তুলসী পাতার বাস্তব জীবনে কার্যকারিতা

আমাদের বর্তমান বিশ্বে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের অগণিত নিয়ামত দিয়ে রেখেছেন।মানব সভ্যতা তাদের সকল প্রয়োজনে তা ব্যহার করে থাকে।তেমনি একটি ভেষজ নিয়যামত হল তুলসী পাতা যা, আমাদের জাগতিক জীবনে মহা মূল্যবান ভেষজ ওষুধ হিসেবে কাজে লেগে থাকে।


তুলসীপাতা প্রায় প্রতিটি বাংলাদেশেী মানুষের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমান বিশ্বে যত গুলো ভেষজ জাতিয় উদ্ভিদ পাতা হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে তার মধ্যে তুলসী পাতার ব্যহার তুঙ্গে বলা চলে।তুলসী পাতা াামাদের দেশের শিক্ষিত ও সচেতন পরিবার গুলো তাদের বিভিন্ন রান্না রেসিপিতে ব্যবহার করে থাকে।

পেজ সূচিপত্র:এই অধ্যায় থেকে আমরা যা জানতে পাবো

বিভিন্ন ধরনের তুলসী পাতা আমাদের সকলের জীবনের জন্য যে সুবিধা গুলো মনয়ে আসে তা জানতে নিচে পড়ুন

 তুলসী পাতার প্রকারভেদ ও কার্যকারিতা:তুলসী পাতা বিভিন্ন প্রকারের হয়।য়েমন:
১. মিষ্টি পুদিনা:মিষ্টি পুদিনা সাধারনত স্পিয়োরমিন্ট যার বৈঞ্জানিক নাম SPEARMITNT . এটি পেপারমিন্টের চেয়ে হালকাও মিষ্টি স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে।মিষ্টি পুদিনার পাতা সহজে চাষ করা যায়।এটির পাতা কাঁচা অবস্হায় চা,শরবত বা অন্যান্য খাবারে বৗবহারকরা যায়।মিষ্টি পুদিনার পাতায় ভিটামিন ”সি” আছে।

২.পবিত্র পুদিনা:পবিত্র পুদিনা বলতে সেই পুদিনা পাতাকে বুঝায় যা অতি প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে ।এটি হজম শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকারি ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩.লেবু তুলসী:আরব ইন্দোনেশিয়া,লাও,মালয় এবং থাই খাবারে প্রধান ভেষজ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।লেবু তুলসী রান্নার স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।লেবু তুলসীতে ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম,আয়রনও তামা থাকে।অনেক দেশে আবার লেবু তুলসী দিয়ে বিভিন্ন রকমের স্বালাদ তৈরী করার হয়ে থাকে।আমাদের বাংলাদেশেও লেবু পাতার ব্যবহার স্লাদ রেসিপিতে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে যথেষ্ট পরিমাণে লক্ষ্য করা যায়।

রক্তের ঘনত্ব হৃাসে তুলসী পাতার ব্যবহার: আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রাম ৈএলাকাতে যারা বসবাস করেন তারা  এই ভেষজ রক্ত পাতলা করতে ব্যবহার করে থাকেন।তবে যারা শুরু থেকে রক্ত পাতলা করার  ঔষুধ সেবন করে থাকেন তারা রক্ত পাতলা করার জন্য তুলসী পাতা সেবনে বিরত থাকবেন । কারন এতে লিভারের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে যায়।

তুলসীর পাতার অসাধারন পুষ্টিগুণ:  যদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকাই পরিমিত পরিমাণ তুলসী পাতার ব্যবহারকরা হয় তবে তা সাধারন খাবার কে অনেক  ভিটামিন ও খনিজ  সরবারহ  করে   থাকে।  পুরো    এশিয়া    মহাদেশ     জুড়ে OCIMUM প্রজাতিসহ বিভিন্ন প্রজাতির তুলসীর জাত পাওয়া যায়।এশিয়ান তুলসী ভূমধ্যসাগরীয় তুলসীর চেয়ে বেশ শক্তিশালী।তাছাড়া এর গন্ধ আমাদের লবঙ্গের কথা মনে করিয়ে দেয়।ইউজেনাল কর্পুর যা সাধারনত আফ্রিকার  নীল তুলসীতে পাওয়া যায়।পাইনিন, শ্যাভিকল,মাইরসিন বেশ কয়েক ধরনের মূল্যবান তেল তৈরী হয়। তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস,পটাসিয়ামের মত খনিজ উপকরন আছে।

