হচ্ছে পালমিরা। এই শহরটি সিরিয়ার মরুভূমিতে অবস্থিত ছিল। আলমিরা প্রাচীর নাম ছিল তান্দুর। এই সময়ের শহর গুলোর মধ্যে আধুনিকতা এবং নান্দনিকতা দেখা গিয়েছিল। গোটা পৃথিবীজুড়ে এর নাম পরিচিতি ছিল। প্রাচীনকালে মরযাত্রী উটের কাফেলাগুলো বিশ্রামের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান ছিল এই শহর। তাই একে কেন্দ্র করে শহরটির অবকাঠামো তৈরি হয়। ১৬ শতকে এই শহরটি ধ্বংস হয়ে গেলে ওখানকার আদিবাসীদের কাছে এটি এখনো তান্দুর নামি পরিচিত ছিল। প্রথম শতাব্দি মধ্যভাগে আলমিরা ছিল প্রাচুর্যে ভরা একটি শহর। হিব্রু বাইবেল অনুযায়ী এই শহরটি তৈরি হয় তিন সলেমান ৬৩৪ সালে এখানে মুসলমানদের আগমন ঘটে। খালিদ বিন ওয়ালিদ দখল করেন। এই শহরের স্থাপত্য কলা গুলো এখনো বিস্ময় জাগিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যা বিদেশ ভ্রমণকারী অনেক পর্যটক সেখানে গিয়ে থাকেন।

সুলতান এর জেরিকো: প্রাচীন পৃথিবীর আরেকটি সুন্দর সমস্যা ছিল জেরিকো। এর প্রাচীর আবিষ্কৃত হয় খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই শহরটি ৫০০০ বছরের প্রাচীন ছিল বলে ধারণা করা হয়। অনেকে একে ডেড সি নামেও চিনে থাকেন। কারণ আজও প্রতিবছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এই শহরটিকে এবং এ ডেড সি এক ঝলক দেখার উদ্দেশ্যে সেখানে পাড়ি জমান। মৃতসাগরের উত্তরে মরুদ্যান। জেরিকো শহরের ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে যে এখানে একটি সমৃদ্ধ জাতি বাস করত অনেকে আবার বলেন যেখানে কিছু অবাধ্য জাতীয় ছিল। যদিও শহরটির অবস্থান এবং আয়তন বেশ ছোট ছিল। এই শহরের পোড়ামাটি থেকে জানা যায় যে মাটি ইট ও চুনের ব্যবহার করা হতো সেখানে। স্থানীয় লোকদের মতে এর পূর্বপুরুষরা যাযাবর জীবন ছেড়ে এই শহরে আসেন। শুকনো মাটির দেওয়াল আর ইটের মেঝেতে ব্যবহার চুনের প্লাস্টার সত্যি অবাক করে দেওয়ার মত ছিল এই শহরটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৬১ সালে তুরস্কের প্রত্ন দত্তবিদ মালভূমির দক্ষিণ পূর্বে এর অবস্থান খুঁজে পান। এই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর জীবিত ও মৃত শহরের মধ্যে জেরি কো কাটল হুজুর ও লেগিন বিরোকে প্রাচীন বলে মনে করেছেন। তার মধ্যে সর্ব প্রাচীন। কারণ এর বয়স হচ্ছে সাত হাজার বছরেরও বেশি। অনেক পর্যটক আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন যেদিকে শহর ঘুরতে যাওয়ার উপায়। আমি এখানে শুধু মাত্র অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

চিয়াপাসের পালাঙ্কি: পৃথিবীতে যত বিখ্যাত এবং রহস্যময় সভ্যতা আছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মায়ান সভ্যতা। কারণ এই সভ্যতা যতটা অদ্ভুত ততটাই রহস্যময় এ মায়ানরা বিজ্ঞান জ্যোতিষী চর্চা এবং মহাকাশ জ্ঞানের দিকে সব সময় সবাইকে অতিক্রম করে গেছে তার সময় থেকে। এই শহরটির অবস্থার মেক্সিকোর চেয়ার পাস রাজ্যের বনে। বিশ শতকের শুরুতে ফ্রান্স ব্লুম নামে একজন আবিষ্কারক মেক্সিকোর একটা গহীন জঙ্গলে পালঙ্কের ধ্বংসাবশেষ কে খুঁজে পান এই শহরটা শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের দিকে মায়ানদের নানা কীর্তি কালাপ সম্পর্কে আধুনিক গবেষকরা দ্বিধায় পড়ে গেছেন কারণ মায়ানরা স্থাপত্যবিদদের দারুন পরিচয় দিয়েছে। এখানকার সুন্দর পাথরে খোদাই করা মন্দির ও বহু স্থাপনা আছে এটা বলা যায় গুরুত্ব লাভ করেছিল রাজা পাগলের সময়। কারণ তার শাসনে অনেক ভবন রাস্তাঘাট এবং মন্দির নির্মাণ করা হয় এর কিছু পর পালঙ্কি সহটা ধ্বংস হয়ে যায় অনেক বিশেষজ্ঞের মতে 702 সালের দিকে আর একটা বায়ান সভ্যতার শহর তশিনাছের শত্রুতার কারণে পালঙ্কের শহরটি ধ্বংস হয়ে যায়। এবং সভ্যতা থেকে হারিয়ে যায় একটি আধুনিক শহর।

