পুকুরে মাছ চাষ পদ্ধতি
পেজ সূচিপত্র:আমরা নিম্নের ব্লক পোষ্ট থেকে মাছ চাষ বিষয়ে যা জানতে পারবো তা
আলোচনা করা হলো।
পুকুর নির্বাচন: কুকুর নির্বাচন এবং পুকুর প্রস্তুতি তার সাথে ব্যবস্থাপনার ওপরে মাছ চাষের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। আমাদের দেশের সারা বছর পানি থাকে অথবা মৌসুমী পুকুর এই দুই ধরনের পুকুরে মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। পুকুরের আয়তন ১ থেকে ৪ বিঘা এর মধ্যে হলে সব থেকে বেশি ভালো। তবে এর চেয়ে ছোট বা বড় আকারের পুকুরে মাছ চাষ করা যায়। তাই পুকুর থেকে আগাছা মুক্ত ও খোলামেলা এবং তার সাথে বন্যা অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ বন্যার পানি ঢুকে মাছ এবং পুকুরের অনেক অংশে ক্ষতি করে থাকে। পুকুরের গভীরতা তিন থেকে ছয় ফুট হওয়া দরকার। বছরে পাঁচ থেকে ছয় মাস পানি থাকে এমনটুকু নির্বাচন করতে হবে। কারণ পুকুরপাড়ে বড় ধরনের গাছপালা বা গাছের পাতা পানিতে পড়তে পারে এ জাতীয় গাছ না থাকাই ভালো। পুকুরে বড় গাছ থাকলে বা গাছের পাতা পুকুরের পানিতে পড়লে পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হতে সমস্যা হয় এতে মাছের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এতে গাছের পাতা পানিতে পচে পানির স্বাভাবিক গুনাগুন নষ্ট করা সব উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। আমাদের দেশে সাধারণত দোয়া এবং কাদাযুক্ত তার সাথে ১০ মাঠে পুকুরের জন্য উত্তম। মাছ চাষ করার জন্য বাঞ্ছনীয়। সব দিক থেকে পুকুর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এবং মাছ চাষের সুবিধার জন্য যদি আপনার বাড়ির পাশে হয় তাহলে সেটা হবে আপনার জন্য সোনায় সোহাগা।
পুকুর প্রস্তুতি: া আসুন আমরা জেনে নিই যে মাছ চাষের জন্য প্রকল্প প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া প্রয়োজন। কারণ মাছ চাষের অনেক কিছুই পুকুর প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে। পড়া মরে অবশ্যই পুকুরকে ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে। এটা পূর্ব শর্ত। মাছের শারীরিক বৃদ্ধির জন্য পুকুরে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রাকৃতিক খাবার যেন থাকে সে ব্যবস্থা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। পুকুর প্রস্তুত কালে বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে যেমন জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ রাক্ষসীমা এবং অবাঞ্ছিত প্রাণীর দমন চুন ও সার প্রয়োগ ইত্যাদি অবশ্যই প্রয়োজন।
জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণ: পুকুরে অপ্রয়োজনীয় আগাছা থাকলে মাছ চাষ হবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম অন্তরায় সৃষ্টি হয়ে থাকে। মাছেরে চলাচলে অসুবিধা তৈরি করে ও মৎস্য ভোগ প্রাণের স্বীকার করার একটা সুযোগ তৈরি করে দেই। তাই জলজ আগাছা মাটির পানির মৌল উপাদান অর্থাৎ পুষ্টিগুণ গ্রহণ করে এবং মাটি ও পানিকে অনুর্বর করে দেই। এতে করে পুকুরে প্রয়োজনীয় পরিমাণে মাছের খাদ্য জন্মাতে পারেনা। ফলে পুকুরে শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ, ভাসমান উদ্ভিদ লতা উদ্ভিদ নিম্নজ্জমান উদ্ভিদ জাতীয় জলজ আগাছা জন্ম