রেল ভ্রমন অভিঞ্জতা

এই ব্লগ পোস্টে আমি আমার ব্যক্তিগত রেল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কিছু অংশ তুলে ধরেছে। ট্রেনের যাত্রা পথ প্রাকৃতিক দৃশ্য ট্রেন পরিবর্তন ও তাদের পরিচয় স্মৃতি মুহূর্তগুলো পাঠকের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে রেলপথকে বাস্তব ভাবে অনুভব করার জন্য এবং ৯০ দশকে অনুভব করার জন্য তা পড়ুন।


পেজ সচিপত্র: আমরা নিম্নের ব্লক পোস্ট থেকে রেল ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা কেমন হয় সে বিষয়ে জানব।
রেল ভ্রমণের সুযোগ: আমাদের অনেক জায়গায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে। সে ক্ষেত্রে আমরা বাসভবন কে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলাম কিন্তু রেল ভ্রমণের তেমন কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। কারণ আমার নিজস্ব উপজেলায় এখনো তেমন কোন রেললাইন এর সংযোগ নেই ফলে বাঁশি একমাত্র উপায়। কিন্তু আমার ছোটবেলা থেকেই পেলে ভ্রমণের প্রতি একটা দুর্বলতা থেকে শামসুর রহমানের একটি ছড়া বেশ মনে পড়ে।     
                                       ঝক, ঝক,ঝক ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে ওই।
                                        ট্রেন চলেছে ট্রেন চলেছে ট্রেনের বাড়ি কই?

আমি বিভাগীয় শহরে থাকি। তাই কান পাতলা শুনতে পেতাম তীব্র হুইসেল বাজিয়ে ঝিরঝির শব্দ তুলে চলে যাচ্ছে ট্রেন। আমার অনেক বন্ধু আছে যারা শরৎকালীন ছুটিতে ঢাকা থেকে সিলেটে রেল ভ্রমণ করেছিল তাদের ভ্রমণ ছিল প্রায় ২০০ মাইলের মতো। একদিন সেই স্বপ্নের রেল ভ্রমণের সুযোগ এসে গেল। তখন গ্রীষ্মের ছুটি। আমাদের স্কুল বন্ধ তাই নানার বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলাম। প্রতিবেশীর অনুষ্ঠানের উপলক্ষে আমরা সপরিবারে গ্রামে যাব ট্রেন যোগে।

যাত্রার বিবরণ: সকল আটটায় স্টেশনে গিয়ে দুইখানা দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট কিনলাম আমরা গাড়ির অপেক্ষায় থাকলাম। দিনে দিনে বেশি জনসংখ্যার কারণে সেখানে প্রচুর ভিড় দেখলাম আমাদের টিকিট কাটার কিছুক্ষণ পরেই গাড়িটি আসলো। হুইসেলের সব দিবি কটা আওয়াজে। অনেক বেশি যাত্রী থাকার কারণে ঠেলাঠেলি করে আমরা আমাদের কামরায় গিয়ে উঠলাম জানলে ধরে পাশাপাশি আমাদের আসন জোগাড় করে নিয়েছিলাম।

রেল পথের নানান দৃশ্য: গাড়িটা বেশ দ্রুত গতিতে ছোটা শুরু করে একটা হুইসেল দিয়ে। মুহূর্তেই যেন আমাদের স্টেশনটির পেছনে চলে গেল আর যেকোনো বড় স্টেশন আসলে সেখানে কেবল ২-১ মিনিটের জন্য থামা। আমি জানলা দিয়ে বাইরে তাকালাম মনে হল যেন দুই পাশের সব বাড়িঘর এবং গাছপালাগুলো পেছনের দিকে দৌড়িয়ে সরে যাচ্ছিল। ট্রেনটি সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল সবুজ ঘাসের পাশে বাজানো ছিল অনেক গরু যা ঘাস খাচ্ছিল। সবুজ ঘাসের ও বৈশেষের বিন্দু গুলো মুক্তোর মনে মনে হচ্ছিল আমরা দেখতে পেলাম যে কৃষকরা অনেক কাজ করছে আমি খুব ভালোভাবে দৃশ্যটি করছিলাম দৃশ্যগুলোর প্রতিমুহূর্তেই বদলাতে থাকলো। লোকদের রাস্তায় পারাপার হতে এবং ছেলে মেয়েদের এদিক ওদিক ঘুরাতে দেখা গেল নিকটতম গন্তব্য থামলো। আমাদেরকে গাড়ি পরিবর্তন করতে হলো। তখন আমরা আমাদের সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে গেলাম।

