নয়নাভিরাম সাগরের সৌন্দর্য
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দিঘিগুলোর তথ্য জানুন। সাগরদিঘী, ওয়াদ্দার দিঘি, প্রামানিক
বাড়ির দিঘি, রামসাগর ও সুখসাগর। লোককথা,ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বড় এইসব
দিকের অনন্য তথ্য এই লেখায় তুলে ধরা হয়েছে।
পেজসূচি পত্র:আমরা এই পোস্ট পড়ে যা যা বিষয় নিয়ে জানতে পারবো তা নিম্নে আরোচনা
করা হল-
উপাখ্যান জড়ানো সাগরদিঘি:১২শতকে খনন করা হয় সাগরদিঘী।হবিগঞ্জের বানিয়াঞ্চ
উপজেলার সদরে অবস্থিত এটা। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা
এখানে এসে ভিড় করেন।এই দৃষ্টিনন্দন দিঘিকে অনেকে কমলার রানী দিঘি বলেও চেনেন।
যদি প্রশাসন উদ্যোগ নেয় তাহলে এটি হতে পারে সম্ভাবনার এক পর্যটন স্পট। দীঘির
চারপাশ থেকে সবুজ গাছ গাছালিতে ছেয়ে আছে। দিঘিটি দেখতে বেশ লম্বাটে,যে কারণে একে
সাগর দিঘী বলা হয়।সাগর দিঘি৬৬একর জায়গার ওপর এর অবস্থান করছে।আয়তনের দিক থেকে
দিঘিটি দিয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম জলধারা। বিকেলের এক অনন্য অনুভূতি দর্শনার্থীদের
চোখে পড়ে দুপুর গড়িয়ে বিকালে হলে দিঘির পারে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ তরুণ
তরুণীদের উপস্থিতিতে বেশ লক্ষ্য করা যায়। সাগরদাড়ি দিঘিটির পশ্চিম পাড়ে এলআর
সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটা সবুজ মাঠ আছে। স্কুলের ঠিক দক্ষিণে লাউ রাজ্যের
সময়কার স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ও দেখতে পাবেন।রয়েছে পাথরে তৈরি বিশাল ডাঙ্গা গুটি
লোকোমো যায় 12 শতকের সামন্ত রাজ পদ্মনা প্রজাদের পানির কষ্টকে দূর করার
জন্য এই বিশাল দিদিকে খনন করেন। পদ্মনাবের স্ত্রী কমলাবতী এদিকে যে নিজেকে
বিসর্জন দিন বলে একটি উপন্যাসে ও প্রচলিত আছে এদিকে কমলা রানীর দিকে এ কারণেই বলা
হয়।পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বাণী অঞ্চল পরিদর্শনকালে নয়ন অবিরাম সাগরদিঘী প্রাকৃতিক
পরিবেশ ও সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে রানী কমলাবতীর দিকে নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন যা
তিনি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফারহাদ আহমেদ বাণী অঞ্চল
ইতিহাস বলতে গেলে এই দিঘির কথা বলতেই হয় কারণ এই দিগেটি রয়েছে আঞ্চলিক এক
সমৃদ্ধ ইতিহাস। লাভ রাজ্যের সময়কার স্থাপনা ধ্বংসাবশেষ মোঘল আমলের স্থাপত্যকৃতির
মসজিদ পাথরের দ্বার গুটি অরক্ষিত অবস্থায় এখনো রয়েছে এইসব সংরক্ষণে
প্রত্নতত্ত্ব কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
হাজার বছরের পুরোনো ওয়াদ্দার দিঘি:আমাদের গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় আছে ৩২