ত্বকের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও স্বক্ষমতা: বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক দিন ধরে ত্বকের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে।তুলসী পাতাই ভিটামিন “সি” থাকে আর তা বিশেষ করে মহিলা মানুষের শরীরে বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে।অনেকে াাবারতুলসী পাতাকে যৌবন ধরে রাখার হাতিয়ার মনে করে থাকে।তুলসী পাতা বেটে মুখে লাগিযে রাখলে ত্বক সুন্দর ও মসৃন হয়।আবার যদি কোন মানুষের দেহের কোন অংশ পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস ও নারিকেলের তেল মিশ্রণ করে লাগালে ত্বকের জ্বালা কমে ও দাগ দূর হয়।তুলসী পাতাই থাকা অ্যান্টি-ইন-ফ্লেমেটরি চোখের অঞ্জনি,চুলকানি ইত্যাদি যাবতীয় সমস্যা দূর করে থাকে।পুষ্টি গুণে ভরপুর তুলসীর পাতা চোখের ছানি ও গ্লুকোমা দূর করে থাকে।

তুলসী পাতা আমাদের মস্তিষ্কের স্বাস্হ্য উন্নতি করে: মস্তিক্ষের স্বাস্হ্য উন্নত করতে তুলসী পাতা বড়ই কার্যকারি ভুমিকা পালন করে থাকে।নিয়মিত তুলসী পাতার রস সেবন আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। যা আত্মহত্যার ঝুঁকি কমায়।তুলসী রস মস্তিষ্কের কোষ গুলো রক্ষা পাই।যে সমস্ত মানুষ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে রাসায়নিক উপাদান যুক্ত ঔষুধ সেবন করে অভ্যস্ত তারা তুলসী রস চিকিৎসকের পরামর্শে  গ্রহন করতে পারেন। কারন অতিরিক্ত ঔষুধ সেবন আমাদের কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে।

প্রদাহ বিরোধ হিসেবে তুলসী পাতার ক্ষমতা: প্রাকৃতিক বনৌ-ঔষুধি ভেষজের মধ্যে তুলসীতে শক্তিশলী প্রদাহ বিরোধী গুণাবলি আছে।তুলসী এর এনজাইম গুলোকে ব্লক করার ক্ষমতা রাখে।প্রদাহ জনক অন্তের এবং তুলসীর প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়।এছাড়া জ্বর মাথা-ব্যাথা গলা-ব্যথা ইত্যাতদ উপসর্গ  দেখা দিলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তুলসী দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

ডায়বেটিক রোগীর ক্ষেত্রে তুলসী রস:অনেক গবেষণা করে দেখা  গেছে যে তুলসীর পাতা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য হরমনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বেশ কাজের।আমাদের বর্তমান আধুনিক সমাজে বিশেষ করে উঁচু সমাজের মানুষদের ঘরে ঘরে এই রোগ বিদ্যমান।এর পাতা রক্তে শর্করার পরিমান কমাতে সাহায্য করে।তবে ইতমধ্যে যে সকল রোগীরা তাদের রক্তে চিনির পরিমাণ কমানোর জন্য ঔষুধ সেবন করেন তারা এর পাশাপাশি তুলসী পাতার রস সেবন করবেন না।

তুলসী পাতার তেল ব্যবহার: দেশে বর্তমানে সচেতন মহলের মানুষ ব্যাথা নাশক ঔষুধ হিসেবে তুলসী পাতার রস দিয়ে বিভিন্ন রকমের তেল ব্যবহার করে চলেছে।কারন এর রস চুলের জন্য বেশ উপকারি। বর্তমানে ডাক্তার সমাজ অনেক ক্ষেত্রে ভেষজ উদ্ভিদ সমৃদ্ধ তুলসী পাতার তেল ব্যবহার করার কথা বলে থাকেনে ।এই তেল মাথা ঠান্ডা রাখে, চুল পড়া কমায় অর সব চেয়ে বড় কথা তুলসী পাতার তেল প্রাকৃতিক টনিক হিসেবে কাজ করে।মূলত এর তেল চুলে রক্ত চলাচল বা blood circulation বাড়ায়।

সংত্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে: সংত্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তুলসী পাতা অনেক বেশি কার্যকর।মৌসুমি বাহিত রোগের বিরুদ্ধে সব চেয়ে কার্যকারি যদি কোন ভেষজ উপাদান সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক নির্যাস হয়ে থাকে তা হল তুলসী পাতা।কারন অনেক দেশের স্বাস্হ্য সচেতন মানুষ ঠান্ডার সময় তুলসীও হলুদের মিশ্রণ পান করে থাকেন।এতে করে মানুষের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বরে করতে অনেকাংশে সাহায্য করে।

