শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
দেশের প্রতি
বছর পাঁচ বছরের কম বয়সে প্রায় এক লাখ শিশু মারা যায়। এর মধ্যে ২৪ হাজারের
মৃত্যু হয় শুধুমাত্র নিউমোনিয়ার কারণে। সারা দেশে এর হার। প্রায় ষোল শতাংশের
মতো। তাই দেশের নিউমোনিয়া সম্পর্কে আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। সারা দেশে 12ই
নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালিত হয় নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণের ফলে হয়ে
থাকে।
মানব দেহের ফুসফুস হচ্ছে একটি উল্টো গাছ যা শাখা -প্রশাখা বিভক্ত আর তা শেষ হয় পাতায়। পাতার অংশকে বলে আলবিওলাই। এই আলভিওলাই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত করে শিশুর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।
পেজসূচি পত্র: এই অধ্যায় থেকে আমরা যা জানতে পারবো
- শিশুদের নিউমোনিয়া কি
- নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ
- শিশুদের নিউমোনিয়া কখন প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে
- কোন শিশুরা নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে আছে
- একটি শিশুর নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণ গুলো কি কি?
- কিভাবে একটি শিশুর মধ্যে নিউমোনিয়া নির্ণয় করা হয়
- শৈশব নিউমোনিয়া বিভিন্ন ধরনের কি কি
- একটি শিশুর নিউমোনিয়ায় সম্ভাব্য মেডিকেল জটিলতা
- নিউমোনিয়া প্রতিরোধের ডাক্তারের সতর্কতা
- নিউমোনিয়া কি প্রতিরোধ করা সম্ভব
শিশুদের নিউমোনিয়া কি: আমাদের দেশের শিশুরা বিশেষ করে
গ্রামাঞ্চলে অল্প কিছু কারণে
নিউমোনিয়ায়
আক্রান্ত হতে পারে। কারণ নিউমোনিয়া হলে শিশুর জ্বর কাশি শ্বাসকষ্ট দ্রুত শ্বাস
নেই এবং বুক ডেভে যায়। তাছাড়া শিশু খেতে পারে না ঘুমাতে পারে না এবং খুব
কান্নাকাটি করে। তখন প্রতি মিনিটে শিশুশ্বাস ৪০ থেকে ৬০বার বেশি হয়।
চিকিৎসক বুকে স্টেথিসকোপ দিয়ে বিশেষ আওয়াজ শুনতে পান।
নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ: রক্ত পরীক্ষা করালে শ্রেষ্ঠ কণিকার আধিক্য দেখা
যাবে। সিআরপি প্রোটিন যাবে। এক্সরে করা হলে দেখা যাবে ফুসফুসের কিছু অংশ সাদা
হয়েছে বলে মনে হবে। তাই যদি এমন দেখা যায় তবে সে ক্ষেত্রে ঘাবড়ানোর কোন কিছু
নেই সঠিক চিকিৎসা করে দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ
গুলো হল:
- শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়
- কাশির সময় ব্যথা
- বুকে ব্যথা
- দ্রুত শ্বাস গ্রহণ শুরু করা
- হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর
- শিশুর মাঝে ঝগড়াটে স্বভাব দেখা যাবে
- শিশুর ক্ষুধামন্দা তৈরি হবে
- তাকে সহজে ক্লান্ত দেখাবে
- বমি বা ডায়রিয়া শুরু হবে
শিশুদের নিউমোনিয়া কখন প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে: শিশুর নিউমোনিয়া হলে তখনই
প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে যখন শ্বাসকষ্ট বুকের খোঁচা ভেতরের কিছু ঢুকে যাওয়া ঠোঁট বা
নখের নীলচে ভাব দ্রুত বা কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ মস্তিষ্কে সংক্রমণ
ইত্যাদি তবে গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে বিশেষ করে দুই মাসের কম বয়সী শিশু
অপুষ্টিতে যদি ভোগে তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বা প্রাণঘাতী বলে ধরা হয় তাই
তাৎক্ষণিক চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হলো।
কোন শিশুরা নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে আছে: বাংলাদেশের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
সব শিশুরাই সাধারণত নিউমোনিয়ার সবচেয়ে সাধারণভাবে শিকার হয় নিউমোনিয়া যুগের
কারণে আসে যা শুধুমাত্র সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।
অর্থাৎ যে সব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল অপুষ্টিতে বুভুগে, টিকা দেওয়া
হয়নি, আর যারা দূষণের শিকার তারাই সব থেকে বেশি নিয়মিনিয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী বা দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত
হয়।
একটি শিশুর নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণ গুলো কি কি: কোন একটি শিশু
নিউমোনিয়ার সাধারণ যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তার নিম্নে দেওয়া হল:
- শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়
- কাশির সময় ব্যাথা হয়
- দ্রুত বা কঠিন শ্বাস গ্রহণ শুরু করে
জ্বর এবং ঝগড়াটে ভাব দেখা যায় তার সাথে তাকে খোদা মন্দা
আপনি যদি উপরের উপশমাগুলোর মধ্যে কোনটি অনুভব করেন তবে সংক্রমণ আরো খারাপ
হওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি প্রয়োজন।
কারণ নিউমোনিয়ার ফলে শিশুদের ফুসফুসের ফোড়া হয়। ফুসফুসের করতে পারে
প্রায় এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যায় এবং কখনো কখনো প্রবেশ করিয়ে তা
নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, হয় যা বেশ জটিল এবং বেদনাদায়ক।
কিভাবে একটি শিশুর মধ্যে নিউমোনিয়া নির্ণয় করা হয়: আমাদের
দেশের চিকিৎসকরা সাধারণত নিউমোনিয়ার জন্য ক্রমাগত কাশি এবং সর্দি সহ শিশুকে