কম্বোডিয়ার অ্যাংকর: কম্বোডিয়ার দুর্গম এলাকায় একটি শহরের পরিচয় সেভাবে জানা না গেলেও গবেষকরা ধারণা করেন যে খ্রিস্টপূর্ব 802 সালের দিকে কম্বোজ ছিল যাবত দ্বীপের একটি সম্রাটের অধীনে। আমরা বলতে পারি যে জয় বর্মন জাভার রাজার কাছ থেকে কম্বোজকে স্বাধীন করেন তারপর থেকে এক নতুন সাম্রাজ্য স্থাপন করা হয় এবং শুরু করা হয় এক নতুন নগরীর নগর এটি হচ্ছে আঙ্কর। সেই সময়ে সবথেকে অভিজাত এবং সমৃদ্ধ যতগুলি নগর ছিল তার মধ্যে এই অন্যতম ছিল পাথরের শ্রেষ্ঠ কারিগর তাদের প্রমাণ ছিল তার প্রমান আমরা দেখতে পাই বিশাল মন্দির আর কবর দেখে মজার একটি বিষয় হল এখানে খোদাইকৃত পাথরের এক সময় গবাদি পশুর বর্ণনা পাওয়া যেত কারণ আয়তন নগরটি ছিল বিশাল এবং তাতে অনেক বাঁশ করতো প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ মত মানুষ। এই সমৃদ্ধ নগর টার প্রভাব এবং প্রতিপত্তি বহুদিন বজায় ছিল ১৪৩১ সালে অযোধ্যা রাজার কাছ থেকে পরাজিত হয়ে তা ধ্বংস হয়ে যায়। ২০০৭ সালে একদল গবেষক উপগ্রহ থেকে ছবি তুলে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রমাণ করেন যে আঙ্কার হল শিল্পযুগের আগে স্থাপন করা একটা বড় শহর তারা আরও দাবি করেন যে এই শহরটির আয়তন ছিল ১১৫০ বর্গ কিলোমিটার।
পেত্রা শহর: সভ্যতা বিনির্মাণের ইতিহাসে মানুষের জ্ঞান বুদ্ধির জড়ি নেই। যার প্রমাণ আমরা বুঝতে পারি যে পাথর কেটে যে কোন রকম সর্বপ্রথম শহর বানানো যায় তা ১৮১২ সালে সবার নজরে আসে। বিশ্বর কাছে অসাধারণ সুন্দর এই নগরের অস্তিত্ব কে প্রথম তুলে আনেন সহিস ভ্রমণ পিপাসু সূর্যহান বোরখার্দ। আর অস্তিত্ব পাওয়া এই শহরের নাম ছিল পেত্রা। পিত্রা শহরটির বর্তমান অবস্থান জর্ডানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে হুর পাহাড়ের কাছে ফেত্রা শব্দের অর্থ হলো পাথর।পাথরের মধ্যে পাথর তৈরি হয়েছিল শহরটির মাঝে ভবনগুলো ছিল অসাধারণ স্থাপত্য কলার এক অনন্য নিদর্শন।

এই শহরটি গুহার মধ্যে তৈরি। যা কোন স্থানে ১২ ফুট চওড়া বলে ধরা হয় এই শহরের পাথরের দেয়ালে লিখিত প্রাচীন দালানগুলোর মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত হল খাঁজ নেত্রী নামক একটা মন্দিরে। এই মন্দিরটা পাড়াদের ধন ভান্ডার হিসেবেও সাধারণের কাছে পরিচিত ছিল তাছাড়া এখানে আছে অর্ধেক গোল আকৃতির একটি নাটক মঞ্চ আরে নাটক শালা একসঙ্গে প্রায় তিন হাজার লোকের বাসার মতো জায়গা ছিল এক সময়ের সংস্কৃতির সম্পদ আর সব ক্ষমতায় সমৃদ্ধ শহর ১৯৮৫ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে ইউনেস্কো ২১ স্বীকৃতি প্রদান করে আর এই স্থানটি ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্যের রাজধানীও ছিল। পেতরা নগরীতে এতটাই সমৃদ্ধ এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল যে পেত্রা চারপাশে ছিল উঁচু পাহাড় আর একটা অফুরন্ত ঝর্ণার ধারা পশ্চিম গাজার উত্তর এবং দামাক্কা লোহিত সাগরের মালভূমির উপর দিয়ে।

শেষকথা: এই পোস্টে উল্লেখ করা তথ্যগুলো বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণা এবং লোককাহিনীর উপর নির্ভর করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পেত্রা অ্যাংকর আটলান্টিস পাম্পেই সম্পর্কে তথ্য কিছু তথ্য আংশিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। বিশেষ করে আটলান্টাস এর মত রহস্যময় নগর এর ক্ষেত্রে।
এ কনটেন্ট শুধু শিক্ষামূলক আর তথ্যভিত্তিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এখানকার সকল তথ্য নির্ভর নাও হতে পারে। তাই পাঠকদের উদ্দেশ্যে এতটুকু বলতে চাই আপনারা অনুসন্ধান করে নিতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।