ট্রেন পরিবর্তন: আমরা যখন সেই ট্রেনটি থেকে নেমে পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম তখন আমাদের অপেক্ষার সময় ছিল অর্থাৎ বিশ্রাম বিরোধী ছিল প্রায় আধা ঘন্টার মত সেখানে বিভিন্ন রকম বাজার দর দেখতে পেলাম। সিলেটের মেল শীঘ্রই এসে যাবে এমন আমরা বেশ কষ্ট করে গাড়িতে উঠলাম আমাদের সাথে দুপুরের খাবার ছিল এবং আমরা তা খেলাম। ট্রেন আবার মাঠের মধ্য দিয়ে চলতে লাগল মাঠের সুন্দর দৃশ্য বলে আমরা দেখলাম আমি সত্যি মাঠে দৃশ্যগুলি দেখে অবাক হয়েছিলাম এবং মুগ্ধ হয়েছিলাম। এক ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি আমাদের গন্তব্যে পৌঁছল আমরা নিরাপদে বাড়ি গেলাম।
ট্রেনের জানালায় প্রাকৃতিক দৃশ্য: আমি চাই মানুষের বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে রেলপথের একটি অভিজ্ঞতা সে করুক। কারণ রেলপথের আমরা যে দৃশ্য দেখলাম তা বলার নাই কারণ সবুজ শ্যামল গ্রাম বাংলার যে একটি আসলেই চিরজেনা রূপ আসে তার রেল ভ্রমণ না করলে জানা যায় না। আমাদের দেশে বর্তমান অনেক ব্লগার আছেন যারা রেল পথে ভ্রমণ করে থাকেন। আমি রেলপথের বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যের অবুকরণ করি প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি অনেক দৃশ্য আমার কাছে চিত্রপটের মত মনে হয়েছিল সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য আর নদীর কূলে ভেসে বেড়ানো মাঝিদের দেখে সত্যি মনে হয়েছিল যেন কোন স্বর্গীয় অবস্থার খেলা। কারণ আমি এমন দেখলাম যে ট্রেনের যাত্রীরা কেউ কেউ কথা বলছে কেউ আড্ডা। আমার বোন ট্রেনের অপরূপ দৃশ্য দেখার সাথে সাথে হঠাৎ একটা চাওয়ালা বিশেষ ভঙ্গিতে এসে পরিচয় চা গরম চা গরম আর ট্রেন চলছে ছন্দ তুলে।

স্মরণীয় একটি দিন: আমার কাছে রেল ভ্রমণ ছিল একটি স্মরণীয় দিনের মতো।। কারণ বর্তমান কর্মব্যস্তময় জীবনে ঠিক সেইভাবে কোন জায়গায় গ্রহণ করা হয় না। তাই রেল ভ্রমণ আমার কাছে রেল ভ্রমণ যেমন একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল তেমনি তা আমাকে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে। ট্রেনের সারি সারি বগি গুলো যখন রেললাইনের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল তখন মনে হল কোন সরুপথ কোন নাথামা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলে এসে যার হয়তোবা শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। আমাদের দেশের যারা ট্রেন ভ্রমণ করেননি তারা অবশ্যই কোন অভিজ্ঞতার প্রয়োজনে হলেও একবার ট্রেন ভ্রমন করুন।

দাদুর বাড়ি যাওয়া: গত শীতে আমার স্কুল ছুটি হওয়ার পর আমার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে স্বপরিবারে দাদুর বাড়ি ট্রেনযোগে বেড়াতে যাব। কিন্তু বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতি এবং কর্মব্যস্তময় জীবনের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তাই এবার ঠিক করা হয়েছে যদি সামনে সেরকম কোনো সুযোগ আছে তবে অবশ্যই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। আমি মনে করি যে মানুষের জীবনের আনন্দময় মুহূর্তগুলো একটি হোক রেল ভ্রমণ। কারণ আমি গত যে রেল ভ্রমণটি করেছিলাম তা বেশ উপভোগ করেছি। এই ভ্রমণ আনন্দের কথা আমার অন্তরে চিরদিন থাকবে।

আরো পড়ুন: আমি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপরে রেল ভ্রমণের বিষয় সম্পর্কে লিখেছি এখানে উল্লেখিত ব্যক্তি স্থান এবং ঘটনা সবাই নিজস্ব। আর এখানে এটা বলা হয়েছে তা অন্যের সাথে নাও মিলতে পারে বা তা ভিন্ন হতে পারে। এই কনটেন শুধুমাত্র শিক্ষা এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে বিশেষ করে আমাদের ৯০ এর দশকের একটি স্মৃতিচারণ করা হয়েছে এখানে। তাই এখানে তেমন কোন ব্যক্তি ঘটনা বা স্থানের মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয়। এর জন্য লেখক দায়ী না। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সবসময়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Shahiduzzaman Rahman
Shahiduzzaman Rahman
আমি শহিদুজ্জামান, একজন ডিজিটাল মার্কেটর। “শহিদুজ্জামান আইটি একটি তথ্যবহুল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অনলাইন ইনকাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।