দাঁতও যকৃতের ক্ষতি সাধন করে:অ মাদের দেশে যারা নিয়মিত তাদের ব্যথা কমানোর জন্য ঔষুধ সেবন করে থাকেন তারা তুলসীর রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।কারন এতে আপনার যকৃতের ক্ষতির হবার সম্ভাবনা বহু গুণ থাকে।কারন উভয় ব্যথা নাশক হিসেবে কাজ করে।তাই এটি যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট করে থাকে।তাছাড়া বৈঞ্জানিক ভাবে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে নিষেধ করা আছে।তুলসী পাতাই লৌহ থাকে যা চিবিয়ে খাবার কারনে দাঁতের দাগ হবার কারন হয়ে দাড়ায়।

রাম তুলসী পাতার কার্যকারিতা: রাম তুলসী গাছের পাতা মানুষের ফুসফুসে রক্ষায় বেশ গুরুত্ব বহন করে।রাম তুলসী পাতা কাঁচা অবস্হায় ব্যবহার করায় উত্তম।বাংলাদেশে ও ভারতে রাম তুলসী পাতা জন্মায়।রাম তুলসীর জন্ম স্হান পূর্ব-এশিয়াতে।আমাদের দেশের সব ধরনের মাটি রাম তুলসী গাছের জন্য উপযোগী।তবে এর গাছের জন্য শীত কালে বীজ সংগ্রহ করতে হয়।রাম তুলসীর চহিদা দেশ ও বিদেশ সব খানে আছে।এটি বাণিজ্যিক ভাবে চাস করে অনেক লাভবান হওয়া যায়।অনেকে আবার তুলসী পাতা দিয়ে পানিগরম করে গোসল করে থাকেন ।

ক্যাস্নার প্রতিরোধে তুলসী রস: ক্যাস্মার প্রতিরোধে তুলসী পাতা  একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে ।এক গবেষনায় দেখা গেছে যে যারা নিয়মিত তুলসীর রস সেবন করেন তাদের ক্যাস্নার হবার ঝুঁকি থাকে না।কারন এর মধ্যে ফাইটোক্যামিকাল আছে যা ক্যাস্নার প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

তুলসির সাধারন ব্যবহার  : তুলসির গাছ বাড়িতে থাকা ভালো।কারন বাড়ির উঠানে তুলসী গাছ থাকলে তা মশা - মাছি তাড়াতে বেশ সহায়ক হয়।আগের সময়ের প্ািয় বাড়িতে তুলসী গাছ লাগানো থাকতো। তুলসী গাছ পরিবেশ দূষন রোধ করতে পারে।তাছাড়া এর মাধ্যমে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়। 

অজানা পুষ্টিগুণ নিয়ে কথা:
*তুলসী পাতার রস কোমড়ের ব্যাথা বা বাত ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে
* তুলসী পাতার রস এনফকশেন জনিত রোগ কমাতে পারে
*এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে
*সারা দিনের স্বু-চিন্তা দূর করতে এক কাপ তুলসী চা সমস্ত ক্লান্তি দূর করে
*বুক জ্বলা-পোড়া দূর করে
*পাকস্হলীর অম্লতা নিয়ন্তণ করে
*কিডনির পাথর দূর করে তুলসী পাতার রস
*ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমাতে কার্যকর হাতিয়ার
*তুলসী পাতার সুগন্ধ মশা প্রতিহত করে
*আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ তুলসী পাতা ব্যবহারকরে সর্দি-কার্শির উপশম হিসেবে

পাশ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে কি না: তুলসী পাতা নানা ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ হলেও এর অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে।যদিও আধুনিক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় তুলসীকে সৌনালি প্রতিকারক বলা হয়।তাছাড়া গর্ভবতি মায়েদের জন্য তুলসী পাতা ক্ষতি কারক হতে পারে।তাই অতিরিক্ত তুলসী পাতা সেবন জীবন নাশের কারন হতে পারে।  মেয়েদের বন্ধত্ব তৈরী করে অতিরিক্ত তুলসী পাতা সেবন।তাই মায়েদের স্তন্যদানের সময় তুলসী পাতা সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ।তুলসী পাতার রস শরীরে ঘামের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এতে অতিরিক্ত তাপ শরীর থেকে বের হয়ে যায়।তুলসী আমাদের দৃষ্টি শক্তি কে স্বাভাবিক রাখে।

আরো পড়ুন;তুলসী পাতা মানব  জীবনে ভারো না খারাপ:তুলসী পাতা অনেক আগে এই উপমহাদেশের মানুষ তাদের নিত্য দিনের কাজে ব্যবহার করে অসছে। এর যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিক ও আছে।তুলসী পাতার রস যেমন প্রাথমিক রোগ চিকিৎসা দেয় তেমনি তা যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে তবে তা বপিদ অনতে পারে।ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া তুলসী পাতা সেবন মলের সাথে রক্ত ও যেতে পারে।আমরা বলতে পারি তুলসী পাতার নানান বনো-ঔষুধি গুণ রয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url