এবং অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে যা মোটেও মাছ চাষের জন্য হতে দেওয়া উচিত না। জলজ আগাছার মধ্যে সাধারণত কচুরি-পানা, কলমি লতা, হেলেঞ্চা, ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়। যা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সূর্যের আলো পুকুরের পানির খাদ্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আগাছা পুকুরের পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই সকল প্রকারের জলজ আগাছা শিকড় সহ নির্মূল করতে হবে। বিশেষ করে তন্তু জাতীয় শ্যাওলা পুকুরে থাকলে তা পরিমিত পরিমাণে দুধ ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে অন্যথায় আগাছা কেটে পুকুর থেকে টেনে তুলতে হবে।
রাক্ষসের মাছ ও ক্ষতিকারক প্রাণী অপসারণ: পুকুর শুকানোর মাধ্যমে যেমন মলা বোয়াল, চিতল, সোল, গাজার, আইর, তাকে ইত্যাদি মাছ এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু মাসের মধ্যে আসে মলা চান্দা চেলা-পুটি ইত্যাদি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে হবে। তাছাড়া মাছের জন্য ক্ষতিকর অন্যান্য প্রাণী যেমন সাপ, বাঙ, বেজি কাঁকড়া ইত্যাদি মেরে ফেলতে হবে। আপনাদের সুবিধার জন্য আরেকটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে পুকুর শুকানোর কাজ শুকনো মৌসুমী করা উচিত। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর পুকুরের তলার মাটি ন্যূনতম ৭ দিন পরে আবার রোদে শুকাতে দিতে হবে। এরপরে যদি অতিরিক্ত কাদা থাকে তাহলে কিছু কাঁদা তুলে ফেলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারপর মাটি শুকানো হয়ে গেলে পুকুরের তলায় চাষ দেওয়ার দুই তিন দিন পর প্রয়োজনীয় পরিমান পানি অপেক্ষায় থাকতে না হয়।
কোন কারনে যদি আপনার পুকুর শুকানো সম্ভব না হয় তাহলে পুকুরে থাকা পানি টেনে ফেলতে হবে বা বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে রাক্ষসে রাক্ষসের মাছ এবং ক্ষতিকারক প্রাণীকে দমন করতে হবে।
চুন প্রয়োগ: পুকুরে মাটি ও পানি অম্ল ও দূষণমুক্ত করা মাসে রোগ ও জীবাণু পরজীবী ধ্বংস করতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পানিতে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে অর্থাৎ পুকুরে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য চুন প্রয়োগ করতে হবে। এটা মূলত পুকুরের প্রোটেকশন হিসেবে কাজ করে। পুকুরের মাটি ও পানের গুনাগুনের উপর চুনের সঠিক মাত্রা নির্ভর করে। তাই পুকুরের তলদেশের শুকনো অবস্থায় পাথরের চুন ঘোড়া করে শতকের প্রতি এক কেজি হারে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। ১০ কেজি ৪.৫ কেজি আবার আবার ছয় দশমিক পাঁচ হলে দুই কেজি করে প্রতি শতকে প্রয়োগ করতে হবে। কারণ চুন প্রয়োগের দুই তিন দিন পর পুকুরে পানি সরবরাহ করতে হয়। পানির শুকনো না হলে পানি ভর্তি পুকুরে একই ঘরে চুন পানিতে মিকচার করে সারা পুকুরে ঢালু পাড় সহ ছিটিয়ে দিতে হবে।