বিঘা জমির উপর অর্ডার দিঘি। এটা হাজার বছরের আগে খনন করা হয়েছিল বলে অনুমান করা
হয়। মানুষ বিনোদনের কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। তবে কবে কখন কিভাবে ডিগ্রী করন করা
হয়েছে সুনির্দিষ্ট তথ্য গবেষকদের কাছে তেমনভাবে নেই কিছু বইতে উল্লেখ করেছে।
মধ্যযুগের শুরুর পর ভারতের আসাম থেকে আদিত্য পাল নামে এক রাত এসেছিলেন ভাওয়াল
অঞ্চলে। ৮ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এসে সামন্ত রাজাদের কাছে থেকে পূর্ব অঞ্চলে তিনি
দায়িত্ব নিন শাসন করতে থাকেন বিশাল এই অঞ্চল তখন এলাকাটি রাজ্য নামে পরিচিত লাভ
করে। এ রাজ্যের রাজধানী ছিল কার পিসি আর কলমেশ্বর এলাকা। শ্রীপুর উপজেলায়
এলাকায় তিনি এক বিরাট উদ্যান নগরী গড়ে তোলেন। আদিত্য পালের শাসনামলে রাজ্যের
রাজধানী সমৃদ্ধ ছিল। সে সময় সেনাবাহিনীতে পানির চাহিদা মেটাতে রাস্তার পাশে ৩২
বিঘা জমির উপর দিকে খনন করা হয়। ১৩৪২ সালের দিকে ইসলাম প্রচারের দিঘী ব্যবহার
করেছিলেন বিভিন্ন দরবেশ। ভারত থেকে ইসলাম প্রচারে আসেন পাহালুমান শাহা গাজী। তিনি
দিল্লির কথা অনুযায়ী ধর্ম প্রচার করেন। ব্রিটিশ আমলে এই দিঘির পতন হয় বলে জানা
যায়।। ১৯৬৩ সালের শ্রীপুর ঐতিহ্যবাহী মন্ডল পরিবারের কালো মন্ডল সর্বপ্রথম কে
আবার ঠিক করেন ১৯৯০ সালে পুকুরের পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয় গুচ্ছগ্রাম।।
দক্ষিণ পাশে রয়েছে হিন্দুদের তৈরি বিশাল আকৃতির মাঠ প্রভাবশালী হিন্দু লোক
সমালোচনা ও আড্ডা দেন।। দিঘির জলে খেলা করে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছ পাকা
ঘাটে বসে গোসল ও কাপড় ধোয়া দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম করে স্থানীয়রা।দীঘির পানি
ব্যবহার করে অজু করেন মুসলিমরা দিঘির পানি কখনো শুকায়নি বলে অনেকের দাবি।
রায় বাহাদুরের দিঘি:মজার ব্যাপার হলো নোয়াখালীর মাই যদি হরি নারায়নপুর গ্রামে
জমিদার রায় বাহাদুরের একটি ঐতিহ্যবাহী দিঘী রয়েছে।।গত এক দশক ধরে প্রভাবশালী
মহল দীক্ষিতকে মাটি ফেলে ভরাট করে তুলেছে।১৮৮৫ সালে স্থানীয় জনসাধারণের গোসল সহ
বিভিন্ন সুবিধার জন্য খোলা হয় দিঘিটি।পরবর্তীতে এটি রায় বাহাদুর দিদির নামে
জনসাধারণের কাছে প্রকাশ পায় সে সময় থেকে আশেপাশে ৮ থেকে ১০ গ্রামের নারী পুরুষ
এদিক একটি ব্যবহার করে আসছে কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে একমাত্র ভরসা ছিল এই
দিঘীটি। জমিদারের প্রথা বিরক্তির পর পর্যায়ক্রমে আজ ডিগিটির দখল হয়ে গেছে। ১৯৫৬
সালে জমিদারি প্রথা চলে গেলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল দখল করে। 1952
