রঞ্জক সামগ্রী(২০২৬)

রঞ্জক পদার্থ কি? শ্রেণীবিভাগ পেইন্টের উপাদান ইমালশন পেইন্ট। বিভিন্ন সেগমেন্ট ও ভারনিসের প্রকারভেদ সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা। শিল্প নির্মাণ ও দৈনন্দিন জীবনে রংও ভার্নিশের গুরুত্ব জানুন।


পেজসূচি পত্র:এই অধ্যায় থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে আমরা যা যা জানতে পারবো-
রঞ্জক পদার্থ:কোন বস্তুকে যদি রঙ্গিন করার প্রয়োজন হয় তখন যেসব পদার্থ ব্যবহার হয় তাদের নাম রঞ্জক পদার্থ।অনেক প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ প্রাকৃতিক উদ্ভিদ, বা প্রাণী ও খনিজ পদার্থকে রঞ্জক হিসেবে ব্যবহার করত।দুই হাজার সালের দিকেও আফ্রিকার অজ্ঞ জাতির মধ্যে এর প্রচলন দেখা গিয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দী কৃত্রিম রঞ্জক আবিষ্কৃত হয়। বস্তুর রংয়ের মধ্যে তা এনে সে উন্নতি এবং মান ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টি নন্দন বস্তু।

রঞ্জক পদার্থের শ্রেণী:বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থকে আমরা দুই ধরনের ভাগে ভাগ করতে পারি দ্রবণীয় রঞ্জক এবং দ্রবণীয় রঞ্জক। যে সমস্ত রঞ্জক পদার্থ পানিতে বা অন্য কোন তরলে সহজেই দ্রবীভূত হতে পারে সেই সমস্ত সাধারণ নাম হচ্ছে দ্রবণীয় রং, যাকে আমরা ডাই বলে থাকে। যেসব রঞ্জক পদার্থ পানিতে বা অন্য কোন তরলের সহজে দ্রবীভূত হয় না অথচ অস্বচ্ছ যেগুলো তরল পদার্থ থাকে তার বস্তুর উপর ভাগে বা বস্তুর পেছনে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং বস্তু পৃষ্ঠ রঙিন হয় সেই সব রঞ্জক পদার্থকে অদ্রবণীয় রং বা পেইন্ট বলে। ধাতু,কাট ,বাশ, পাথর কাগজ, চামড়া ইত্যাদি বস্তুর পেছনে পেইন্ট লাগানো যায়। কাগজ, কাপড় কিনবা অনেক ধরনের তন্তু এবং বস্ত্রের দ্রবণীয় রং বা ডাই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

পেইন্টের উপাদান: বর্তমানে পেইন্টের মূল উপাদান তিনটি পিগমেন্ট মাধ্যম ও দ্রবক থিনার।
পেইন্ট মূলত পিগমেন্ট ও মধ্যম পদার্থের মিশ্রণ। মাধ্যম একটি তরল পদার্থ কিন্তু মাধ্যমের মধ্যে রং জন্য বা পিগমেন্ট কখনো দ্রবণীয় হয় না বরং সুষমভাবে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ জন্য গুলোর মাধ্যমে এমন ভাবে মিশ্রিত হয় যে কণাগুলো সমান ছড়িয়ে যায়। এ রং মিশ্রণ কে পাতলা করার জন্য ব্যবহৃত হয়, আরো একটি তরল দ্রাবক পদার্থ। এতে মাধ্যম তরলটি দ্রবীভূত হয় কিন্তু মূল পিগমেন্ট দ্রবীভূত হয় না। একে বলে দ্রাবক তিনার। যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত হয়। রংকে পাতলা করলে তা বস্তু পৃষ্ঠে প্রয়োগ সহজ এবং অনেক ক্ষেত্রে সুষম বিস্তার ঘটে। বিশেষ করে পদ্ধতিতে রং করার সময় তিনার ব্যবহার বাংলাদেশ দিন দিন বাড়ছে।
পেইন্টের শ্রেণী বিভাগ:আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পিগমেন্টের মাধ্যম ও থিনারের বিভিন্নতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন গুণসম্পন্ন পেইন্ট তৈরি হয় বিভিন্ন কারখানাগুলোতে ব্যবহারে সাশ্রয়ী এবং বাজার দরবেশ ভালো পাওয়া যায়। ফলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর বিভিন্নতা এসেছে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত পেন গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো।

*OIL BASED PAINT
*EMULSION
*FIRE RETARDANT PAINT
*LACQER PAINT
*HEAT-RESISTANT PAINT
*CEMENT WATER PAINT

ইমালশান পেইন্ট: অনেক সময় কোন কোন গাছের ছাল বা বাকল থেকে দুধের মত সাদা রস বের হয়। যার সাধারন নাম ল্যাটিক্স। রাবার গাছ থেকে এই ধরনের সাদা রস সংগ্রহ করা হয়।ল্যাটিক্স বলতে সাধারণভাবে রাবারের রস কে বোঝায়। এ রস থেকে রাবার তৈরি করা হয়। কৃত্রিম উপায়ে কাজ তৈরি হয় পানির মধ্যে কৃত্রিম বা সিনথেটিক রজন মিশিয়েও ল্যাটিক্স কাজ তৈরি হয় এই ল্যাকটি কাসের মাধ্যমে পেমেন্ট মিশ্রিত করে যে সকল রং তৈরি করা হয় তাকে েইমালশান পেইন্ট বলা হয়।