সার প্রয়োগ: পুকুরে মাছের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীজ জাতীয় প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাংটন জন্মানোর জন্য পুকুরে জৈব এবং অজৈব সার প্রচুর পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের দেশের সাধারণত মাছ চাষে জাতীয় রাসায়নিক খাবার বেশি প্রয়োগ করে থাকেন। আবার অনেকে আছেন শুধুমাত্র পুকুরে জৈব সার হিসেবে গোবর ব্যবহার করেন যাতে মাছের স্বাদ তেমনভাবে পাওয়া যায় না। তাই মাছ চাষের জন্য জৈব ও অজৈব সার অপরিহার্য। বিশেষ করে চুন প্রয়োগের চার পাঁচ দিন পর স্যার প্রয়োগ করতে করা যেতে পারে।
বিষক্রিয়া পরীক্ষা: আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি পুকুরে কিভাবে সার প্রয়োগ করলে মাছ চাষের ক্ষেত্রে সফল হওয়া সম্ভাবনা আসে। তাই প্রথমে পানিতে বিষক্রিয়া থাকলে পোনা মারা যাবে তাই সঠিক ফলাফল পাওয়া সেখানে নাও যেতে পারে। তাই পোনা ছাড়ার আগে পানির বিষক্রিয়া পরীক্ষা করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে যেকোনো পাত্রে পোনা রেখে কিনবা পুকুরের পানিতে কাঁপা স্থাপন করে কিছু পোনা ছেড়ে না হলেও ২৪ ঘন্টা রাখার পর যদি পোনা মারা না যায় তাহলে সেই পুকুরে পোনা ছাড়া ব্যবস্থা আপনি নিতে পারেন। তবে পোনা ছাড়া আগের দিন পুকুরে দুই তিনবার জল টেনে নেওয়া যেতে পারে।
পোনা মজুদ: পানি ও মাটির গুনাগুনের উপর নির্ভর করে সঠিক মাত্রায় যদি উন্নত মানের পোনা মজুদের পরে মাছ চাষের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল তাই সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যদি কোন ব্যক্তি এক একক ভাবে মাছ চাষ করে থাকেন সেক্ষেত্রে তিন বা পাঁচ ইঞ্চি আকারের পোনা নির্বাচন করাই সবথেকে ভালো। ছোট আকারের পোনা মজুদে উনার মৃত্যুর হার বেশি হবে এবং আশা অনুযায়ী ফল মাছ চাষের ভাইগণ নাও পেতে পারেন। তাই সার প্রয়োগের ৮-১০ দিন পর প্রাকৃতিক খাদ্য সঠিক পরিমাণে পুকুরের পানিতে দেওয়া থাকলে প্রতি শতাংশ পুকুরের মোট 30 থেকে চারা প্রণাম মজুদ করা যাবে। তবে এর মধ্যে রুই ১০ থেকে ১৫ টি কাতলা ৬-১০ টি, রাজপুটি মাছ পাশ থেকে ছয়টি লাইলনটিকা মাছ ছয়টি শতাংশে আপনি ছাড়তে পারেন। তাই পোনা মজুরের বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী মাছ সকালে ও বিকালে পাড়ের কাছাকাছি ঠান্ডা পরিবেশে ছাড়াই উত্তম। আবার অতিবৃষ্টি বা করার সময় পোনা ছাড়া উচিত না। কারণ পুকুরে পোনা বেঁচে থাকার হার বাড়ানোর জন্য পোনা ছাড়ার কারিগরি পদ্ধতি অবশ্যই আপনাকে মেনে চলতে হবে। আপনার কাছে থাকা স্থানের জন্য পোনা পরিবহনের ক্ষেত্রে মাটির হাড়ি। বা আমাদের দেশে যে ধরনের হাঁড়িতে রান্নাবান্না করা হয় বড় জাতের হাঁড়িগুলো পোনা পরিবহনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যে দূরবর্তী স্থানে পোনা পরিবহনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম অক্সিজেনযুক্ত ব্যাগে পোনা নিয়ে যেতে হবে। পুকুরের পোনা ছাড়ার সময় পোনা ভর্তি ব্যাগ বা পাতের অর্ধেক অংশ পুকুরের পানিতে 10 থেকে 15 মিনিট ডুবিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর ব্যাগ বা পাত্রের মুখ খুলতে পারেন। তারপর পাত্র বা ব্যাগের পানি বের করে পুকুরের পানে ভেতরে ঢুকে উভয় পানের তাপমাত্রা সমান করার চেষ্টা করবেন। যখন পাত্রটির ভেতরে এবং পুকুরের পানির তাপমাত্রা সমান করতে পারবেন তখন পুকুরের যে ব্যাগ বা পাথরটিকে রেখেছেন তা উল্টে দেবেন দেখবেন মাছগুলো আপনা আপনি পুকুরের পানিতে চলে যাচ্ছে।
