একটি শীতের সকাল
শীতের সকাল সত্যি মনমুগ্ধকর।মাঠ ভরা হেমন্তের ফসল যখন শূন্য ও রিক্ত হয়ে যায়,তখনই শীতের আগমন অনুভব করা যায়।আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনে শীত আসে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে।পিঠা-পুলি আর খেজুর রসের মিষ্টি গন্ধেবাংলাদেশের ঘরে ঘরে শীতের সকাল কে বরণ করা হয়।
শীতের সকালে প্রকৃতি তার এক অচেনা রূপ নিয়ে গ্রাম বাংলার কাছে ধরা দিয়ে থাকে। এ সময় হালকা মিষ্টি খেজুর রস যা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে শান্তি নিয়ে আসে।যদিও শীতের সকাল শহরে গ্রামের মাঝে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায় তবুও তা অনবদ্য।
পেজ সূচিপত্র:মূলত আমরা এই পোস্ট টি পড়ে যা যা জানতে পারবো তা নিম্নে বর্ণনা করা হল:
- শহর জীবনে শীতের অনুভূতি
- নানার বাড়িতে শীতের সকাল
- কুয়াশা ঢাকা গ্রামীণ শীতের সকাল
- শীতের ভোরে প্রকৃতির রূপ
- চিরন্তন বাংলার শীতের ঐতিহ্য
- শহরে থেকেও গ্রামে শীতের স্মৃতি
- শেষ কথা
নানার বাড়িতে শীতের সকাল:গত শীতে আমি নানার বাড়ি ঘুরতে গিয়েছিলাম। বাস, রিক্সা তারপর হাঁটা পথে যেতে যেতে বিকেলে নানার বাড়ি গিয়ে পৌঁছলাম। পরের দিন ভোরে আজানের সাথে সাথে মামা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন।, লেপের ভেতর থেকে চোখ ডলতে ডলতে উঠে দেখি চাদর গায়ে দেওয়া মামা আমার ঠক ঠক করে কাঁপছেন। মামা বললেন, রবিউল চলো গাছ থেকে খেজুর-রস নামাবো। আমি মহা খুশিতে এক লাফে বিছানায় উঠে দাঁড়ালাম।
উঠানে নামটি দেখি আমার প্রাণপ্রিয় নানি মাটির চুলায় ভাপা পিঠা বানাচ্ছেন। চারিদিকে খেজুর রসের মৌ মৌ গন্ধ। আমার জিব্রাইল পানিতে ভিজে এলো। মামার সাথে সাথে বাড়ির বাইরে গেলাম। কুয়াশার চাদরে সবকিছু ঢেকে আছে। পুকুরের হিম শীতল পানিতে নিজের মুখ ধুলাম। তারপর মামার সাথে খেজুর রস নামালাম।
কুয়াশা ঢাকা গ্রামীণ শীতের সকাল:বাড়ির সীমানা গিয়েছে বেশ কয়েকটা খেজুরের গাছ আছে। তাতে এ সময় প্রচুর রস হয়।। মামা খুব সাবধানে কোমরে বাধা টোকাতে ঝুলিয়ে রসে ভরা মাটির কলস গুলোকে একটা একটা করে খুব সতর্কতার সাথে। দিয়ে ছেকে রসগুলো ঢাললেন একটা বড় গামলায়। গ্লাসে ভরে আমাকে দিলেন একগ্লাস কাঁচা খেজুরের রস। আর তা পান করতে আমার ঠান্ডা দ্বিগুণ বেড়ে গেল। আমি ঠক ঠক করে কাঁপতে লাগলাম। মামা আমার অবস্থা দেখে হেসে উঠলেন। গ্রামের পথঘাট কুয়াশার চাদরে ঢাকা। বাঁকা পথে লাঙল জল কাঁধে নিয়ে কৃষক গরুকে সাথে করে হাল চাষের জন্য যাচ্ছে। কুয়াশার মধ্যে দেখা গেল। এ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক সুন্দর মনোরম দৃশ্য।
শীতের ভোরে প্রকৃতির রূপ:পূর্ব দিকে আবির ছাড়িয়ে সূর্য উঠে গেছে ডিমের কুসুমের মতো। সবুজ ঘাসে শিশির গুলো মুক্তার মত লাগছে। খালি পায়ে শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে হাঁটতে গিয়ে আমার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ভিজে গেল। কিন্তু হিমশীতল শিশিরের স্পর্শ পেয়ে আমার মন মহা আনন্দে নেচে উঠলো।
চিরন্তন বাংলার শীতের ঐতিহ্য:যা আজ বাড়ি ফেরার সময় আবার দেখলাম পুকুরে পানি থেকে ধোয়া উঠছে। উঠানের একপাশে তখন রোদ এসেছে। সেখানে পার্টি বিছিয়ে আমার নানি ভাপা পিঠা আর কাঁচা রসের পায়ে খেতে দিলেন।।-অনুভূতি আমি এর আগে আর কখনো পাইনি। চিরন্তন বাংলার সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সাথে উপভোগ করে আমি ধন্য।
শহরে থেকেও গ্রামে শীতের স্মৃতি:শহরের বাসায়, ডাইনিং টেবিলে বসে ডিম মামলেট আর রুটির টোস্ট কিংবা পরোটা ভাজির নাস্তায় সেই স্বাদ কোথায়। আমাদের আবাসিক এলাকায় বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভোরের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে আমি অন্যমনস্ক হয়ে যায়। বাইরে তখন প্রাণের জাগরন শুরু হয়েছে। আমাদের মহল্লার ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুল ড্রেস পড়ে পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। শহরের শীতের সকাল তার মধ্যে সেই গ্রামীণ প্রাণ স্পন্দন যেন আর দেখা যায় না। আমার বুক থেকে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো। মনে হল আজকের এই শীতের সকাল যদি আমি আমার নানা বাড়িতে পাঠাতে পারতাম।
শেষ কথা:শীত আসলে শুধু একটি ঋতু নয় শীত আসলে একটি অনুভূতি।যা শহর ও গ্রামের ভেতর ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখা যায়। শহরের হেল ফেশান এবং যান্ত্রিক জীবনের মধ্যে শীত অনেকটা ম্রিয়মাণ।সেখানে উষ্ণতা থাকে শরীরে হৃদয়ে নয়।আর গ্রাম বাংলার শীত যা কুয়াশায় মোড়া ভোর আর খেজুর এর মিষ্টি স্বাদ,নানির বানানো ভাপা পিঠায় আর মানুষের আন্তরিক উষ্ণ ভালবাসায়।শহরে দাঁড়িয়ে সেই গ্রামীণ শীত অনুভব রেলে বুকের ভেতর হা-হা কার ভাব চলে আসে। হয়তো সময় এবং জীবনের স্রোতে আমরা শহরেই থাকবো কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে চিরকাল জেগে থাকবে -নানা বাড়ির শীতের সেই সকাল।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url