শিশুদের নিউমোনিয়া

শিশুদের নিউমোনিয়া কি, এর লক্ষণ কারণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত তথ্য জানুন। কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন শিশুর খাবার তালিকা ও বাংলাদেশের নিউমোনিয়া নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও আলোচনা।

পেজ সূচিপত্র:আমরা নিচের ব্লক পোষ্টের মাধ্যমে শিশুদের নিউমোনিয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করব। যা মূলত সতর্কতামূলক।
শিশুদের নিউমোনিয়া কি:শুরুতেই আমরা জানার চেষ্টা করি যে শিশুদের নিমনিয়া আসলে কি? নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি সংক্রমণ জনিত রোগ। মানুষের দেহে যে ফুসফুস আছে তা দেখতে উল্টো গাছের মতো। যার শেষ সংসদে অ্যালভিওলাই বলে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণু দ্বারা এই নিউমোনিয়া হতে পারে। যদি আপনার শিশু নিউমোনিয়া হয় তবে প্রাথমিকভাবে এই লক্ষণগুলো আপনি শিশুর মাঝে দেখতে পাবেন। যেমন-

* জড়
* কাশি
* বুক দেবে যাবে

অনেক শিশু ঘুমাতে চাইবে না খেতে চাইবে না আবার কান্নাকাটি করবে। তাই এ বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকা অতীব জরুরী।
নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ: শিশুদের নিউমোনিয়াটি মারাত্মক রোগ। যা ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উভয়ের কারণে হয় তবে এর কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে যার মাধ্যমে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন। লক্ষণগুলো হলো-

জ্বর বেড়ে যাওয়া
দ্রুত কষ্ট করে শ্বাস গ্রহণ করা
বুকের ভেতর কাশিসহ ব্যথা অনুভূত হওয়া
শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
ক্ষুধা মন্দা

শৈশব নিউমোনিয়ার বিভিন্ন ধরন: শৈশব নিউমোনিয়া বিভিন্ন ধরনের হয় তার মধ্যে বিভিন্ন কারণ আছে। ভাইরাল নিউমোনিয়া শ্বাস যন্ত্রের ভাইরাস দ্বারা তৈরি হয়। এটি যদিও সাধারণ তার পরেও তা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া স্ট্রোপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। আমাদের দেশে শিশুর তরল খাদ্য গ্রহণ করার সময় যদি বমি করে দেই যা ফুসফুসেবা সংক্রমের দিকে প্রচলিত করে। আবার কিছু কিছু নিউমোনিয়া আছে যা জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট। দেশের বেশিরভাগ মানুষ তাদের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে আসলে প্রকাশ করে ফলে ছত্রাকের দ্বারা সংক্রমিত হয়ে দুর্বল শিশুরা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়।
নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসা: সাধারণত একটি কোর্স দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বেশিরভাগ ভাইরাল নিউমোনিয়া নিজেই নিজেই সেরে যায়। এর জন্য চিকিৎসার দরকার হয় না। তবে ছত্রাক জনিত নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সাথে চিকিৎসা নিতে হয়। আর ওষুধ সেবন করতে হয়। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক কিছু বিষয় মনে রাখতে হয়। বিষয়গুলো হলো-

☞ শ্বাস-প্রশ্বাসের
☞ আইভি তরল
☞ অক্সিজেন থেরাপি
☞ সিনেমা অপসারণ।

নিউমোনিয়া প্রতিরোধ: নিউমোনিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন আপনার টিকা নিতে পারেন নিউমোনিয়া প্রতিরোধের সবথেকে কার্যকরী উপায় এটি। তবুও একজন নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীকে প্রতিদিন সতর্কতার সাথে জীবন যাপন করতে হয়। নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন দুই ধরনের হয় এ ভ্যাকসিনগুলো সব ধরনের নিউমোনিয়া ঢুকে কমাতে পারে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন দুটি হল PNUMOVAN123 এবং PREVNOR.
শিশুর খাবার তালিকা: নিউমোনিয়া রোগের সাথে লড়াই করতে দরখাসম খাবার। শক্তির আগে তাই দরকার যোগান। কি খাওয়া উচিত তা নিম্নে দেওয়া হল।