পোনা মজুদ পরবর্তী সার প্রয়োগ: যদি আপনার পুকুরে পোনা মাছ মজুদের পর সপ্তাহের মধ্যে নিয়মিতভাবে সার প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে ভালো। এক্ষেত্রে জৈব সার যেমন গোবর প্রতি 15 দিন এ না হলে এক কেজি অথবা হাস মুরগির বিশটা ৫০০ গ্রাম হারে পুকুরের প্রয়োগ করতে পারেন। তাছাড়া প্রতি শতাংশই ইউরিয়া ৪০ গ্রাম দিবেন তার সাথে একটি বিশ্রাম এবং পাত্রের সাথে মিশিয়ে না হলেও ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে রোদের সময় গলানো ছাড়া পুকুরে ছিটিয়ে দিতে পারেন।
আপনাদের অবগতির জন্য একটি বিষয় বলে রাখা প্রয়োজন যে পুকুরের পানি যদি বেশি সবুজ রং ধারণ করে তবে সার প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবেন। কারণ মেঘলা বৃষ্টি দিনের সাহার প্রয়োগ করা যাবে না।
মাসের খাদ্য: মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাছের খাদ্য সাধারণত দুই রকমের হয়।
ক. প্রাকৃতিক খাদ্য: উদ্ভিদ কণা অর্থাৎ জলাশয়ের প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সবুজকণা তৈরি হয় যা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এগুলোর মধ্যে যেমন থাকে শ্যাওলা, ফেকাস নষ্ট, আনা বিনা ইত্যাদি। আবার প্রাণীকুলার মধ্যে জলাশয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় যেমন ময়না ফেলিমিয়া রুটিফার ইত্যাদি।
এইসব প্রাকৃতিক খাবার জলাশয় প্রাকৃতিকভাবে জন্মগ্রহণ করে থাকে। তবে বেশি করে জন্মানোর জন্য স্যার প্রয়োগ করতে হয় কারণ প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়া মাছ খুব দ্রুত বড় যেমন হয় তার সাথে তা খেতেও সুস্বাদু লাগে। যার কারণে বাংলাদেশের বিল জাতীয় এলাকায় মাছগুলো খেতে প্রায় সুস্বাদু লাগে। । পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য আছে কিনা বোঝার পদ্ধতি হচ্ছে কাচের একটা গ্লাসে পুকুরের স্বচ্ছ পানি নিয়ে সূর্যের আলোর দিকে ধরে দেখা যাবে কিনা। দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুকুরের পানির রং হালকা সবুজ বাদামী রঙ দেখা গেলে বুঝতে হবে প্রাকৃতিক খাবার আসে। তাই যদি প্রাকৃতিক খাবারই যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে মজুদ করা মোট ওজনের ২ থেকে ৫% সম্পূরক খাবার খাদ্য হিসেবে দিতে হয়।
খ. সম্পূরক খাদ্য: পুকুরে উৎপাদন হওয়া প্রাকৃতিক খাবারের অভাব হলে মাছ দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি করতে প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি সম্পরক খাবারের সরবরাহ করা একান্ত প্রয়োজন। মাছ ছাড়ার পরের দিন থেকে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে মজুদ করা মাসের মোট শরীরের ওজন শতকরা 5 থেকে 6 ভাগ হবে সম্পূরক খাবার যদি প্রয়োগ করা হয় তাহলে। তবে এই কথা মনে রাখতে হবে যে প্রতি ২০ কেজি মাছের জন্য না হলে এক কেজি খাবার পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে। আর প্রতি 15 দিন বা এক মাস অন্তর অন্তর একবার করে পানি টেনে কিছু মাছ ধরে বের করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে মোট ওজনের ওপর সেই হারে আপনি আপনার পুকুরে তারপর থেকে মাসের খাবার দিতে পারবেন আপনার জন্য ব্যবসায়ী ক্ষেত্রে লাভজনক হবে।