সালের সরকার থেকে এক ব্যক্তি নিজ গ্রহণ করে এ বিষয়ে।
প্রামাণিক বাড়ির দিঘি: আমাদের বৃহত্তর কিশোরগঞ্জ শহরের পাশে ৩২ এ প্রামাণিক বারির
একটি বিরাট দীঘি রয়েছে যা প্রাচীন সৌদামালার ধ্বংস স্তুপ রূপে আজও দাঁড়িয়ে
আছে।১৭শতকে নির্মিত এই ডিগ্রিটি।21রত্ন বলে অনেকে অভিহিত করেন ১৮৯৭ থেকে ১৮৯৯
সালে ভূমিকম্পে এটি বেশ বিধ্বস্ত হয়। কৃষ্ণ আশরাফ আশেপাশের দোকান রয়েছে
এদিকেটির পাশে কৃষ্ণ দাসের কুটি বাড়ির সরকারি চাকরি করতেন।পরবর্তীকালে ফরাসিরা এ
দেশ থেকে বাধ্য হলে কৃষ্ণদাস প্রামাণিক নাম মত্র মূল্যে। সেটিকে গ্রহণ করেন অর্থ
তাদের কঠিন অল্প দিনেই তিনি মালিক হন।এ সময় তিনি নিজের একটি মন্দির নির্মাণ করেন
যা লক্ষী নারায়ণ বিদ্রোহ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান ১৮ বাড়ির কাছারি সংলগ্ন
রামকৃষ্ণ আশ্রমের মন্দিরটি কৃষ্ণদাস নির্মিত প্রথম বিদ্রোহ মন্দির।পরবর্তীতে
জনগণের সুবিধা মত হবেক এই দিক থেকে সংস্কার করা হয়।এ সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যক করতে
আসতে নাটোরের মহারাজ তার অধিকার করার পর পরগণা থেকে বর্তমান কিশোরগঞ্জ এলাকায়
বেশ কয়েকটি তাল উৎপৃষ্টদাস রয়েছে। কৃষ্ণদাস বেশ ধনী হয়ে ওঠেন।শেষ বয়সে
ধর্মপ্রাণ কৃষ্ণ দাস ইচ্ছা করেন যে,তিনি তার দেবতার জন্য একটি দেবপুরী নির্মাণ
করবেন।কিন্তু তিনি মারা গেলে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। ১৭৫৯ সালের একটি দলিল
অনুযায়ী নন্দকিশোর পিতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মজা পুকুর এলাকায় তিনি ড্রোন যমী
নিয়ে দীঘি ও পরি নির্মাণ করেন।১৭৬৯ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয় এতে নন্দকিশোর
খাদ্য ও বস্ত্রের বিনিময়ে অনাহারে থাকা নারী পুরুষ এবং শিশুদেরকে খাদ্যের
বিনিময়ে দিঘি কাটতে বলেন। ১৭৯৩ সালের নাটোরের মহারাজ জমিদার নিলাম হয়ে গেলে
কৃষ্ণ দাসের লোক রাজ থেকে প্রাপ্ত তালুকদারের খাজা আর্তন নামের জৈনিক আর্মেনীয়
ব্যবসায় এটাকে একটু কিনে নিন।এতে আর্তুনের সঙ্গে প্রামানিকদের মোকাদ্দামা শুরু
হয়। সে মোকদ্দমা অনেক দিন চলে শেষে প্রামাণিক পরিবার নাটোরের মহারাজ রামকৃষ্ণ
রায়ের স্বাক্ষর যুক্ত দান পত্র দেখিয়ে সেই আলোচিত মোকাদ্দমায় তিনি জয় লাভ
করেন।
বহু পুরানো রামসাগর:রাজার সুখ সকমধ্যযুগের সামন্তরা যাদের অশেষ নির্মাণ ছিল
রামসাগর বাংলা এক অসহ্য সৌন্দর্যমন্ডিত ঐতিহাসিক দিঘী। ডিগিটির বর্তমান দিনাজপুর
শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মহারাজদের কৃত্তিমান স্বরূপ দাঁড়িয়ে আছে।পাড় ভূমি
সহ এদিকেটি মোট জমির পরিমাণ 140 একরের মত। শেষ সুবিধা প্রজাদের পানির কষ্ট দূর
এবং দুর্ভিক্ষ থেকে পরিহাদের বারাসাতের জন্য বাঁচানোর জন্য কাজের বিনিময়ে