* সহজে হজম হবে এমন প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় খাবার
* প্রতিদিন দুধ খাবেন এবং তা গরম করে
* নারিকেলের পানি তাজা রস এবং বাটা ও ঘোল খাবেন
* সবুজ শাক
* গরম সুপ ও টক দই।

কোনটা খাবেন না-ঠান্ডা পানি, ঠান্ডা খাবার, এবং পানির সাথে অতিরিক্ত লবণ আপনার শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
মেডিকেল জটিলতা: শিশুদের নিউমোনিয়া একটি মারাত্মক রোগ। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ অসচেতনতার কারণে তাদের শিশুদের নিউমোনিয়া সম্পর্কে তেমন বুঝতে পারে না। কারণ নিউমোনিয়া শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাসে বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এর সাথে আছে ব্যাকটেরিয়া। এমনকি চিকিৎসার পরেও যারা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন তারা বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যায় পড়তে পারে। সম্ভাবনা থাকে। ফলে অঙ্গের কাজ করা ক্ষমতা কমে যায় অনেক সময় অঙ্গ বিকলঙ্গ হয়ে যায়। আমাদের দেশে এতে করে শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে ফলে তাকে ভেন্টিলেটরের দরকার হতে পারে। নিউমোনিয়া হলে ফুসফুসের চারপাশের তরল জমা হবে। সংক্রমিত হলে বুকের টিউব বা অপারেশনের মাধ্যমে তার ঠিক করা যেতে পারে। ফুসফুসের ভেতরে পোড়া হতে পারে যা সুচ দিয়ে বের করা হয়।
আপনি আপনার সন্তানকে নিউমোনিয়া থেকে বাঁচতে বিভিন্ন ধরনের টিকা দিতে পারেন এছাড়া ভ্যাকসিনও পাওয়া যায়। আপনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন আপনার শেষ টিকা নেওয়ার পর থেকে নির্দেশিকা বদল হয়েছে শিশুদের টিকা নিষ্ঠা করতে হবে যে শিশুদের বয়স দুই থেকে পাঁচ বছর তারা উচ্চ ঝুঁকিতে আছে তাদের নির্দিষ্ট টিকা নিতে হবে। তার সাথে শক্তিশালী ইউনিয়ন সিস্টেম বজায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:
কখন ডাক্তারের কাছে যাব: নিউমোনিয়াটি মারাত্মক রোগ। শিশুকে সবসময় পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। আর নিচের উপসর্গ গুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

✔ অবিরাম জ্বর
✔ শ্বাস নিতে অসুবিধা বা ঘুমে ঘর ঘর শব্দ করা।
✔ ঘর শক্ত হওয়া
✔ তরল জাতীয় খাবার পান করতে সমস্যা হওয়া
✔ হঠাৎ অতিমাত্রায় অলস হয়ে যাওয়া।

আপনার প্রিয়জনের স্বাস্থ্য সচেতন ও সতর্কতা থাকা দরকার। আপনার নয়নের মনি র যত্ন আপনাকে প্রশান্তি দিবে। তবে যদি আপনার বাচ্চা গুটিয়ে যায় তবে চাপ নিবেন না। প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন। ডাক্তারের নির্দেশ গুলো মানুন। বেশিরভাগ শিশুর এই ধরনের সমস্যা দুই থেকে চার সপ্তাহের চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে যায়। তাই সে বিষয়ে চিন্তার কোন কারণ থাকে না।
শেষ কথা এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এখানে দেওয়া তথ্য কোনভাবেই পেশাদার চিকিৎসা করে পরামর্শ রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নেই।শিশুদের নিউমোনিয়া বা যে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।লক্ষণ কারণ কিংবা চিকিৎসা ব্যক্তির ভিন্ন হতে পারে। তাই উল্লেখিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে নিজ নিজ ঔষধ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এরকম স্বাস্থ্য বিষয়ক টিস পেতে আমাদের চ্যানেলটিকে ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।