সম্পূরক খাদ্য তৈরি নিয়ম: আপনাকে আসুন আমরা এবার জানার চেষ্টা করি সম্পূর্ণ খাদ্য তৈরি ক্ষেত্রে কিছু নিয়মাবলী। আপনি ফিস মিল ১০% চালের গুড়া 53% খনিজ মিশ্রণ ০.৫% সরিষার ৩০.৫০% তার সাথে মেপে একটা তৈরি করতে পারেন। এবার পানি দিয়ে তা তৈরি করে প্লেট মেশিন দিয়ে ছোট ছোট বড়ি বানাবেন এতে তার শুকিয়ে মাছকে খেতে দিতে আপনার জন্য সুবিধা হবে। আপনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময় সম্পূরক খাদ্য দিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে খাদ্যগুলো পুকুরের পানির নিচে যেন গভীরতা যেতে পারে। আবার ভাসমান খাদ্য দিলে খাবার অপচয় অনেকাংশ কম হয়। আমাদের দেশের ভাইয়েরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষের ক্ষেত্রে ভাসমান খাবার দেওয়াটাকে বেশি পছন্দ মনে করেন। কারণ ভগবান খাবার দিলে খাবারের অপচয় কম হয় আর সম্পূরক খাদ্য দিলে মাছের খাদ্যের অভাব দূর হয় এতে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া তো পাপ না ক্ষতিপনা কলাপাতা নেপিয়ার জাতীয় নরম ঘাস পাতা ইত্যাদি প্রতিদিন লবণ পানিতে মিশিয়ে সকাল বিকাল যদি আপনার আয়তাকার পুকুরে সরবরাহ করতে পারেন তবে তা উত্তম বলা যেতে পারে।
অন্যান্য পরিচর্যা: কুকুরের পানি ও মাটি বিভিন্ন ভৌত এবং রাসায়নিক উপাদানের উপর ভিত্তি করে পুকুরের সার ও খাবার দিতে হবে।, কারণ মাছের শারীরিক বৃদ্ধি স্বাস্থ্য ও রোগবালয় পরীক্ষা করার জন্য প্রতি মাসে না হলে একবার পানি টেনে নমুনা দেখা দরকার হঠাৎ সামগ্রিক অবস্থা আপনাকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আপনি পানিতে দ্রবীভূত করা অক্সিজেন পিএইচ কার্বন ডাই অক্সাইড ও প্লান্টনের পরিমাণ সঠিকভাবে নিয়মিত পরিমাপ করে দেখবেন। মাছ ধরে আবার পুকুরে ছাড়ার আগে আপনাকে বিশ লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম পটাশ কিংবা বিশ লিটার পানিতে এক মুঠো লবণ পানির দ্রবীভূত করে একবার দুই মিনিট মিটার করে দেওয়া উচিত।। কোন রোগ বালাই যদি তখন দেখা দেয় তাহলে আপনি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে পারবেনঅ ঠাকুরের পানির ওপর ঘনলাল স্তর পড়লে তা কলা গাছের পাতা পেঁচিয়ে পানির উপর দিয়ে ভাসমান অবস্থায় ট্রেনের এক জায়গায় কাপড় দিয়ে তুলে ফেলতে পারেন। সকালের দিকে বা দিনের অন্য যেকোন সময় যদি বেশি পরিমাণে মাছ পানির উপর ভেসে ওঠে বা খাবি খেতে দেখা যায় তাহলে ধরে নিতে হবে যে পানিতে অক্সিজেনের অভাব আছেG, তখন পুকুরে জাল টেনে বা বাস পিটিয়ে বা সাঁতার কেটে পানিতে ঢেউ সৃষ্টি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ আপনি বাড়াতে পারবেন। যদি কয়েক দিন ধরে মেঘলা আকাশ থাকে তাহলে মাছের এই অবস্থা হতে পারে তাই পুকুরে মাছ খাবি খাওয়া অবস্থায় সাময়িকভাবে সার এবং খাবার প্রয়োগ করা আপনাকে বন্ধ রাখতে হবে।। বাইরের দিকের বিষাক্ত পানি যেন পুকুরে কোন অবস্থাতে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে তাছাড়া পুকুরের তন্তু জাতীয় শ্যাওলা ও অন্যান্য আগাছার পরিমাণ বেড়ে গেলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন মাছ মারা যাবে। তাই তন্তু জাতীয় শ্যাওলা ও জলজ উদ্ভিদ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।