পরীক্ষা করবেন। নিউমোনিয়া নির্ণয়ের সাধারণ উপায় হলো শিশুর চেহারা,
শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ গুলো পরীক্ষা করা। তাই শিশুর
যত্নে তাকে
সরিষার তেল মাখানো প্রয়োজন। আরো নিশ্চিতকরণের জন্য রক্ত পরীক্ষার সাথে বুকের এক্সরে করাও যেতে পারে
শিশুর নিউমোনিয়া নির্ণয়ের জন্য দরকারি অতিরিক্ত উপায় গুলো হলো:
- বায়োস্কপি
- বুকের সিটি স্ক্যান
- পালস অফ সিমেট্রি
শৈশব নিউমোনিয়া বিভিন্ন ধরনের কি কি:শৈশব
নিউমোনিয়া বিভিন্ন প্রকারের হয়। এটির কারণের উপর নির্ভর করে। শৈশব
নিউমোনিয়া শরীরকে কোথায় প্রভাবিত করে এবং এটি কিভাবে দেখা যায়, তার প্রধান
কারণের মধ্যে রয়েছে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণু দিয়ে সৃষ্ট
নিউমোনিয়া যার প্রতিটি নির্দিষ্ট উপায়ে শিশুদেরকে প্রভাবিত করে। ভাইরাস
নিউমোনিয়া শ্বাসযন্ত্রের সাইনসিটিয়াল ভাইরাসের মতো ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট।
এটির সাধারণ এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আবার ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া
হলো স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়ার মত ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্টি। এর
ধরনের আরও গুরুতর হতে পারে এবং চিকিৎসার জন্য এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে।
ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা হয়ে যায় নিউমোনিয়া ফুসফুসর স্তর গুলোর মধ্যে তরল
জমা হতে পারে। সংক্রমিত হলে বুকের টিউব অস্ত্র প্রচারের মাধ্যমে নিষ্কাশনের
প্রয়োজন পড়ে।
একটি শিশুর নিউমোনিয়ায় সম্ভাব্য মেডিকেল জটিলতা: নিউমোনিয়ার সব থেকে
গুরুত্ব ও জটিলতা হলো এক বিশেষ প্রশাসকের বিরূপ প্রভাবিত করে। জীবনকে হুমকিতে
ফেলতে পারে। নিউমোনিয়ার সাথে যুক্ত আরেকটি জটিলতা হল ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক
রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করতে পারে এবং কি চিকিৎসার পরেও নিউমোনিয়া আক্রান্ত কিছু
ব্যক্তি বিশেষ করে যারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তারা জটিলতা সম্মুখীন হতে পারে।
ব্যাকটেরিয়া রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়া রক্ত
প্রবাহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যর্থতার দিকে নিয়ে
যায়। আবার শ্বাসকষ্ট হলে নিউমোনিয়া ফুসফুসের অবস্থাকে খারাপ করতে পারে
অক্সিজেনের গ্রহণের সমস্যা করতে পারে হাসপাতালে ভর্তি এবং পুনরুদ্ধারের জন্য
ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন পড়ে।তাই দয়া করে কেউ সরিষার তেল আক্রান্ত
শিশুর মাথায় দিবেন না।
নিউমোনিয়া প্রতিরোধের ডাক্তারের সতর্কতা: শিশু নিউমোনিয়া প্রতিরোধে
চিকিৎসকরা থেকে শুরু করে ভালো স্বাস্থ্যবিধি পুষ্টিকর খাবার থেকে দূরে রাখা
ইত্যাদি অবলম্বন করেন যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে যৌক্তিকামা এবং সুস্থ
জীবন যাপনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া নিউমোনিয়া
হালকা বা খুব তীব্র হতে পারে যদি এটির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয় তাহলে
চিকিৎসা করা হবে নিউমোনিয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ এবং কয়েক
মাস লাগতে পারে তবে এখানে কোন বিষয় নেই আপনার সন্তানকে সঠিক চিকিৎসা এবং যথাযথ
রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।নিউমোনিয়া আক্রান্ত একটি
বাচ্চার মাথায় সরিষার তেল দেয়া হলে তা কোন প্রকার হয় না বরং সরিষার তেল
এর িএলাইল আইসো থায়োসায়ানেট নামক রাসায়নিক পদার্থ আছে তার সুস্থ
থাকার জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে।
নিউমোনিয়া কি প্রতিরোধ করা সম্ভব: নিউমোনিয়া প্রতিরোধে বেশ কিছু উপায়
আছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
- টিকা নিন: নির্দিষ্ট ধরনের নিউমোনিয়া এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া যায় আমাদের দেশে। আপনার ডাক্তারের সাথে টিকা দেওয়ার বিকল্প নিয়ে আলোচনা করুন যদি প্রয়োজন পরে বিশেষ করে যদি আপনার শেষ টিকা দেওয়ার পর থেকে নির্দেশিকা পরিবর্তিত হয়।
- শিশুদের টিকা দেয়া নিশ্চিত করুন: দুই বছরের কম বয়সী শিশু এবং ২ থেকে ৫ বছর বয়সী যারা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট নিউমোনিয়ার টিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন ফ্লু যদি ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুর জন্য এবং গ্রুপ চাইল্ড কেয়ার সেটিংস এ থাকা শিশুদের জন্য শর্ট গুলি সুপারিশ করা হয়ে থাকে।
- ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করুন: নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা শ্বাসযন্ত্র সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে যা নিউমোনিয়া হতে রক্ষা করে এটি শক্তিশালী ইউনিয়ন সিস্টেম বজায় রাখুন। যাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিয়মিত ব্যায়াম হয় সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সমর্থন করার জন্য একটু সুষম খাবার খেতে পারেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url