খাদ্যের সংস্থান হিসেবে রাজা রামনাথ এদিকে নির্মাণ করেন। ১৭৫০ থেকে ৫৫ সালের
মধ্যে ঐতিহাসিক রামসাগর দীঘি খন্ডন করা হয়। এলাকায় লোকোমুখের এমনও শুনা যায়
যে। দেখিতে পানি না ওঠার কারণে স্বপ্নে তার পুত্র রামনাথকে বিসর্জন দেয়ার
নির্দেশ দেন রাজা প্রাণনাথ হাতির প্রহর গড়ার পর নিয়ে ঢাকঢোল নাখরা কাকরা
বাজিয়ে রামসাগর উপস্থিত হন এবং পুত্রকে স্বপ্ন প্রাক্তন নির্দেশ অনুযায়ী পুকুরে
নামতে বলেন। প্রিয় পুত্র রামনাথ। রদের নিচে নামতে থাকেন ততই দেখিতে বাড়ি বাড়তে
থাকে অবশেষে প্রিয় পুত্র রামনাথের সলিল সমাজের মধ্য দিয়ে রাজা প্রাণনাথ এর কারণ
আকৃতি বিশাল দিঘী জনগণের কল্যাণে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রাণনাথ মারা
গেলেন। রামনাথের শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে প্রতিবছর মাঘ মাসের পঞ্চম তিথিতে মেলা হয়
পূজা আর চলাচলে। তবে এর পানি দেখলে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা
বলা হয়। বর্তমানে অনেক দর্শণার্থী আশেপাশে ভিড় করেন। যদি কেউ মনে করেন খুব
সহজেই আপনি রাস্তা পথে সেখানে যেতে পারবেন।
দিনাজপুরের সুখ সাগর: দিনাজপুর শহর থেকে যদি আপনি সড়কপথে উত্তর পূর্ব দিকে ২
কিলোমিটার দূরে যান একটি রাজবাড়ীর দেখতে পাবেন আর রাজবাড়ী থেকে 100 কিলোমিটার
দূরে সুখ সাগর আসে। চারদিকের সাল এবং আকাশমনির বাগান তার সাথে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ
স্বচ্ছ জলরাসের দেখিতে আসে মাছের সাঁতার কাটা দৃশ্য এবং লাফালাফি করা সৌন্দর্য।
নৌকায় চড়ে সাগর নেওয়ার সুযোগ আছে এখানে সাগরের পারে যেন ছোট একটি পাহাড়ের মতো
শীতকালে অতিথি পাখিদের এখানে মেলা। পাশে দাঁড়ালেই শোনা যাবে অতিথি পাখিদের
কিচিরমিচির মুখরিত পরিবেশ যা অতিথি পাখিদের কোলাহলে মুখরিত করে রাখে সুখ সাগরকে
সুখ সাগর সুখ সাগর ইকোপার্ক যেখানে জীবন বৈচিত্র সংরক্ষণ এবং পরিবেশ উন্নয়নের
পড়ি সুখ সাগরের আয়তন ২২.৪৪ এখানে পিকনিক বলা যায়।
শেষকথা: এই লেখায় উল্লেখিত বিভিন্ন দিকের ইতিহাস ও লোককথা বর্ণনাম মূলত স্থানীয়
লোক কাহিনী লুকোমুখি শোনা তথ্যের উপর ভিত্তি করি লেখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে
ঐতিহাসিক তথ্যের দলিল ও প্রমাণ নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই পাঠককে অনুরোধ করা
হচ্ছে-উল্লেখিত বিষয়গুলোকে সম্পূর্ণ ইতিহাস হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক ঐতিহ্য এবং
প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে। কোন ভুল থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত। ধন্যবাদ ভালো
থাকবেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url