মাছ আহরণ ও ফলন: সময় মত মাছকে ধরা এবং তাকে বাজারে বিক্রয় করা ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ আপনাকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। তাই অপেক্ষাকৃত কোন বড় আকারের বিকৃত মাস ধরে আপনার প্রয়োজন। তবে কিছু মাছ আরোহন পদ্ধতিতে মাছ ধরে নেয়ার পর আরোহনকৃত মাসের সংখ্যা পূরণ করার জন্য বড় আকারের সমান পরিমাণ ছাড়তে হবে। তাই এভাবে যদি আপনি মাছ চাষের চেষ্টা করেন তাহলে বলা যায় যে আপনি মাছ চাষের ক্ষেত্রে লাভজনক একটা ফলন পেতে পারেন।
মাছ চাষে লাভ কেমন: সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের জনসংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর একটুও বর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তাদের আমিষের চাহিদা প্রচুর গুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত কয়েক দশকে চাষের অধীনে মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারের বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশে মাছ চাষে একটি উত্তম অবস্থায় উন্নত হয়েছে। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজ বা মাদ জাতীয় চাষের সাথে জড়িত। তাই দেশের বিদ্যমান আমি সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে এই মাছ। তার সাথে বেশি ঘনবসতীর দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের বাজারে মাছের বিপুল চাহিদা যেমন আছে তেমনি গ্রামীন বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের অন্যতম উত্তম মাধ্যম হচ্ছে পদ্ধতি। কারণ এখানে স্বল্প পুঁজিতে লক্ষাধিক টাকা আয় করা যায়। তাছাড়া আমাদের দেশের আবহাওয়া মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত তার সাথে এখানে মাছ চাষের জন্য যে ধরনের প্রাচুর্যতা আছে এবং যে পর্যায়ে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেভাবে মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ করছে তাতে লাভজনক হওয়াটাই শ্রেয়। গ্রাম পর্যায়ে মাছ চাষের আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাছাড়া আমরা মাসে ভাতে বাঙালি। বাংলাদেশ ে অনেক মানুষ তাদের নিত্য পারিবারিক চাহিদা এই মাছ চাষের মাধ্যমে করে থাকে এবং তারা সচ্ছলভাবে তাদের নিত্য জীবিকা নির্বাহ করে।
শেষ কথা: এই ব্লগ পোস্টের পুকুরে মাছ চাষ পদ্ধতি, মাছ চাষের নিয়ম, পোনা মজুদ ও খাদ্য বিষয়ে তথ্যগুলো অভিজ্ঞতা গবেষণা ওনির্ভরযোগ্য উত্তর ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন ও পুরাতন চাষী ভাইদের জন্য এটি একটি সহায়ক গাইড হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে মাছ চাষের সফলতা নির্ভর করে পুকুরের পরিবেশ আবহাওয়া পানির গুনাগুন, মাটির ধরন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপরে। তাই বাস্তবে এর ফলাফল ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। তবে উল্লেখিত পদ্ধতি প্রয়োগ করার আগে নিকটস্থ মৎস্য বিশেষজ্ঞ বা সরকারি মৎস্য অফিসারে পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। এখানে এই কন্টেন্টে অনুসরণ করে কোন ধরনের আর্থিক ক্ষতি উৎপাদন বা অন্যান্য বিষয়ক সমস্যায় ওয়েবসাইট এর জন্য দায়ী থাকবে না। ভাই ভালো থাকবেন সবসময় ধন্যবাদ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url