দেয়াল, ধাতবৃষ্ট কাঠ, বাঁশবেত রং করতে এই পেইন্ট ব্যবহার করা হয়।এই পেইন্ট বা রং পানি দিয়ে পাতলা করা হয় দেয়াল রং করার সময় যে ঈমান সান তৈরি করা হয় তাতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম পলিভিনাইলল্যাটিক্স। এই বিগ বেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পলি ফিনাইল এসিটেট।

বিভিন্ন প্রকার পিগমেন্ট: পেইন্টের উপাদান হিসেবে যেসব পিকমেন্ট ব্যবহার করা হয় এদের দুই ভাগে ভাগ করে থাকেg মৌলিক এবং নিষ্ক্রিয় পিগমেন্টg মৌলিক পিগমেন্ট রঞ্জক পদার্থের রং কে সৃষ্টি করে থাকেg আগে বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ যেমন সিজার যোগ্য মৌলিক পিগমেন্ট হিসেবে অনেক সময় ব্যবহৃত হয়েছেg কিন্তু অতি সাম্প্রতির রং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের পদার্থ মৌলিক পিগমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছেg বাংলাদেশের মিল ফ্যাক্টরিগুলোতেও 2026 সালের।নিষ্ক্রিয় পিগমেন্ট রঞ্জকের বর্ণের ওপর কোন রকমের প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে এসব বস্তু রঞ্জককে দীর্ঘস্থায়ী করে তার উজ্জ্বলতাকে অনেক সময় বৃদ্ধি করে নিষ্ক্রিয় পিগমেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্লে ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট মাইকা।

বিভিন্ন প্রকার ভার্নিশ:কাট ধাতু এবং অন্যান্য পদার্থের চাকচিক্যকে বৃদ্ধি করার জন্য বাতাসের আর্দ্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য বস্তুর ওপরে এক ধরনের স্বচ্ছ তরলের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়টি হলো  ভার্নিশ। ভার্নিশ যদি শুকিয়ে যায় তার ওপর একটা শক্ত চকচকে ধরনের পাতলা প্রলেপ তৈরি হয় এতে প্রলপের মধ্য দিয়ে কার্ড বাশ এবং ধাতবৃষ্ট দেখা যায়। কাঠের আঁশগুলো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় হার্নিস দ্রব্যের নিজস্ব রং আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও। কাঠের আস ভালোভাবে দেখা যায় করা বলে কালার করা বৃষ্টির ক্ষয় এবংমরিচা দূর করে এতে ধাতুর উজ্জ্বলতা ঠিক থাকে। বিদ্যুৎ নিরোধক তার কাঠের বিভিন্ন জিনিসপত্র কাগজ আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে বার্নিশ ব্যবহার করা হয় বার্নিশ দুই ধরনের স্পিড ভারনিস এবং তেল রজন ফার্নিশ।

ভার্নিশ তৈরী:বর্তমান বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের বেশিরভাগ মানুষ বেকার। বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন ভার্নিশ স্টোরির ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে শুরু করেছেন। তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।। এক ধরনের গাছের রস থেকে সংগ্রহ করা হয়। কাঁচ গালা লাক্ষা ডেমার ইত্যাদি প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায়। কৃত্রিম রজন গবেষণাগারে প্রস্তুত কতগুলো রাসায়নিক যৌগজ যেমন ফিন্যাল ফরমালডিহাইড ইত্যাদি। স্ট তৈরি করে একটি মাটির কাঠের বা ধাতব পাত্রে প্রথমে কিছু মেথিলেটেড স্পি্ইড দিতে হবে এরপর এর মধ্যে পরিমাণ মতো ভিজিয়ে ডুবিয়ে রাখতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যে গালা স্পিইড গলে যাবে। গালা গুলোকে তাড়াতাড়ি। গলাতে চাইলে একটি কাঠি দিয়ে সেগুলোকে স্পিডে নাড়ানো যেতে পারে প্রয়োজনে সামান্য তাপ দিয়েও করা যায়।এই তরল আঠা দ্রবণে নরম কাপড় কিংবা তোলা দিয়ে কাঠের আসবাবপত্রের সমভাবে মুছে নিতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে কয়েকবার পড়বে। আপনি যদি চান স্পিড ভার্নিশের ফর্মুলা তৈরি করবেন তাহলে এর কিছু উপাদান সম্মিলিত বিষয় পরীক্ষামূলকভাবে প্রস্তুত করার জন্য নিম্নে দেওয়া হল:

    চাঁচ-গালা                      ৯০ কেজি
    টারপিনটাইন অয়েল ৩.৫কেজি
    মেথিলেটেড স্পিরিট  ৩৬০ লিটার 

শেষকথা:রঞ্জক পদার্থ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে মানুষ আধুনিককাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম রঞ্জন ব্যবহার করে বস্তুকে আকর্ষণীয় করে থাকেন। রঞ্জক পদার্থের মাধ্যমে কাপড় কাগজ কাঠ ইত্যাদি রঙিন ও সুরক্ষিত রাখা হয়। শুধু বস্তুকে সুন্দরী করে না বরং টেক সকারে। ভানির্শের ব্যবহার বর্তমান শিল্পায়নের যুগে তার সাথে রঞ্জক পদার্থ ও পেইন্ট বেশ বেড়েই চলেছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।